Beta
মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৪

জুলফিকার আলী ভুট্টো ন্যায়বিচার পাননি : পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্ট   

বিলাওয়াল ভুট্টো বুধবার পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। ছবি : ডন
বিলাওয়াল ভুট্টো বুধবার পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। ছবি : ডন

জেনারেল জিয়াউল হকের সামরিক শাসনামলে হত্যা মামলার রায়ে পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) প্রতিষ্ঠাতা জুলফিকার আলী ভুট্টোকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। দেশটির সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় ১৯৭৯ সালে ৪ এপ্রিল। তার ফাঁসি হওয়ার ৪৪ বছর পর বুধবার এক রায়ে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট বলছে, তিনি সুবিচার পাননি।   

জুলফিকার আলী ভুট্টোর বিচার স্বচ্ছ ও যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে হয়নি বলে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট যখন রায় দিল, তখন তার নাতি সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি পিপিপির চেয়ারম্যান।

গত ৮ ফেব্রুয়ারির ভোটের পর দেশটিতে সরকার গঠন করা ৬ দলের জোটে পাকিস্তান মুসলিম লিগ- নওয়াজ (পিএমএল-এন) ও পিপিপিই বড় দল। পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর ছেলে ৩৫ বছর বয়সী বিলাওয়াল নতুন সরকারের কোনও মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে না থাকলেও তার রয়েছে ক্ষমতার বড় দখল।

বিলাওয়াল ভুট্টোর বাবা আসিফ আলী জারদারি প্রেসিডেন্ট থাকাকালে ২০১১ সালের এপ্রিলে আদালতে একটি আবেদন করেন। সেখানে পিপিপির প্রতিষ্ঠাতাকে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের পর্যালোচনাপূর্বক মতামত চাওয়া হয়। তার শুনানি শুরু হয় ২০২৩ সালের ১২ ডিসেম্বরে, সেসময় বিলাওয়াল ছিলেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি কাজী ফয়েজ ইসার নেতৃত্বে ৯ সদস্যের বেঞ্চের আদেশ বুধবার সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। প্রধান বিচারপতি ইসা বলেন, “স্বচ্ছ বিচার ও যথাযথ প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয় শর্ত মানার বিষয়টি আমরা এতে (ওই বিচারে) পাইনি।”

তিনি বলেন, “লাহোর হাইকোর্টের বিচারকার্য এবং পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের আপিল প্রক্রিয়া, সংবিধানের ৪ ও ৯ ধারা এবং পরবর্তী সময়ে সংবিধানের ১০এ ধারার অধীনে পৃথক ও মৌলিক অধিকার হিসাবে নিশ্চিত করা ন্যায়বিচার ও বিধিবিধানের মৌলিক অধিকারের প্রয়োজনীয়তা পূরণ করে না।”   

আসিফ আলী জারদারি জুলফিকার আলী ভুট্টোর মেয়ে বেনজির ভুট্টোর স্বামী। বেনজির ২০০৭ সালে দুর্বৃত্তের গুলিতে প্রাণ হারান।

জুলফিকার আলী ভুট্টো ১৯৭৩ সালে পাকিস্তানের নবম প্রধানন্ত্রী হন। ১৯৭৭ সালের জুলাইয়ে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশটির তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউল হকের বাহিনী।

জিয়াউল হকের সামরিক সরকার বিরোধী নেতাকে হত্যার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগে ভুট্টোকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। ওই বিচারকে প্রহসনের বিচার হিসেবেই দেখে এসেছে ভুট্টো পরিবার।


২০১১ সালের পর ২০২৩ সালে ফের জুলফিকার আলী ভুট্টোর মৃত্যুদণ্ডের রায় পর্যবেক্ষণের আবেদন জানানো হলে এক যুগ পর ফের মামলাটি আলোচনায় আসে। সেই আবেদনের শুনানি শেষে বুধবার সুপ্রিম কোর্ট বেঞ্চ রায় দিয়েছে।

সুপ্রিম কোর্ট স্বীকার করেছে, “আমাদের বিচার বিভাগের ইতিহাসে কোনও কোনও ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, যা জনগণের মধ্যে এমন ধারণা জন্ম দিয়েছে যে, আইন অনুসারে বিচারকাজ পরিচালনায় বাধা সৃষ্টি করেছে ভয়-ভীতি অথবা আনুকূল্য-অনুগ্রহ।”  

বিচারপতি ইসা বলেন, “আমাদের অবশ্যই আমাদের অতীতের ভুল ও ত্রুটিগুলো বিনয়ের সঙ্গে মোকাবিলা করতে আত্ম-দায়বদ্ধতার স্পৃহায় ইচ্ছুক হতে হবে, এবং আমাদের অঙ্গীকারের প্রমাণ হিসাবে নিশ্চিত হতে হবে, ন্যায়বিচার অবশ্যই অটুট সততা ও আইনের প্রতি বিশ্বস্ততার সঙ্গে পরিবেশন করা উচিত,”

“আমরা আমাদের অতীতের ভুলগুলো স্বীকার না করা পর্যন্ত আমরা নিজেদের সংশোধন ও সঠিক পথে অগ্রসর হতে পারি না,” যোগ করেন তিনি।

রায়ের পর বিলাওয়াল ভূট্টো এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে লিখেছেন, “আমাদের পরিবার এই কথাগুলো শোনার জন্য তিন প্রজন্ম ধরে অপেক্ষায় ছিল।

“তার বিচারিক হত্যার চল্লিশ বছর পর, সুপ্রিম কোর্ট অবশেষে স্বীকার করে যে এই জাতির সবচেয়ে বড় আশা, শহীদ জুলফিকার আলী ভুট্টো ন্যায্যবিচার পাননি এবং একজন নিষ্ঠুর ও ষড়যন্ত্রকারী স্বৈরশাসক অন্যায়ভাবে তাকে এই পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিয়েছে।”

জুলফিকার আলী ভুট্টোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও লন্ডনভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইউসুফ নজর বুধবারের রায়ের পর বলেন, এই আদেশ জিয়াউল হকের সামরিক শাসনামলে ন্যায়বিচার নিশ্চিতে চরম ব্যর্থতার স্বীকারোক্তি।”

তথ্যসূত্র : ডন, জিও টিভি অনলাইন

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist