Beta
বৃহস্পতিবার, ৩০ মে, ২০২৪
Beta
বৃহস্পতিবার, ৩০ মে, ২০২৪

সৌদি আরবের আরও বিনিয়োগ চান প্রধানমন্ত্রী

ss-pm and saudi 23-01-24
Picture of সকাল সন্ধ্যা ডেস্ক

সকাল সন্ধ্যা ডেস্ক

দেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতিতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো এগিয়ে নিতে সৌদি আরবের আরও বিনিয়োগ প্রত্যাশা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গণভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ইসা ইউসুফ ইসা আলদুহাইলান সৌজন্য সাক্ষাত করতে এলে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার মো. নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের একথা জানান।

সৌদি আরব এবং দেশটির জনগণ বাংলাদেশের হৃদয়ের খুব কাছের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সৌদি আরব সব সময় বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে।”

সৌদি রাষ্ট্রদূতও বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে সহযোগিতার অঙ্গীকার করেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “বাংলাদেশের সরকার ও জনগণ সৌদি আরব এবং দেশটির জনগণের মঙ্গল কামনা করেন, কারণ তারা মক্কা ও মদীনার দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম।”

এসময় প্রধানমন্ত্রীর কাছে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান আল সৌদের একটি অভিনন্দন বার্তাও হস্তান্তর করেন রাষ্ট্রদূত। লিখিত বার্তায় যুবরাজ বাংলাদেশের উত্তরোত্তর উন্নতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

সৌদি রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের আটটি বিভাগে আটটি মসজিদ ও ইসলামী ভাষা ইন্সস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার জন্য তার দেশের ইচ্ছার কথা জানান। প্রধানমন্ত্রী ঢাকায় একটি ইন্সস্টিটিউট স্থাপনের জন্য উপযুক্ত স্থান খুঁজে বের করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে বলেন।

সৌদি রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, আগামী দিনে হজ ও ওমরাহ হজের প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে তারা ব্যবস্থা নিচ্ছেন। সৌদি আরব ও বাংলাদেশ ক্রীড়া ও সংস্কৃতিতে সহযোগিতা বাড়াতে পারে। এছাড়া তিনি অন্যান্য পেশাদারদের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসাকর্মী নেওয়ার ব্যাপারে তার দেশের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতে ফ্রান্সের সহযোগিতা প্রত্যাশা

টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ফ্রান্সসহ উন্নয়ন অংশীদারদের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের উন্নয়নকে টেকসই করতে ফ্রান্সসহ উন্নয়ন সহযোগীদের সহযোগিতা প্রয়োজন কারণ আমাদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে।”

বাংলাদেশে ফরাসি রাষ্ট্রদূত মারি মাসদুপুই গণভবনে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার মো.নজরুল ইসলাম।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “একসময় বাংলাদেশ দারিদ্র্য, বন্যা ও খরার দেশ হিসেবে পরিচিত ছিল, যা এখন ব্যাপক উন্নয়নের মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে রূপান্তরিত হয়েছে। তৃণমূলে ব্যাপক উন্নয়নের মাধ্যমে আজকের বাংলাদেশ সম্পূর্ণ ভিন্ন।”

তিনি বলেন, “দেশের প্রতিটি গ্রাম বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত এবং যোগাযোগ নেটওয়ার্ক স্থাপন করা হয়েছে। গ্রামীণ জনপদ অনেক পরিবর্তিত হয়েছে এবং দারিদ্র্য উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। সরকার গ্রামাঞ্চলে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে যা এরই মধ্যে শহর এলাকায় শুরু হয়েছে।”

রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের জন্য ফ্রান্সসহ পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি তাদের চাপ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশে আটকে পড়া পাকিস্তানিদের সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পাকিস্তান তাদের আর ফিরিয়ে নেবে বলে মনে হয় না। আমরা তাদের স্থায়ী পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা করছি।”

তিনি ফরাসি গ্যাস কোম্পানিকে বাংলাদেশের গ্যাস খাতে এবং গ্যাস অনুসন্ধানে বিনিয়োগের জন্য অনুরোধ জানান। এসময় এয়ারবাস ক্রয় ও বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ উৎক্ষেপণসহ কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক বিষয়েও আলোচনা হয়।

ফরাসি রাষ্ট্রদূত এসময় প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁর একটি অভিনন্দন বার্তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন।

জলবায়ু সমস্যা সম্পর্কে রাষ্ট্রদূত জানান, তার দেশ বাংলাদেশকে ‘লস এন্ড ড্যামেজ ফান্ড’ পেতে সহায়তা করবে এবং তারা বাংলাদেশকে এই তহবিল ব্যবহারে অগ্রণী হিসাবে দেখতে চায়।

‘জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশ একটি উদাহরণ’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ফ্রান্স বাংলাদেশকে সবুজ জ্বালানী উত্তরণে সহায়তা করতে চায়।” বাসস।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত