Beta
রবিবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৪

চার বছরের নিষেধাজ্ঞায় ক্যারিয়ারই শেষ পগবার!

চার বছর নিষিদ্ধ হয়েছেন পল পগবা। ছবি: টুইটার
চার বছর নিষিদ্ধ হয়েছেন পল পগবা। ছবি: টুইটার

প্রজন্মের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার বিবেচনা করা হতো তাকে। শারীরিক শক্তি ও বল নিয়ন্ত্রণের দক্ষতা অন্য সব মিডফিল্ডার থেকে তাকে করেছিল আলাদা। আক্রমণে জ্বালানি সরবরাহ কিংবা রক্ষণে প্রতিরোধ গড়তেও পারদর্শী তিনি। অসম্ভব প্রতিভাবান, একইসঙ্গে প্রতিভার নিদারুণ অপচয়- দুটো দিক সঙ্গী করেই ফুটবল ক্যারিয়ার এগিয়েছে পল পগবার। সেই ক্যারিয়ার এখন পুরোপুরি থেমে যাওয়ার পথে! নিষিদ্ধঘোষিত ড্রাগ নেওয়ার দায়ে চার বছর সব ধরনের ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ হয়েছেন ফরাসি তারকা।

বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) ইতালির ন্যাশনাল অ্যান্টি-ডোপিং ট্রাইবুনাল (নাডো) এই শাস্তির ঘোষণা দিয়েছে। ২০২৩ সালের ২০ আগস্ট তার শরীরে নিষিদ্ধ পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া যায়। যেকারণে ওই বছরের সেপ্টেম্বর থেকে সাময়িক নিষিদ্ধ ছিলেন পগবা। পূর্ণ তদন্ত শেষে বড় শাস্তির ঘোষণাই দিযেছে নাডো।

যদিও নিজেকে ‘নির্দোষ’ দাবি করে ক্রীড়ার উচ্চ আদালত কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টে (সিএএস) আপিল করার কথা জানিয়েছেন পগবা। যদি আপিলের রায় তার পক্ষে না আসে তাহলে ২০২৭ সালের আগস্ট পর্যন্ত ফুটবলে নিষিদ্ধ থাকবেন ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী মিডফিল্ডার। ৩০ পেরিয়ে যাওয়া পগবার শাস্তি কাটিয়ে ফেরার সময় বয়স হবে ৩৫। একে বয়সের ভার, এর ওপর দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে কাটিয়ে খেলায় ফেরতে পারবেন কিনা, সেই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। সেইদিক বিবেচনা করে ইউরোপিয়ান বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম পগবার ক্যারিয়ারের ইতি টেনে দিয়েছে।

ফরাসি ফুটবল সাংবাদিক জুলিয়েন লরেন্সও এই মিডফিল্ডারের শেষ দেখে ফেলেছেন। বিবিবি রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, “আমার মনে হয়, চার বছরে শেষই হয়ে যাবে (পগবার ক্যারিয়ার)। তার বয়স এখন ৩১ ছুঁইছুঁই। এর সঙ্গে চার বছর যোগ করুন। তাছাড়া চোটের কারণে ১৮ মাস সে খেলতেই পারেনি। সুতরাং, সে আসলে চার বছর, প্রায় ৬ বছরের জন্য ফুটবলের বাইরে থাকবে।”

সঙ্গে যোগ করেছেন, “আমি নিশ্চিত নই ৩৫ বছর বয়সে সে আবার মাঠে নামার জন্য প্রস্তুত থাকবে কিনা। তাই আমার মনে হয়, নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে এখানেই শেষ হতে যাচ্ছে (ক্যারিয়ার)। তবে (শাস্তি) দুই বছর কমাতে পারলে ৩৩ বছরে ফিরতে পারবে। হয়তো কোনও ক্লাবের চুক্তিও পাবে।”

মাত্র ছয় বছর বয়সে ফ্রান্সের রোইসি-এন-ব্রিয়ের একাডেমি দিয়ে ফুটবলে পা রাখেন পগবা। এরপর আরও দুই ফরাসি ক্লাবের একাডেমি পেরিয়ে ২০০৯ সালে যোগ দেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে। ইংলিশ ক্লাবের একাডেমি থেকে মূল দলেও সুযোগ হয়। তবে এক বছরের বেশি থাকেননি ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে। তার প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে ২০১২ সালে কিনে নেয় জুভেন্টাস। ইতালির এই ক্লাবে গিয়েই খ্যাতির চূড়ায় বসেন পগবা।

জুভেন্টাসে দুই দফায় ছয় মৌসুম কাটিয়েছেন। তবে সাফল্যের বৃষ্টিতে ভেজা তার প্রথম মৌসুমেই। চার বছরের ওই সময়ে প্রত্যেকবার সিরি ‘আ’ জয়ের উল্লাস করেছেন পগবা। কোপা ইতালিয়ায় দুইবার ও ইতালিয়ান সুপার কাপে একবার শিরোপা জিতেছেন তিনি।

ইতালিতে স্মৃতির মণিকোঠায় সাজানো অধ্যায় শেষ করে ফিরে যান ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে। ছয় বছরের ইউনাইটেড ক্যারিয়ারে একটি ইউরোপা লিগের সঙ্গে একবার ইংলিশ লিগ কাপের শিরোপা জিতেছেন পগবা। ২০২২ সালে ফিরে আসেন জুভেন্টাসে। এই ক্লাবে চুক্তিবদ্ধ থাকাকালেই নিষিদ্ধ হলেন তিনি।

বছরে ৬.৯ মিলিয়ন পাউন্ড বেতনে জুভেন্টাসের সঙ্গে নতুন চুক্তি করেন ফরাসি মিডফিল্ডার। ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত চুক্তির মেয়াদ। বলার অপেক্ষা রাখে না চার বছরের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে চুক্তি বাতিল করবে ইতালিয়ান ক্লাবটি। যদিও এখন পর্যন্ত পগবা ইস্যুতে ‘নীরব’ অবস্থানে তারা। এ বিষযে ইতালির ফুটবল লেখক জেমস হর্নক্যাসল বলেছেন, ‘জুভেন্টাস এখনও কোনও বিবৃতি দেয়নি। তাদের ক্রীড়া পরিচালক সবশেষ বলেছেন, চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শেষ হওয়া পর্যন্ত তারা অপেক্ষা করবেন।” নাডো রায় জানিয়ে দিয়েছে। তবে এখনও যেহেতু উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগ আছে পগবার। ওই রায়ের পরই ব্যবস্থা নেবে তুরিনের ক্লাবটি।  

পগবার প্রতিভা নিয়ে কারও সংশয় ছিল না। তবে মাঠ ও মাঠের বাইরে নেতিবাচক ইস্যুতে প্রায় সময়ই শিরোনামে এসেছেন তিনি। মেজাজ হারিয়ে সতীর্থের সঙ্গে বিবাদে জড়ানোর উদাহরণও আছে তার। আলোচিত-সমালোচিত সেই পগবাই এবার নিষ্ঠুর নিয়তির মুখোমুখি!

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist