Beta
শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

নাশকতা : চার বছরে দণ্ডিত ১২৪১

প্রধানমন্ত্রী
সংসদ অধিবেশনে কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : পিআইডি

বিএনপি-জামায়াতের নাশকতার প্রায় দুই হাজার মামলায় গত চার বছরে এক হাজার ২৪১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বুধবার জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানান, চার বছরে বিএনপি-জামায়াতের নাশকতার এক হাজার ৯৬৭টি মামলার বিচার শেষ হয়েছে। এসব মামলাতেই এক হাজারের বেশি মানুষের কারাদণ্ড হয়েছে।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য শাহাজান খানের প্রশ্নের জবাবে এ পরিসংখ্যান তুলে ধরেন সংসদ নেতা শেখ হাসিনা।

শাজাহান খান তার প্রশ্নে জানতে চান, ২০১২ থেকে ২০১৫ এবং ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের দিন পর্যন্ত তথাকথিত গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামায়াতের নাশকতার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিএনপি ও তার দোসররা নির্বাচন প্রতিহতের নামে অযৌক্তিক ও জনসম্পৃক্ততাহীন আন্দোলনের মাধ্যমে আগুন-সন্ত্রাস, নিরীহ মানুষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের হত্যা এবং জনগণের সম্পদ বিনষ্ট করার অশুভ খেলায় মেতে উঠেছে। এই অশুভ শক্তি শুধু মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সংবিধানকেই অস্বীকার করছে না, আইননের শাসন ও মানবাধিকার সুরক্ষার যে জনবান্ধব ধারার সৃষ্টি হয়েছে, তা বানচাল করে অতীতের ধারাবাহিকতায় একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে চাইছে।”

বাংলাদেশকে তারা আবারও উগ্র জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস-লুটপাটের দিনগুলোয় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চায় বলেও অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

শাজাহান খানের উল্লেখিত সময়ে বিএনপি-জামায়াত সন্ত্রাসীদের হাতে ১৮৮ জন নিহত ও চার হাজার ৯৭৩ জন আহত হয় বলে জানান শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন,“ এসব নাশকতার সঙ্গ জড়িতদের বিরুদ্ধে এ সময়ে আট হাজার ১০৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ৯৬৭টি মামলার বিচার শেষ হয়েছে। এতে এক হাজার ২৪১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত দায়ের করা মামলাগুলোর বিষয়ে তদন্ত চলমান।”

লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবদুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে সরকার প্রধান বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি-জামায়াত ও তাদের দোসররা অগ্নিসংযোগ, হরতাল ও অবরোধের নামে দেশকে অস্থিতিশীল করার মাধ্যমে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে সারা দেশে সহিংস ও অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টির অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়।

“ট্রেনে অগ্নিসংযোগ করে পুড়িয়ে নিরীহ মানুষ হত্যা, ট্রেনের লাইন উপড়ে ফেলা ও ফিসপ্লেটের ক্ষতি, প্রধান বিচারপতির বাসভবন ও রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা ও যানবাহন ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ বিভিন্ন নাশকতামূলক ও অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তারা জনগণের জীবন ও সম্পদের বিপুল ক্ষতিসাধন করে।”

প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে সহিংস কর্মসূচির মাধ্যমে সারাদেশে ৬০০’র বেশি যানবাহন ভাংচুর করা হয়। এর মধ্যে ১৮৪টি যাত্রীবাহী বাস, ৪৮টি ট্রাক, ২৮টি কাভার্ড ভ্যান, তিনটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা, চারটি প্রাইভেট কার, ১১টি পিকআপ, পাঁচটি ট্রেন, ১৫টি মোটরসাইকেল, তিনটি লেগুনা, একটি ওয়ার্ড কাউন্সিলরের অফিস, একটি অটোরিকশা, একটি উচ্চ বিদ্যালয়, ১২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চারটি বসতঘর, একটি বৌদ্ধমন্দির, একটি নৌকাসহ ৩২৮টি যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করা হয়। 

তাদের হরতাল-অবরোধে চালক, হেলপার, পুলিশ, বিজিবি, শ্রমিক, মুক্তিযোদ্ধাসহ অনেক মানুষ নিহত হয়েছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “অনেকে আহত হয়েছে, পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। এসব ঘটনায় ১৩জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ট্রেনের নাশকতায় নিহত হয় নয়জন।”

অগ্নিসংযোগ, নাশকতা, অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড প্রভৃতি অপরাধে জড়িতদের চিহ্নিত করে শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য দেশে দক্ষ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী, বিচার ব্যবস্থা ও প্রচলিত আইন রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “হরতাল ও অবরোধের নামে নাশকতাকারীদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইনে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিভিন্ন আইনি কার্যক্রম চলমান।”

নির্বাচন কমিশন কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে

ভোলা-২ আসনের আলী আজমের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পৃথিবীর অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের মতো বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন একটি কার্যকর নির্বাচন কমিশনে পরিণত হয়েছে। সরকারের পদক্ষেপ এবং উদার ও গণতান্ত্রিক মনোভাব, আইনের শাসনের প্রতি আকুণ্ঠ শ্রদ্ধাশীল থাকার কারণে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক হয়েছে।

“গত ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত বিশ্বের ৪৮টি দেশের রাষ্ট্র/সরকার প্রধান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছে। ২৫টি আন্তর্জাতিক সংস্থা, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমুলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য বাংলাদেশকে অভিবাদন জানিয়েছে।”

গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকবে

সরকারের অগ্রযাত্রায় দেশের মানুষের অকুণ্ঠ সমর্থন ও অবিচল আস্থা রয়েছে উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, “কোনও অপশক্তিই বাংলাদেশের এ গণতান্ত্রিক ধারার উন্নয়ন অভিযাত্রার পথকে রুদ্ধ করতে পারবে না। আপামর জনসাধারণকে সঙ্গে নিয়ে সরকার দেশের সংবিধান, গণতন্ত্র এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মর্যাদাকে সমুন্নত রেখেছি।”

নির্বাচনকে ঘিরে চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র ছিল

সরকারদলীয় সংসদ সদস্য চয়ন ইসলামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এবারের নির্বাচনে অনেক প্রতিবন্ধকতা ছিল, চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র ছিল। আমি বাংলাদেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই, সকল ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে এদেশের ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে গিয়েছেন। তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। নির্বাচনে আমাদেরকে জয়ী করে দেশ সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন।”

এসময় নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা সংস্থা, সশস্ত্র বাহিনী, জনপ্রশাসন ও বাংলাদেশের মানুষকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

আমরা এখন অতটা খারাপ নেই

বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মুজিবুল হক চুন্নুর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নভেল করোনাভাইরাস পরবর্তী রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে নিষেধাজ্ঞা-পাল্টা নিষেধাজ্ঞায় পড়ে গেলাম, যার ফলে আমাদের কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। যার ফলে আমাদের কিছু খরচের ব্যাপারে মিতব্যয়ী হতে হয়েছে, কিছু ব্যয় সংকুচিত করতে হয়েছে। সেক্ষেত্রে আমরা এখন অতটা খারাপ নেই।

“ডলারের সংকট যথেষ্ট ছিল, এখন ঠিক সেরকম সংকট নেই। আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে আমরা মনিটরিং বাড়িয়েছি।”

রপ্তানি আয় খুব একটা কমেনি বলেও মন্তব্য করেন সরকার প্রধান। তিনি বলেন, “যেসব দেশে আমরা রপ্তানি করি, এমনকি যেগুলো খুব ধনী দেশ তাদেরও ক্রয় ক্ষমতা কমেছে, বাজার সংকুচিত হয়েছে, সেখানে অর্ডার কমেছে। অর্থনৈতিকভাবে তারা খুব চাপে আছে, তাদের মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়েছে। তারই ফলাফলে হয়ত কিছুটা কমেছে।”

রপ্তানি আয় বড়াতে সরকার বিকল্প ব্যবস্থা নিচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিকল্প বাজার খোঁজা হচ্ছে, রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরণে ব্যবস্থা নিয়েছি।”

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও এসময় জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কৃষক যথাযথ উৎপাদিত পণ্যের মূল্য না পেলে সমস্যা হবে। মূল্য বৃদ্ধি পেলে নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ কষ্ট পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist