Beta
রবিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৪

আরও শক্তিমান পুতিন বিশ্বকে নেবেন কোন পথে

putin-180324-01

যুদ্ধের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনে নিজের শাসনকালকে আরও ছয় বছর বাড়িয়ে নিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এ এমন এক যুদ্ধ, যা বিশ্বের অর্থনীতিকে নাড়িয়ে দিয়ে সব দেশের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তাই প্রশ্নবিদ্ধ ভোটে হলেও পুতিনের ভূমিধস জয় রাশিয়ায় তার কর্তৃত্বের বাঁধন আরও মজবুত হবে বলে তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে পশ্চিমা দেশগুলোর। তবে এখানে চীনের কথা এলে বিষয়টি ভিন্ন হয়ে দাঁড়ায়।

যেখানে জার্মানির চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস ভোটে জয়ের জন্য পুতিনকে অভিনন্দন না জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেখানে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়ে দৃশ্যত উল্লাস করছেন। সেই বার্তায় শি বলেছেন, পুতিনের নতুন মেয়াদে রাশিয়া তার অভীষ্ঠ লক্ষ্য অর্জনে আরও সফলতার সঙ্গে এগিয়ে যাবে বলেই তিনি আশা করছেন।

রাশিয়ায় বিরোধী দলহীন নির্বাচনে পুতিনের জয় অনুমিতই ছিল। কেন অনুমিত ছিল, তা প্রকাশ পায় ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট শার্ল মিশেলের এক টুইটে, যেখানে তিনি বলেছেন, এ এমন এক নির্বাচন, যেখানে কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না, কোনও স্বাধীনতা ছিল না, ছিল না পছন্দের সুযোগ।

রাশিয়াির নির্বাচন কমিশন জানাচ্ছে, পুতিন মোট ভোটের ৮৭ শতাংশ পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নিকোলাই খারিতনভ পেয়েছেন মাত্র ৪ শতাংশ ভোট।

ইউক্রেনে যুদ্ধের ময়দানে যখন রাশিয়ার অগ্রগতি অব্যাহত, তখনই ফের প্রেসিডেন্ট হয়ে সাবেক সোভিয়েত নেতা জোসেফ স্তালিনের রেকর্ড ভাঙার দিকে এগোচ্ছেন পুতিন।

দুই বছরেরও বেশি সময় আগে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা শুরুর কয়েক সপ্তাহ আগেই শি চীনের সঙ্গে রাশিয়ার সীমাহীন অংশীদারত্বের ঘোষণা দিয়েছিলেন। যুদ্ধ শুরুর পরও শি সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে চলছেন। চীন ও রাশিয়ার বাণিজ্য, নিরাপত্তা এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের মাত্রা এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

অবশ্য এর জন্য চীনকেও কিছু মূল্য দিতে হয়েছে। ইউক্রেনে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা রাশিয়ার ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। অন্যদিকে, চীন নিরপেক্ষতার দাবি করলেও ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার নিন্দা না জানানোয় যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের মনে চীনের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। এমনকি তাইওয়ান নিয়ে চীনের পরিকল্পনার বিষয়েও তারা সজাগ হয়ে ওঠে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর এক বার্ষিক প্রতিবেদনে চীনের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। রাশিয়ার সঙ্গে চীনের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতার প্রতি ইঙ্গিত করে ন্যাটো প্রধান জেনস স্টলটেনবার্গ বলেন, “বেইজিং আমাদের মতো একই মূল্যবোধ লালন করে না এবং আমাদের স্বার্থকে চ্যালেঞ্জ করে।”

কিন্তু চীনের অবস্থান দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংকে আরও গভীর লক্ষ্যে মনোনিবেশ করার সুযোগ করে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মুখে এবং বিদ্যমান বিশ্ব ব্যবস্থাকে নতুন করে সাজানোর ক্ষেত্রে তিনি পুতিনকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখেন।

শি মনে করেন, বিদ্যমান বিশ্ব ব্যবস্থায় ওয়াশিংটন ও তার মিত্রদের নির্ধারিত নিয়ম ও মূল্যবোধের যে আধিপত্য রয়েছে, তা অন্যায্য।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে পুতিন।

রাশিয়ার সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক চীনকে তাইওয়ান ও দক্ষিণ চীন সাগরের ওপরও মনোযোগ বাড়ানোর সুযোগ করে দেয়।

লন্ডন ইউনিভার্সিটির স্কুল অব ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজের (সোয়াস) চায়না ইনস্টিটিউটের পরিচালক স্টিভ সাং ভোটের ফল ঘোষণার আগেই বলেছিলেন, “পুতিনকে একজন প্রকৃত কৌশলগত অংশীদার হিসেবে দেখেন শি। পুতিনের ভূমিধস বিজয় না হলে তা বেইজিংয়ের জন্যও হতাশাজনক হবে।”

পুতিনের নিরঙ্কুশ বিজয়ে শুধু চীনের প্রেসিডেন্টই নন, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিং জয় উনেরও বেজায় খুশি হওয়ার কথা। উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন সম্প্রতি রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলে এক বিরল বিদেশ সফরে পুতিনের সঙ্গে দেখা করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্র বলছে, রাশিয়া উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে অস্ত্র কিনবে। তার জন্যই এই সফর।

কিমের জন্য রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তার নিজ দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার একটি বড় সুযোগ। যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতার মুখে উত্তর কোরিয়া একের পর এক ব্যায়বহুল অস্ত্র তৈরি করছে। এতে দেশটির অর্থনীতি বেশ চাপের মুখে পড়েছে।

পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত ইরানও পুতিনের ফের ক্ষমতায় আসা থেকে লাভবান হবে। ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য ড্রোন ও গোলাবারুদ সরবরাহ করে ইরান এরইমধ্যেই রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছে।

এমনকি ভারতও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার সম্পর্ক ধরে রেখে এবং ইউক্রেনে শান্তির আহ্বান জানিয়েও রাশিয়ার সঙ্গে ক্রমাগত লেন-দেন করে লাভবান হয়েছে। বিশেষ করে রাশিয়া থেকে কম দামে প্রচুর তেল কিনেছে দেশটি।

ভোটে বিজয়ী পুতিনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। তিনি নিজের এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক আরও গাঢ় হওয়ার দিকে তাকিয়ে আছেন তিনি।

এমনকি পৃথিবীর দক্ষিণাঞ্চলের আরও অনেক দেশের সরকারই রাশিয়ার সঙ্গে অংশীদারত্ব জোরদার করেছে। অথচ তারা প্রকাশ্যে ইউক্রেন যুদ্ধের বিরোধিতাও করেছে, আবার এই যুদ্ধের ক্ষতিকর অর্থনৈতিক প্রভাবের শিকারও হয়েছে।

নতুন বিশ্ব ব্যবস্থা

নির্বাচনে কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকলেও ক্ষমতার ওপর নিজের কর্তৃত্ব বজায় রাখা এবং ইউক্রেনে পরাজয় ছাড়াই বর্তমান অবস্থানে পৌঁছানো পুতিনের জন্য নিশ্চিত ছিল না।

ইউক্রেনে বিশেষ সামরিক অভিযানে দ্রুত সাফল্য আসবে বলে পুতিন যে হিসাব-নিকাশ করেছিলেন, তাও ভুল ছিল। রাশিয়ার ভাড়াটে যোদ্ধা বাহিনীর নেতা ইয়েভজেনি প্রিগোজিনের কাছ থেকেও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন পুতিন। যদিও প্রিগোজিনের বিদ্রোহ তিনি সুকৌশলে দমন করেন। এছাড়া পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাগুলো রাশিয়ার অর্থনীতিকে বিশ্ব বাজারের বেশিরভাগ অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে।

এর প্রতিক্রিয়ায় পুতিন রাশিয়ার সবচেয়ে ক্যারিশম্যাটিক বিরোধী নেতা ও তার কট্টর সমালোচক অ্যালেক্সেই নাভালনিসহ দেশজুড়ে ভিন্নমত ও বিরোধীদের ওপর দমন-পীড়ন বাড়িয়েছেন। গত মাসে আর্কটিক অঞ্চলের কুখ্যাত রুশ কারাগারে মারা যান নাভালনি।

এদিকে পুতিন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পদে তার আরও ছয় বছর থাকাও নিশ্চিত করে ফেলেছেন এবং পশ্চিমাদের হাজারো নিষেধাজ্ঞার মুখেও দেশের অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখতে পেরেছেন। যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতিপক্ষরাও এখনও তেমন কোনও বড় অগ্রগতি দেখতে পায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেও ক্লান্তির লক্ষণ দেখা দিয়েছে। এছাড়া আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কারণেও যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের দিকে মনোযোগ দিতে পারছে না।

যুদ্ধের ময়দানের পরিস্থিতি হয়ত বদলে যেতে পারে। কিন্তু যে দেশগুলো পুতিনের কাছাকাছি ছিল বা তাকে একঘরে করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন প্রচেষ্টায় যোগ দেয়নি, পুতিনের জয় রাশিয়া সঙ্গে তাদের সম্পর্কের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে এবং পশ্চিমাদের নেতৃত্বের বাইরে নতুন বৈশ্বিক জোট গড়ে ওঠার গতিও বাড়াবে।

রাশিয়া এবছর বিশ্বের প্রধান উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশগুলোর জোট ব্রিকসের বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করতে চলেছে। ২০১১ সালে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে গঠিত জোটটি এবছরের শুরুতে ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইথিওপিয়া ও মিশরের যোগদানে এখন প্রায় দ্বিগুণ শক্তিশালী।

ব্রিকসকে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি-সেভেন এর পাল্টা উন্নয়নশীল দেশগুলোর একটি জোট হিসেবে দেখা হয়। রাশিয়ার কাজানে আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় ব্রিকসের শীর্ষ সম্মেলনেও দুটি গ্রুপের মধ্যে বিভেদের বিষয়টি ধরা পড়বে।

ভ্লাদিমির পুতিন দুই দশনের বেশি সময় ধরে রাশিয়া শাসন করছেন।

২০১৪ সালে ক্রিমিয়া আক্রমণের পর রাশিয়াকে জি-৮ থেকে বের করে দেয় বাকি দেশগুলো। এরপর সেটি জি-৭ হয়ে যায়। ফলে সে বছর রাশিয়ার সোচিতে অনুষ্ঠেয় এর শীর্ষ সম্মেলনটিও হয়নি।

বিশ্বের বিভিন্ন অংশে পুতিনকে পশ্চিমের চেয়ে ভিন্নভাবে দেখার নানা কারণ রয়েছে। যেমন, একাধিক মাঝারি শক্তির উত্থান, যেগুলো আন্তর্জাতিক বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একচেটিয়া আধিপত্যে বিরক্ত; এমন একটি বিশ্বব্যবস্থার আকাঙ্ক্ষা যা কর্তৃত্ববাদী বা নিপীড়ক রাষ্ট্রগুলোর বিরোধিতা করে না; অথবা নিজেদের উন্নতির জন্য মরিয়া দেশগুলোর অর্থনৈতিক বাস্তববাদীতা।

গাজায় চলমান ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যেও ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অকুণ্ঠ সমর্থনও এই দেশগুলোর অনেককে পশ্চিমা নেতৃত্ব থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। চীনও ফিলিস্তিনের সঙ্গে ইসরায়েল ও পশ্চিমাদের আচরণের সমালোচনা করে এই দেশগুলোর আস্থা অর্জন করে নিয়েছে।

পুতিনও এই সুযোগে ব্রিকসকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বিদ্যমান বিশ্বব্যবস্থার বিকল্প আন্দোলন এবং অর্থনৈতিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার উপায় হিসেবে উপস্থাপন করছেন।

গত মাসের শেষদিকে এক ভাষণে পুতিন বলেন, “এই বস্তুনিষ্ঠ বা নৈর্ব্যক্তিক বাস্তবতা থেকে দূরে সরে যাওয়ার কিছু নেই এবং ইউক্রেনসহ পরবর্তীতে যাই ঘটুক না কেন, তা যেভাবে আছে সেভাবেই থাকবে।”

এরপর তিনি তার নতুন মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে বন্ধু ও শত্রু উভয়কেই একটি বিষয় জোর দিয়ে বিবেচনার জন্য আহ্বান জানান। পুতিন বলেন, “একটি শক্তিশালী ও সার্বভৌম রাশিয়া ছাড়া কোনও স্থায়ী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা সম্ভব নয়।”

বেইজিং সতর্কও

তবে তার মানে এই নয় যে, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে রাশিয়ার মিত্র দেশগুলোর কোনও সতর্কতা নেই। রাশিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী কৌশলগত অংশীদার চীনও এক্ষেত্রে সতর্ক।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো সোমবার রাশিয়ার নির্বাচনের ফলাফলের খবর উচ্ছ্বাসের সঙ্গে প্রকাশ করেছে।

সরকারি বার্তা সংস্থা সিনহুয়া পুতিনের ‘জাতীয় উন্নয়ন’ অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেছে। আরেকটি রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যমের শিরোনাম রাশিয়ার ‘স্থিতিশীল রাজনৈতিক প্রক্রিয়া’কে স্বাগত জানিয়েছে।

চীনের সংবাদমাধ্যমে রবিবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে করা পুতিনের মন্তব্যও তুলে ধরা হয়, যেখানে তিনি চীন ও রাশিয়ার মধ্যে রাষ্ট্রীয় স্বার্থের মিল থাকার দিকে ইঙ্গিত করেছিলেন। পুতিন দাবি করেন যে, তাদের এই অন্তঃমিল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্থিতিশীলতার একটি উপাদান।

ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে চীন উল্লেখযোগ্যভাবে সুবিধা নিচ্ছে এবং যতক্ষণ না রাশিয়ার পরাজয়ের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে, ততক্ষণ চীন তার অবস্থান থেকে নড়বে না।

চীনা ক্রেতারা ২০২৩ সালে রাশিয়া থেকে প্রচুর পরিমাণে অপরিশোধিত তেল কিনেছে। অন্যদিকে, চীন থেকে রাশিয়ায় গাড়ি ও গৃহস্থালির ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীর মতো পণ্য রপ্তানি বেড়েছে। এতে রাশিয়ার সঙ্গে চীনের বাণিজ্য নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং চীনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে চীনা মুদ্রা ইউয়ানের লেনদেন বেড়েছে।

শি ইউক্রেনের যুদ্ধকে পরোক্ষভাবে বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য একটি বিকল্প ব্যবস্থা তৈরির অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করেছেন। যেখানে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ক্ষীণ মনোযোগ চীনের জন্য সুসংবাদ।

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জয় উনের সঙ্গে ভ্লাদিমির পুতিন।

চীন অবশ্য নিজের একটি শান্তিকামী ভাবমূর্তি তৈরির জন্য এটাও বলছে যে, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের জন্য তারা বিরামহীনভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছে। ইউরেশিয়া অঞ্চলের জন্য নিযুক্ত চীনের বিশেষ দূত লি হুইকে দুটি সফরে রাশিয়া, ইউক্রেন ও ইউরোপের অন্যান্য অংশে পাঠানো হয়েছে। তার এসব সফরের উদ্দেশ্য ছিল আলোচনার মাধ্যমেই ইউক্রেন সংকট সমাধানে ইউরোপীয়দের উৎসাহিত করা। তার দ্বিতীয় সফরটি শেষ হয়েছে গত সপ্তাহে।

রেনমিন ইউনিভার্সিটির ওয়াং ইওয়েই-এর মতো চীনা পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক চিন্তাবিদরা বলেছেন, বেইজিং পারমাণবিক উত্তেজনা বাড়া নিয়ে উদ্বিগ্ন। সম্প্রতি পুতিন ফের এই উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছেন। এছাড়া ইউরোপীয় দেশগুলোর সরাসরি ইউক্রেন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা নিয়ে তারাও উদ্বিগ্ন।

ওয়াং ইওয়েই সিএনএনকে বলেন, “কীভাবে সংঘাত বৃদ্ধি এড়ানো যায়, সেটাই লি হুইয়ের বিশেষ উদ্বেগের বিষয়।” লি হুই অতীতে রাশিয়ায় চীনের রাষ্ট্রদূত ছিলেন।

অন্যদিকে, ইউরোপের বেশিরভাগ মনে করে, লি হুইসহ চীনা কর্মকর্তারা নিছকই এমন একটি পরিকল্পনা উপস্থাপন করছে, যার ফলে শেষমেশ পুতিনই উপকৃত হবেন। এই ধারণা ইউক্রেন যুদ্ধের শুরুর দিন থেকেই বেইজিংয়ের অবস্থান সম্পর্কে ইউরোপীয়দের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। ইউক্রেন যুদ্ধের শুরুতেই চীন জোর দিয়ে বলে, রাশিয়াসহ সকল পক্ষেরই ‘বৈধ নিরাপত্তা উদ্বেগের’ সমাধান করতে হবে।

এখন ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের জন্য বিশ্বজুড়ে চাপ বাড়া সত্ত্বেও রাশিয়ার নির্বাচনের সম্ভাব্য ফলাফল বেইজিংসহ অ-পশ্চিমা কিছু দেশের রাজধানীতে, পুতিনকে সমর্থন করাই সঠিক ছিল- এই দৃষ্টিভঙ্গিকেই আরও শক্তিশালী করবে।

তথ্যসূত্র: সিএনএন

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist