Beta
রবিবার, ৩ মার্চ, ২০২৪

পাটুরিয়ায় ফেরিটি কেন ডুবল

কুয়াশার মধ্যে পাটুরিয়া ঘাটের কাছে নোঙর করে রাখা ফেরি রজনীগন্ধা বুধবার সকালে ডুবে গেলে শুরু হয় উদ্ধার অভিযান।

মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ায় ঘাটের কাছে পদ্মা নদীতে নোঙর করে রাখা ফেরিটি কেন ডুবেছিল, তা নিয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

রজনীগন্ধা নামে ফেরিটি ৯টি ছোট-বড় ট্রাক নিয়ে বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ডুবে যায় বলে অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বালুবাহী একটি বাল্কহেডের ধাক্কায় ফেরিটি ডুবে যায় বলে পাটুরিয়া ঘাটের সহকারী ব্যবস্থাপক আব্দুস সালাম দাবি করছেন। তবে ফেরিতে থাকা দুজন স্থানীয় সাংবাদিকদের বলছেন, ধাক্কার কোনও ঘটনা ঘটেনি।

বিআইডব্লিউটিসির পাটুরিয়া ঘাটের সহকারী ব্যবস্থাপক আব্দুস সালাম সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, রাত ১টার দিকে ফেরিটি রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে আসে। ঘন কুয়াশায় পথ দেখতে না পেয়ে ফেরিটি অনেকক্ষণ মাঝ নদীতে আটকে ছিল। কুয়াশা কেটে গেলে তীরে ভেড়ার সময় সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বালুবোঝাই বাল্কহেডের ধাক্কায় ৫ নম্বর ঘাট এলাকার কাছাকাছি ফেরিটি ডুবে যায়।

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীও একই কথা বলেন বলে সংবাদ মাধ্যমে খবর এসেছে।

ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযানে থাকা ফায়ার সার্ভিসের জনসংযোগ কর্মকর্তা ডিএডি শাহজাহান সিকদার সাংবাদিকদের বলেন, ফেরি উল্টে গিয়ে এর বেশ কিছু অংশ দীর্ঘ সময় পানির ওপরে ভাসমান ছিল।

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক আনোয়ার হোসেনকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, “আমরা ৮টার সময় প্রথম সংবাদ পাই। সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে ২৫-৩০ জনের একটা টিম রওনা দেয়। যার মধ্যে ১০ জনের ডুবুরি দল রয়েছে। এসেই দেখি নয়টি ট্রাক নিয়ে ফেরিটি ডুবে যাচ্ছিলো। তখন আমরা স্পিডবোড নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই।”

সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ডুবে যায় ফেরিটি। ছবি : সকাল সন্ধ্যা

এদিকে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ফেরিতে থাকা ট্রাক মালিক কুষ্টিয়ার বাসিন্দা নাজমুল ইসলামকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, নোঙর করা ফেরিটিতে পানি উঠে ধীরে ধীরে এটি ডুবে যায়।

তার ভাষ্য, ভোর ৪টার দিকে ফেরির তলা দিয়ে পানি ওঠা শুরু করে। সকালের দিকে ফেরি ডুবতে শুরু করে।

“কোনও বাল্কহেড ধাক্কা দেয়নি। নিচ দিয়ে পানি উঠে ডুবে গেছে।”

ফরিদপুর অঞ্চলের নৌপুলিশের পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমানকে উদ্ধৃত করে ঢাকা পোস্ট বলছে, তলা ফেটে ফেরিটি ডুবে যায়। ফেরিটি অনেক পুরনো এবং ওভারলোড থাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

তার এই দাবির বিষয়ে বিআইডব্লিওটিসি কিংবা বিআইডব্লিউটিএর কোনও বক্তব্য সকাল সন্ধ্যা তাৎক্ষণিকভাবে জানতে পারেনি।   

তবে পাটুরিয়া ঘাটে কর্মরত বিআইডব্লিউটিসির কর্মচারী খালিদ হোসেন সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “ঘাটে এসে বাল্কে লাগবে কেন? নিচের দিক থেকে পানি উঠে ডুবে গেছে। মাঝরাত থেকে পানি উঠতে উঠতে সকালে ডুবছে। সেটা অনেকেই দেখছে।”

এদিকে বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের ডিজিএম শাহ খালেদ নেওয়াজ স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেছেন, “বাল্কহেডের ধাক্কায় ডুবছে- এতটুকু তথ্যই আমার কাছে আছে। নিচ দিয়ে পানি উঠে ফেরি ডোবার যে দাবি প্রত্যক্ষদর্শীরা করছেন, সেটা খতিয়ে দেখা হবে।”

পাটুরিয়ামুখী ওই ফেরিতে কোনও যাত্রীবাহী যান ছিল না। ট্রাকচালক ও সহকারী এবং ফেরি চালনায় যুক্তরা মিলিয়ে ২০-২২ জনের মতো ফেরিটিতে ছিলেন বলে ধারণা পাওয়া গেছে।

মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক রেহেনা আকতারকে উদ্ধৃত করে প্রথম আলো জানিয়েছে, ফেরিডুবির ঘটনায় ১০ জন উদ্ধার হয়েছেন। এর মধ্যে চারজন সাঁতরে কূলে আসেন; আর ছয়জনকে ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার করেছে।

ফায়ার সার্ভিসের জনসংযোগ কর্মকর্তা শাহজাহান সিকদার জানিয়েছেন, ফেরিটির চালকের সহকারী হুমায়ূন কবির (৩৯) এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

ডুবে যাওয়া ফেরিটি উদ্ধারে বিআইডব্লিউটিএর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘প্রত্যয়’ ও ‘নির্ভীক’ পাটুরিয়া রওনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিসির বাণিজ্য শাখার পরিচালক এস এম আশিকুজ্জামান। তিনি জানান, ফেরিডুবির ঘটনায় মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist