Beta
শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

সংরক্ষিত আসন পেতে যে পথে এগোচ্ছে পিটিআই

পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে পিটিআই সমর্থিতরা। ছবি : ডন

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল এবারের নির্বাচনে দলীয়ভাবে অংশ নিতে পারেনি। প্রতীক না পাওয়ায় তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতাদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে লড়তে হয়েছে।

ভোটের আগে-পরে নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এবার পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে সর্বোচ্চ আসনে জয় পেয়েছে। তা সত্ত্বেও পিটিআই সরকার গঠন করতে পারছে না। তাদের পথের কাঁটা হয়ে দেখা দিয়েছে সংরক্ষিত আসন। জাতীয় পরিষদে নারী ও সংখ্যালঘুদের জন্য সংরক্ষিত ৭০টি আসনে কেবল দলীয় প্রার্থীরাই মনোনয়ন পান, স্বতন্ত্ররা নন।

পিটিআই নেতারা এই বাস্তবতা জানেন। সরকার গঠনের ক্ষেত্রে বাধা উপলব্ধি করতে পেরে তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, পিটিআই অন্য কোনও দলের সঙ্গে জোট করবে বা যোগ দেবে। 

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনকে রবিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গহর আলি খান। একই সঙ্গে নওয়াজ শরিফের পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) বা বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) সঙ্গে পিটিআইয়ের জোট করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।

পিএমএল-এন বা পিপিপির সঙ্গে জোট না করার বিষয়ে গহর আলি খান বলেছেন, “আমরা এই দুই দলের কারও সঙ্গে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি না। তাদের একজনের সঙ্গে বা উভয়ের সঙ্গে মিলে সরকার গঠনের কোনও আলোচনা হয়নি, হবেও না। তাদের সঙ্গে জোট করে সরকার গঠন করার চেয়ে বিরোধী দলে থাকাই উত্তম। তবে আমরা মনে করি, আমাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে।”                    

পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান গহর আলি খান।

ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিটিআই দুটি দলের সঙ্গে জোট করতে পারে। একটি জামাত-ই-ইসলামি (জেআই)। অন্যটি মজলিস ওয়াহদাত-ই মুসলিমিন (এমডব্লিউএম)।

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রাদেশিক পরিষদে জামাত-ই-ইসলামির তিন জন সদস্য আছেন। এছাড়া এই দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতাও পিটিআইয়ের আছে।

২০১৩ সালে পিটিআই ও জেআই একজোট হয়ে খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশ শাসন করেছিল। ২০১৮ সালে ওই প্রাদেশিক সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে তাদের জোট আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙ্গে যায়।    

একইভাবে মজলিস ওয়াহদাত-ই মুসলিমিনও (এমডব্লিউএম) একসময় পিটিআইয়ের জোটে ছিল।    

পিটিআইয়ের সমর্থন নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী ওয়াসিম কাদির রবিবার নওয়াজ শরিফের দলে যোগ দিয়েছেন। এ নিয়ে জিও নিউজের সঙ্গে কথা বলেন গহর আলি খান।

তিনি জানান, অতীতে পিটিআইয়ের যেসব নেতা দল ত্যাগ করে অন্য দলের প্রতি আনুগত্য দেখিয়েছেন, ৮ ফেব্রুয়ারি জনগণ তাদের ভোট দেয়নি। আর পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্র সদস্য ওয়াসিম কাদিরের পিএমএল-এনে যোগ দেওয়া নিয়ে পিটিআইয়ের মধ্যে আলোচনা হচ্ছে।

পিটিআই নেতা গহর আলি খান জোর দিয়ে বলেন, “ওয়াসিম কাদির ছাড়া বাকি স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ আছে। তারা পিটিআইয়ের সঙ্গেই থাকবেন।”

তিনি আরও বলেন, “পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান আমাদের কেন্দ্র, খাইবার পাখতুনখাওয়া ও পাঞ্জাবে সরকার গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা জাতীয় পরিষদের বাইরে থাকব না। পরিষদেই থাকব এবং সেখানে থেকে সব সমস্যার সুরাহা করার চেষ্টা করব।”

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist