Beta
বৃহস্পতিবার, ৩০ মে, ২০২৪
Beta
বৃহস্পতিবার, ৩০ মে, ২০২৪

ভারতীয় দর্শকরা কেন পাকিস্তানি সিরিয়াল ভক্ত

pakistani serials india
Picture of সকাল সন্ধ্যা ডেস্ক

সকাল সন্ধ্যা ডেস্ক

দীর্ঘদিন ভারতের ছোট পর্দার সম্রাজ্ঞী হয়ে ছিলেন একতা কাপুর। টিভি স্ক্রিনে সফল হওয়ার ফর্মুলা নিয়ে জিতেন্দ্র কন্যা এরই মাঝে বড় পর্দায় পা রেখেছেন। তবে একতা কাপুর যে মন্ত্র শিখিয়ে গেছেন, এত বছর পরেও এর বাইরে যেতে পারেনি ভারতের টিভি ইন্ডাস্ট্রি।    

চ্যানেলগুলো এখনও বউ-শাশুড়ি দ্বন্দ্ব নিয়েই একের পর এক ধারাবাহিক নাটক দেখিয়ে চলেছে। এই চর্বিত চর্বনের মধ্যে অনেক দর্শকের কাছে ব্যতিক্রম হয়ে এসেছে টিভি চ্যানেল জিন্দেগি।

জি এন্টারটেইনমেন্ট এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের এই চ্যানেলে ভারতের অনুষ্ঠান দেখানোর পাশাপাশি পাকিস্তান এবং তুর্কির নাটক দেখারও সুযোগ মিলছে। তাতে এবার তুলনা করে পছন্দের নাটক বেছে নেওয়ার সুযোগ মিলে গেছে দর্শকদের।

টাইমস অব ইন্ডিয়া বলছে, বছরের পর বছর স্ক্রিনে একই ভঙ্গিমার নাটক দেখা ভারতীয় দর্শকরা এখন ঝুঁকে গেছে পাকিস্তানি টিভি সিরিজের প্রতি।          

জিন্দেগি গুলজার হ্যায়, কিতনি গিরহান বাকি হ্যায় এবং আরও সব পাকিস্তানি ধারাবাহিক নাটক কী করে ভারতীয় দর্শকের মনে জায়গা করে নিলো সেই তত্ত্বতালাশ চালিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।

নাটকের শুরু হলে শেষ থাকা চাই

ভারতীয় টিভি চ্যানেলে নাটক একবার শুরু হওয়ার পর ‘গল্পের গরু টিভিগাছে ওঠে’ প্রবাদ সত্য করে তোলে। পর্বের পর পর্ব কয়েক বছর ধরেও টেনে নেওয়া হয়; তাতে দর্শকের আগ্রহ একেবারে মিইয়ে যায়। পাকিস্তানি টিভি ধারাবাহিকে দেখা গেলো, নাটকের শেষ পর্ব পর্যন্ত পৌঁছাতে পারছেন দর্শকরা; এ যেন বিশাল স্বস্তি।

বউ-শাশুড়ির ঝগড়া ছাড়াই নাটক  

ড্রামা সিরিয়াল ‘বালিকা বধূ’, ’উত্তরণ’, ’না আনা ইস দেশ’, ’লাড্ডু’ দিয়ে কালারস টিভি আশা জাগিয়েছিল নতুন ধারার। টিআরপিতেও এগিয়ে ছিল এসব ধারাবাহিক। কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যে হোঁচট খেতে হলো দর্শককে। সব গল্প ঘুরে ফিরে বউ আর শাশুড়িতেই ঘুরপাক খাওয়া শুরু করে দিলো। পাকিস্তানি সিরিজগুলো এখানেই আলাদা ঠেকছে দর্শকের কাছে।

অতিরঞ্জন ছাড়া অভিনয়  
‘ইয়ে নেহি হো সাকতা’, ‘হামে ইয়ে রিশতা মঞ্জুর নেহি হ্যায়’, ‘ইয়ে শাদি নেহি হো সাকতি’, ‘ম্যায় তুহহারি বাচ্চে কি মা বাননেওয়ালি হু’ – এসব সংলাপ যুগ যুগ ধরে চলছে হিন্দি টিভি সিরিয়ালে। এর সঙ্গে আছে স্ক্রিনে টান টান উত্তেজনা দেখাতে অতিরঞ্জিত অভিব্যক্তি দিয়ে অভিনয়। অবাক হওয়ার দৃশ্যকে বাড়াবাড়ি রকমের নাটকীয় করে ছাড়ে ভারতীয় সিরিয়ালগুলো। কারও ঘাড় ঘুরিয়ে দেখার দৃশ্য অন্তত তিনবার দেখানো প্রথা হয়ে গেছে। এসব নিয়ে দর্শকের হাসাহাসি চললেও তাতে কোনো বদল আসেনি। কিন্তু এই পরিবর্তনের ছোঁয়া পাকিস্তানে টিভি সিরিয়ালে খুঁজে পেয়েছে ভারতীয় দর্শকেরা। তাদের কাছে পাকিস্তানি নাটকের পরিবেশনা অনেক সাবলীল ঠেকছে।

পর্বের পর পর্ব জুড়ে বিয়ের দৃশ্য নেই  

একবার কারও বিয়ে হলে সপ্তাহের পর সপ্তাহ চলে যায়, তবু বিয়ে শেষ হয় না ভারতীয় টিভি সিরিয়ালে। মেহেদি পর্ব, সঙ্গীত পর্ব,  এমনকি ফুলশয্যা নিয়েও টানা কয়েক পর্ব গড়িয়ে যায়। এদিকে পাকিস্তানি ধারাবাহিকে বিয়ে হোক বা উৎসব, নাটকে এসব দৃশ্য থাকে বড়জোর ১০ থেকে ১৫ মিনিট।

ঘুমের দৃশ্যে নেই ভারী মেকআপ

ভারী গহনা গায়ে, চোখে কড়া শ্যাডো আর ঠোঁটে টকটকে লিপস্টিক নিয়ে ঘুমের দৃশ্য দেখায় ভারতীয় সিরিয়ালগুলো। ভারতীয় দর্শকরা যেন এর সঙ্গে নিজেদের মেলাতে পারেননি কখনই। তাই হয়তো পাকিস্তানি সিরিয়ালে তাদের ঝোঁক। এসব সিরিয়ালের পাত্রপাত্রীরা রাতের পোশাক পরে, মেকআপের আতিশয্য ছাড়াই ঘুমের দৃশ্যে অভিনয় করে।

বালিকা বধূ দর্শক টানলেও এখন পাকিস্তানি নাটকেই মজেছেন ভারতীয় দর্শকরা

পাকিস্তানি সিরিয়ালের ৩৫০ কোটি ভিউ

ইতিমধ্যে নায়ক ওয়াহাজ আলি ওরফে মুর্তাসিম এবং নায়িকা ইয়ামনা জাইদি ওরফে মিরাবের রসায়নে বুঁদ হয়েছে দর্শকরা। ২০২৩ সালের ‘তেরে বিন’ সিরিয়াল অতীতের সব রেকর্ড ভেঙ্গে দিয়ে ইউটিউবে ৩৫০ কোটি ভিউ ছাড়িয়েছে। এর গল্পের গাঁথুনিও দর্শককে আটকে ফেলেছে স্ক্রিনে।

২০২২ সালের ডিসেম্বরে এই নাটক শুরু হয়। কাহিনীতে অপ্রয়োজনীয় টানাটানি ছাড়াই সাত মাসের মাথায়, ২০২৩ সালের জুলাই মাসে এই নাটকের শেষ পর্ব দেখানো হয়।

ভারতীয় দর্শকের পছন্দের তালিকায় আরও রয়েছে ধারাবাহিক নাটক মুঝে পেয়ার হুয়া থা, বিন রোয়ে, সুনো চান্দা।

আব্দুল্লাহ কাদওয়ানি এবং আসাদ কোরেশি পরিচালিত ‘তেরে বিন’ নাটকের পরের সিজন শিগগিরই আসবে এমনটা শোনা যাচ্ছে।  

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত