Beta
রবিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৪

বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে ভর্তুকি কমাতে চান প্রতিমন্ত্রী

নসরুল হামিদ।
নসরুল হামিদ।

গ্রীষ্ম শুরুর আগেই দাম বাড়ছে বিদ্যুতের। গ্রাহক পর্যায়ে দাম ৩৪ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৭০ পয়সা বাড়বে।

তবে একে দাম বাড়ানো বলতে নারাজ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। তিনি বলছেন, ভর্তুকির ওপর চাপ কমাতে মূল্য সমন্বয় করা হচ্ছে।

সরকার গত বছরের শুরুতে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছিল। এক বছরের মধ্যে নতুন সরকার গঠনের পর আবার দাম বাড়ানো হচ্ছে।

রিজার্ভ সংকটে সরকার ঋণ পেতে আইএমএফের শরণাপন্ন হওয়ার পর সরকারকে ভর্তুকি কমানোর শর্ত দেওয়া হয়েছিল বলে সংবাদমাধ্যমে খবর আসে।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর কথায় ভর্তুকি কমানোর বিষয়টি আসে।

তিনি বলেন, “বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হচ্ছে না, সমন্বয় করা হচ্ছে। উৎপাদন খরচের তুলনায় কম দামে বিক্রি করায় লোকসান হচ্ছে, সে কারণে কিছুটা সমন্বয় করা হচ্ছে।

“এখন বিদ্যুতের গড় উৎপাদন খরচ পড়ছে ১২ টাকার মতো, আর ৭ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। আমরা তো খরচ উঠাতে চাচ্ছি। চলতি বছর বিদ্যুতে ৪৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে। ধীরে ধীরে কয়েক বছর ধরে বিদ্যুতের দাম সমন্বয় করা হবে।”

ইউক্রেন যুদ্ধের পর ডলারের দামে অস্থিরতার কারণে তার প্রভাব পড়ছে বিদ্যুতেও।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয়েছে ডলারের দর বেড়ে যাওয়ায়। তেল-গ্যাস ও কয়লার আন্তর্জাতিক বাজারদর ক্ষেত্র বিশেষে একই থাকলেও আগের চেয়ে ডলার প্রতি ৪০ টাকার বেশি খরচ হচ্ছে। এখানেই বিশাল গ্যাপ তৈরি হয়েছে। ডলারের সঙ্গে সমন্বয় করার জন্য কাজ করছি।

“জ্বালানি তেলের দাম আধুনিক প্রাইসিংয়ে যাচ্ছি। ইনডেক্স ও ফর্মুলা করা হয়েছে প্রতিমাসে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় হবে, প্রতিবেশী দেশ প্রতিদিন সমন্বয় করে। সেখানে অতিরিক্ত বেড়ে গেলে সরকার অন্যভাবে সহায়তা করে।”

দেশে সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কিনে নেয় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড-পিডিবি। তারপর তারা পাইকারি দামে বিভিন্ন বিতরণ সংস্থার কাছে বিক্রি করে থাকে।

শীতে চাহিদা কম থাকার মধ্যে বৃহস্পতিবার দেশে বিদ্যুতের উৎপাদন ছিল ১২ হাজার ৯৯৩ মেগাওয়াট। এই উৎপাদন চাহিদার চেয়ে বেশি ছিল। এদিন চাহিদা ছিল ১১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট।

দাম বাড়ানোর পরও গত অর্থ বছরে বিদ্যুৎ বিক্রি করে পিডিবির ৪৩ হাজার কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। সেজন্য সরকারকে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে।

সরকার ভর্তুকি কমাতে দাম বাড়ানোর দিকে গেলেও ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবের দাবি, বিদ্যুৎ খাতে অপচয় ও দুর্নীতি কমানো গেলে দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হয় না।

এবার বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহকদের ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৩৪ পয়সা থেকে ৭০ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

নতুন দর ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই কার্যকর হবে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, এর প্রজ্ঞাপন বৃহস্পতিবারই জারি হবে।

বিদ্যুতের বাড়তি দর কম ব্যবহারকারীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে না বলে মনে করেন তিনি।

নসরুল বলেন, “খুবই সামান্য পরিমাণে দাম বাড়বে। কম ব্যবহারকারী গ্রাহকের বিদ্যুতের দাম কম বাড়বে, আর উপরের দিকে বেশি বাড়বে।
“লাইফ লাইন গ্রাহকের (৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারী) মাসের বিল ২০ টাকার মতো বাড়তে পারে।”

বিদ্যুৎ ব্যবহারে গ্রাহকরা মিতব্যয়ী হলে বিলও কম আসবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

“গ্রাহকরা যদি একটু সাশ্রয়ী হন, তাহলে বিল আগের অবস্থায় থাকবে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে গ্রাহকদের মিতব্যয়ী হতে উদ্বুদ্ধ করা।”

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist