Beta
সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করলেন পিটার হাস

ব্যবসা এগিয়ে নিয়ে যেতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

পিটার হাস
বুধবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদের সঙ্গে বৈঠক করেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস। ছবি : বাসস

স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ এগিয়ে নিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে ব্যবসার সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয় যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে রোহিঙ্গা ইস্যুও।

বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নবনিযুক্ত মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সঙ্গে দেখা করে এসব বিষয়ে আলোচনা করেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস।

গত ৯ জানুয়ারি ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে বিদেশী কূটনীতিকদের কাছে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। সেই ব্রিফিংয়ে হাজির হয়েছিলেন পিটার হাস।

দুপুরে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের পিটার হাস বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করেছেন তারা। সেই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন, ব্যবসার সম্প্রসারণ ও রোহিঙ্গা সমস্যার মতো বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ‘অবাধ ও সুষ্ঠু’ হয়নি জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া বিবৃতির নয়দিনের মাথায় সেই ভোটে নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার প্রত্যাশার কথা জানালেন দেশটির আলোচিত এই রাষ্ট্রদূত।

তিনি বলেন, “আগামীতে দুই পক্ষের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করতে চাই।”

গত বছরের নভেম্বরে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে একটি চিঠি পাঠানো হয়। সেখানে বলা হয়, শ্রম ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য জরিমানা ও ভিসা বিধিনিষেধের মুখে পড়তে পারে বাংলাদেশ। চিঠিতে বিভিন্ন দেশে শ্রম অধিকার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেনের মন্তব্য তুলে ধরা হয়। এটাও বলা হয় যে, দেশটির পররাষ্ট্র মিশন সরাসরি শ্রম ইস্যুগুলো মোকাবেলা করবে।

এরই মধ্যে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলে, বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ উপায়ে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের বিষয়ে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে যুক্তরাষ্ট্র।

সেসময় থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গণে প্রচারণা চলে যে, বাংলাদেশের অন্যতম বড় এই দাতা ও বাণিজ্য অংশীদারের কাছ থেকে নিষেধাজ্ঞা আসতে যাচ্ছে। নির্বাচন ঘিরে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েনও চলছে। ভোট ‘অবাধ ও সুষ্ঠু’ হয়নি, এই বিবৃতির পর সেই ‘টানাপোড়েন’ আরও স্পষ্ট হলো বলে ধরে নেওয়া হয়। কার্যত এখনও যুক্তরাষ্ট্র ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা বাংলাদেশের এই নির্বাচনকে স্বীকৃতি দেয়নি।

এমন পরিস্থিতিতে বুধবার নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ করেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস।

বাংলাদেশে নির্বাচন ‘অবাধ বা সুষ্ঠু হয়নি’ : যুক্তরাষ্ট্র

সাক্ষাৎ শেষ হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

তিনি জানান, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ‘অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং ফলপ্রসূ’ আলোচনা হয়েছে। স্বাধীন বাংলাদেশের উন্নয়নের পথ চলায় বড় উন্নয়ন সহযোগী এবং অন্যতম বাণিজ্য অংশীদার হওয়ায় রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ জানিয়েছি।

“আমরা উভয়েই দুই দেশের সর্ম্পককে আরও ঘনিষ্ঠ করার ব্যাপারে একমত হয়েছি এবং সেই লক্ষ্যে কাজ করব বলে আলোচনা করেছি। মার্কিন রাষ্ট্রদূতও নতুন সরকারের সঙ্গে সর্ম্পক উন্নয়ন করার জন্য, আরও ঘনিষ্ঠ করার জন্য বিজনেস বাস্কেট আরও বিস্তৃত করতে, যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য একসঙ্গে কাজ করব বলে আলোচনা করেছি।”

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বহুমুখী সম্পর্ক রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “আমরা জঙ্গি দমনের ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করছি, উগ্রপন্থা  মোকবেলা করার ক্ষেত্রেও আমরা দীর্ঘদিন ধরেই একসঙ্গে কাজ করছি। ভবিষ্যতেও এসব কাজ অব্যাহত থাকার ব্যাপারে আমরা আলোচনা করেছি, আশাবাদ ব্যক্ত করেছি।”

দ্বাদশ নির্বাচনের বিষয়েও দুজনের মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

হাছান মাহমুদের অফিসে পিটার হাস

তিনি বলেন, এই ভোটে যুক্তরাষ্ট্রের অনেকেই পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ জানিয়েছি। তাকে বলেছি, বাংলাদেশে একটি ভালো নির্বাচন হয়েছে। প্রায় ৪২ শতাংশ ভোট পড়েছে, যেটি ভালো ভোটের নিদর্শন। নির্বাচনের দিন অনেক কুয়াশা ছিল, সকালে তাপমাত্রাও কম ছিল। সেটি না হলে ভোটের হার হয়ত আরও ১০ শতাংশ বেশি হতো।”

বৈঠকের মূলকথা সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, “আমাদের সর্ম্পককে আরও গভীর করতে, বাণিজ্য আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে, একই সঙ্গে জঙ্গি দমন এবং উগ্রবাদ মোকাবেলা করাসহ অন্যান্য সব ক্ষেত্রে আমাদের সহযোগিতা আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করব বলে অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছি।”

এসময় দুই দেশের বাণিজ্য অংশীদারত্বের পাশাপাশি রোহিঙ্গা ইস্যু, গভীর সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “র‍্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেটি নিয়ে আমরা কাজ করব।”

মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

বাংলাদেশের সঙ্গে ইইউ’র সম্পর্কের ধাপ পরিবর্তন হবে : চার্লস হোয়াইটলি

আগামী পাঁচ বছরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ধাপ পরিবর্তিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি।

বুধবার মন্ত্রণালয়ে নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। এসময় দুজনের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের চার্লস হোয়াইটলি বলেন, “আমার মতে আগামী পাঁচ বছরে আমাদের সম্পর্কের ধাপ পরিবর্তন হতে দেখা যাবে। নতুন অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা চুক্তির আলোকে যা পরিচালিত হবে।”

এসময় ইইউ রাষ্ট্রদূত নতুন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন বলে জানান হাছান মাহমুদ। পাশাপাশি দেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোয় ইউরোপীয় উদ্যোক্তা এবং বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনাও হয়।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “করোনা মহামারি, ইউক্রেন যুদ্ধ ও ফিলিস্তিনের গাজায় নির্বিচারে মানুষ হত্যার কারণে রোহিঙ্গা সমস্যা থেকে বিশ্বের নজর অনেকটা অন্য দিকে সরে গেছে। সে কারণে আমি ইইউ রাষ্ট্রদূতকে বলেছি, বাংলাদেশ একটি ঘনবসতিপূর্ণ দেশ যেখানে জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি। এখানে আরও ১৫ লাখ অতিরিক্ত মানুষ একটি বিশাল চাপ। আর রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক।

“দু’দশক আগেও মিয়ানমারের মন্ত্রিসভায় রোহিঙ্গা মন্ত্রী ছিল। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে পূর্ণ নাগরিক অধিকার ও মর্যাদার সঙ্গে ফিরিয়ে নেওয়াই এ সমস্যার একমাত্র সমাধান।”

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist