Beta
রবিবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৪

দেশে-বিদেশে নালিশ করে ফায়দা হবে না : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

দ্বাদশ সংসদ নির্বানের মতো সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন দেশে আর হয়নি মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশে-বিদেশে নালিশ করে কোনও ফায়দা হবে না। বিদেশি কী বলল, সেটা দিয়েও চলবে না। সব দেশের নির্বাচন আমাদের দেখা আছে। 

মঙ্গলবার দ্বাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপনী ও রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

নির্বাচন পূর্ববর্তী ঘটনার সময় বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির তরফ থেকে দেশে বিদেশে বার বার লেখা হচ্ছে তাদের এত লোক অ্যারেস্ট। সব দেশে বিদেশে নালিশ করছে। বিএনপির সব নাকি রাজবন্দী। যারা এভাবে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ মারে তারা কী রাজবন্দী হয়? তারা তো সন্ত্রাসী, তারা জঙ্গীবাদী এবং তারা অপরাধী।

এসময় মানুষ খুন আর অগ্নি সন্ত্রাসের ঘটনায় কোনও ছাড় নয় বলেও হুঁশিয়ার উচ্চারণ করেন প্রধানমন্ত্রী । তিনি বলেন, বিএনপি-জামাত  দিনের পর দিন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছে। অগ্নি সন্ত্রাস করছে, পুড়িয়ে মানুষ মরছে। এ ধরনের অপরাধ যারা করে তাদের ক্ষমা করা যায় না। তাদের শাস্তি পেতেই হবে। হুকুমদাতা, অর্থপ্রদানকারী আর সরাসরি জড়িত কেউ রেহাই পাবে না।

দলের এমপিদের উদ্দশ্যে করে সংসদ নেতা বলেন, নিজ নিজ এলাকায় যারা এ ধরনের অপরাধ করেছে। যেসব মামলা চলছে। সেই মামলাগুলি যেন যথাযথভাবে চলে। স্বাক্ষী-সবুদ যেন হয়। শাস্তি যেন তারা পায়। 

তারেক রহমানের প্রতি ইঙ্গিত করে শেখ হাসিনা বলেন, এদের চরিত্র মানুষ খুন করা। তার দুর্নীতি করা। লন্ডন থেকে হুকুম আছে। তারা এখানে আগুন দেয়। মানুষ খুন করে। আবার তার ছবিও পাঠাতে হয়। কী চমৎকার কথা! ভিডিও কনফারেন্সে হুকুম আসে। তারা তামিল করে। আগুন দিয়ে মানুষ মেরে, পুলিশ মেরে সেই ছবি পাঠায়। তাহলে আর তো স্বাক্ষীসবুদ কী দরকার। তারা নিজেরাই আলমত রেখে দিচ্ছে। তাদেরকে গ্রেফতার করলে সেটা রাজবন্দী হয় কী করে? একজন হাজার মাইল দূরে বসে হুকুম দেয়। আর তামিল যারা করে তাদের যে বিপদে ফেলে এটা কী বিএনপির নেতাকর্মীরা বুঝে না? তাদের কী আক্কেল ঠেকানো টা নেই। আরেকজন বলছে ছবি গোপনে দাও। ছবি না দিলে নাকি তাদের ক্রেডিট থাকে না নেতার কাছে। এ কেমন নেতা! দূরে নিজে নিরাপদে থেকে হুকুম চালায়। আর এরা জানিনা কী ধরনের কর্মী। এই মানুষ খুন করে। মানুষ খুন করলে এদের কেউ ছাড়বে না। সাধরণ মানুষকে বলব এই সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধ করতে হবে। 

গাজায় ইসরাইল হামলার মতো বাংলাদেশেও বিএনপি হাসপাতাল, পুলিশ, ও সাধারণ মানুষের উপর হামলা করেছে বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে গাজায় যে ঘটনা ঘটাচ্ছে। আজকে বিএনপির যে চরিত্র যেভাবে তারা আক্রমন। পুলিশকে আক্রমন। হাসপাতালে আক্রমন। ঠিক গাজায় প্যালেস্টাইনের ওপর। হাসপাতালে বোম্বিং হচ্ছে। নারী শিশুসহ তাদের মারা হচ্ছে। ওই একই চরিত্র। বিএনপি বাংলাদেশের জন্য আজরাইল হয়ে এসেছে। ওইদিকে ইসরাইল করছে, এরা এখন বাংলাদেশের জন্য আজরাইল হয়ে এসেছে। তারা নির্বাচন করবে না, কারণ তারা জানে ভোট পাবে না, সমর্থন পাবে না। জনগণের উপর আস্থা নেই।

প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, সুষ্ঠুভাবে সংসদ চলবে। গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকবে। অপ্রতিরোধ্য গতিতে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। দেশে-বিদেশে নালিশ করে কোনও ফায়দা হবে না। বিদেশি কী বলল সেটা দিয়েও চলবে না। সব দেশের নির্বাচন আমাদের দেখা আছে। এইবারের মতো সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন দেশে আর হয়নি।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনে একটি রাজনীতি দলসহ তাদের জোট অংশগ্রহণ করেনি। তবে ২৮টি দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। স্বতস্ফূর্তভাবে এদেশের মানুষ প্রার্থী হয়। আমরা নমিশননেশন দেওয়া স্বত্ত্বেও প্রার্থিতা উন্মুক্ত করে দিয়েছিলাম। নির্বাচনে এক হাজার ৯৭০ জন প্রার্থী ছিল। স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিল ৪৩৬ জন। এই নির্বাচন অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানুষ স্বতস্ফূর্তভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। নির্বাচনে নারী ও তরুণ ভোটারদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।

তিনি বলেন, আমরা গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখা ও দেশের মানুষের আর্থ সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে রাজ করে যাচ্ছি। এদেশের মানুষ সুফল পেয়েছে বলেই আমাদের ওপর বারবার আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছে। আমাদের বারবার নির্বাচিত করে তাদের সেবা করার সুযোগ দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় কেউ বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না।

গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের উন্নয়ন হয়। এটাতো বাস্তব সত্য। তা প্রমাণ করেছি। ১৫ বছরে এটা প্রমাণ হয়েছে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ধারা আছে বলেই দেশটা এগিয়ে যাচ্ছে। আজকে আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। আমাদের লক্ষ্য দেশকে উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলবো। এ লক্ষ্য নিয়ে আওয়ামী লীগ কাজ করছে।

সংসদে কাজে সহযোগিতা করার জন্য সরকারি দল, বিরোধী দলীয় ও স্বতন্ত্র এমপিদের ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। টেবিল চাপড়িয়ে এমপিরা প্রধানমন্ত্রীকে অভিবাধন জানান। স্বতন্ত্র এমপিদের টেবিল চাপড়ানোর শব্দ বেশি জোরে হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী হেসে বলেন, মনে হচ্ছে স্বতন্ত্রদের চোটপাট বেশি।

শেখ হাসিনা বলেন, রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ, স্যাংশন, কাউন্টার স্যাংশন ও কোভিড অতিমারীর পরে এই মুল্যস্ফীতি ব্যাপকভাবে দেখা দিয়েছে। কেবল বাংলাদেশ নয় বিশ্বের উন্নত দেশেও এই মুল্যস্ফীতি দেখা দিয়েছে। সে ক্ষেত্রে আমাদের দেশে যাতে নিয়ন্ত্রণ করা যায় সেজন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছি। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য যাতে সহনশীল থাকে। এখানে একটু অদ্ভুত ব্যাপার। দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়। মজুদ করা হয়। সেগুলি লক্ষ্য রেখেই মুল্য নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

তিনি বলেন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও খাদ্যপণ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিচ্ছি। ৮টি বিভাগে ৮টি সংরক্ষণাগার আমরা করার ব্যবস্থা নিচ্ছি। কৃষক যাতে পণ্যে ন্যায্যমূল্য পায় সেটা দেখা হবে। কৃষিতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখব।

মন্ত্রীদের দেওয়া নির্দেশনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে উপকারীতার ক্ষেত্রে দেশের জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। বিদেশি ঋণ ও সহায়তা গ্রহণের ক্ষেত্রে যথাযথভাবে সম্ভাব্যতা যাচাই করতে হবে। কেউ আমাদের এখানে এসে বলল আমরা সেখানে ঝাঁপিয়ে পড়ব না। আমরা বিবেচনা করে নেব। সরকারি কেনাকাটায় স্বচ্ছতা ও জবাবহিদিতা নিশ্চিত করতে হবে।  

তিনি বলেন, সামাজিক নিরাপত্তার উপকারভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে সত্যিকার যারা প্রাপ্য তাদের খুজে বের করা হবে।

সরকারের কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে সরকার প্রধান বলেন, আমরা রপ্তানিহুমুখীকরণ করব। আমরা প্রতিটি অ্যাম্বাসিকে নির্দেশ দিয়েছি। এখনকার ডিপলোমেসি হবে ইকোনমিক্যাল ডিপলোমেসি। শুধুমাত্র পরিটিক্যাল নয়। কোন দেশে আমরা কী রপ্তানি করতে পারি, নতুন নতুন পন্য উৎপাদন ও নতুন নতুন বাজার খুঁজে বের করা আমাদের লক্ষ্য। কৃষিজাত পণ্যের শিল্প বিকশিত হওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ দৃষ্টি দেব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অগ্নিসন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। একটি মানুষ মারা যাওয়ার পর কী ঘটনা হয় সেটা তিন/চারদিন আগে আমরা দেখেছি। এটা একটা দুর্ঘটনা ঘটে গেছে। কিন্তু আমাদের দেশে যখন দেখি রাজনীতির নামে। নির্বাচন ঠেকানোর নামে। অগ্নি সন্ত্রাস ঘটানো হয়। মানুষ পুড়িয়ে মারা হয়। জাতয় সম্পদ নষ্ট করা হয়। এতটুকু মনুষত্ব ও দেশপ্রেম থাকলে কেউ এটা করতে পারে?

৭৫ পরবর্তী নির্বাচনগুলোর ঘটনা তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, কেন নির্বাচেন বাঁধা দেওয়া? ৭৫ এর পর প্রতিটি নির্বাচন তো আমরা দেখেছি। সেই হ্যাঁ না ভোট। নির্বাচন কমিশনে তালা দিয়ে ভোটের রেজাল্টই নেই। তিন/চারদিন পর রেজাল্ট। আমাদের বিরোধী দলীয় নেতা দেথালেন- তিনি কিন্তু ২য়, ৩য়, ও ৪র্থ নির্বােচেনর রেজাল্ট দেখাননি। ২য় নির্বাচন কীভাবে করেছিল। ৩য় নির্বাচনে বিরোধী দলীয় নেতার ভাই (এরশাদ) তখন আরেক মিলিটারি ডিকটেটর ক্ষমতায়। এক মিলিটারি ডিকটেটর ভোট চুরির রাস্তা দেখিয়ে গেলে। ক্ষমতার দখলটা দেখিয়ে গেল। তারই পদাঙ্ক অনুসরণ করে আরেকজন..। দুজনেরই একই খেলা। সেনাপ্রধান হলেন। একদিন ক্ষমতা দখল করে রাষ্ট্র প্রধান হয়ে গেলেন। একইসঙ্গে দুই রূপ। রাষ্ট্রপতির পদ নিয়ে ভোট চুরি। খুশি হতাম বিরোধী দলীয় নেতা যদি তার ভাইয়ের ১৯৮৮ এর নির্বাচনটা দেখাতেন। সেই নির্বাচনটা ছিল শুভঙ্করের ফাঁকি। এরশাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করল খালেদা জিয়া ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে। অবশ্য তিনি দেখিয়েছেন ২১ শতাংশ ভোট। ২১ শতাংশ কীভাবে হল। সেদিন তো কোনও ভোটারারা ভোট কেন্দ্রে যেতে পারেনি। হুন্ডা-গুণ্ডা দিয়ে নির্বাচন ঠান্ডা। এরশাদের নির্বাচন টেকেনি। খালেদা জিয়ার নির্বাচনও টেকেনি। জনগণের রুদ্ধরোষে ভোট চুরির অপরাধে বিদায় নিতে হয়েছিল।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist