Beta
শুক্রবার, ১ মার্চ, ২০২৪

রাত ৩টায় ছিনতাইয়ে নামত ‘মামা পার্টি’ : র‌্যাব

যাত্রাবাড়ীতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে র‌্যাব।

‘মামা পার্টি’ নামের ছিনতাইকারীদের এক চক্রের প্রধানসহ পাঁচ সদস্যকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে র‌্যাব।

তারা হলো- চক্রের প্রধান খুলনার খানজাহান আলী থানার শিরোমনি এলাকার মো. রানা ওরফে মো. শাহীন ওরফে শাহীন রানা ওরফে তজ্জম (৪৯), সদস্য শরীয়তপুরের জাজিরা থানার হরিয়াশা এলাকার মফিজুল ইসলাম ওরফে ইসলাম ওরফে ইসলাম মিয়া (৪৮), মাদারীপুর সদরের ঘটমাঝি এলাকার মো. সাগর ওরফে হাবিবুর রহমান শেখ ওরফে মো. হাবিব (৫১), মৌলভীবাজারের বড়লেখা থানার সুজানগর এলাকার ফারুক আহমদ ওরফে ফারুক মিয়া ওরফে মো. ফারুক (৩৪) ও শরীয়তপুরের নড়িয়া থানার সুরেশ্বর এলাকার আবুল কালাম (৫৩)।

র‌্যাব বলছে, চক্রটির সদস্যরা প্রাইভেটকার বা মাইক্রোবাসে যাত্রী সেজে চেতনানাশক ব্যবহার করে ছিনতাই করত। ছিনতাই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রথমে কোনও নির্জন রুট বাছাই করত তারা। ছিনতাইয়ের সময় হিসেবে বেছে নিত রাত ৩টা থেকে সকাল ৭টা।

মঙ্গলবার কারওয়ান বাজারে র‍্যারের মিডিয়া সেন্টারে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান র‍্যাব-১০ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন।

তিনি বলেন, শাহিন রানা চক্রটির মূল পরিকল্পনাকারী। তার নেতৃত্বে চক্রটি দীর্ঘদিন গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, শরীয়তপুর, ফরিদপুর, মাদারিপুর ও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রাইভেট কার/মাইক্রোবাস ভাড়া করে যাত্রী সেজে চেতনানাশক ওষুধ ব্যবহার করে ছিনতাই করত। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রথমে তারা ছিনতাইয়ের জন্য উপযুক্ত ও নির্জন রুট ঠিক করতো। ছিনতাইয়ের জন্য রাত ৩টা থেকে সকাল ৭টার মধ্যে যেকোনও সময়কে বেছে নিত।

র‌্যাব কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন জানান, ছিনতাইয়ের কাজে তারা কখনও মফিজুলের প্রাইভেটকার ব্যবহার করতো, কখনও মফিজুলের মাধ্যমে অন্য কোনও প্রাইভেটকার/মাইক্রোবাস ভাড়া নিত। এরপর মফিজুল ওই গাড়ি চালাত, শাহিন যাত্রী সেজে তার পাশে বসে থাকত।

অন্যারা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী নির্বাচিত রুটের ১-২ কিলোমিটার পরপর যাত্রী বেশে অবস্থান করত। সবাই একত্রিত হওয়ার পর যাত্রীকে কখনও দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মারধর করে, কখনও চেতনানাশক ওষুধ দিয়ে অচেতন করে তার সবকিছু লুট করত। এরপর সুবিধাজনক সময়ে যেকোনও নির্জন স্থানে তাকে ফেলে পালিয়ে যেত চক্রর সদস্যরা।

মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন বলেন, “এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৬ জুন ফরিদপুরের ভাঙ্গা এলাকায় আসামিরা যাত্রী সেজে সাদ্দাম শেখ (৩৪) নামে একজন চালকের ইজিবাইক ভাড়া করে। এরপর তারা ইজিবাইক চালক সাদ্দামকে মারধর করে। একপর্যায়ে চেতনানাশক ওষুধ দিয়ে তাকে অচেতন করে একটি মেহগনি বাগানে ফেলে রেখে ইজিবাইকটি নিয়ে পালিয়ে যায়।

“পরবর্তীতে সাদ্দাম ফরিদপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। চক্রটি ইজিবাইকটি ফেরত দেওয়ার কথা বলে প্রতারণার মাধ্যমে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিকাশ নম্বরে ৩৫ হাজার টাকা নেয় সাদ্দামের পরিবারে কাছ থেকে। এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তকালে মামা পার্টি চক্রটি সম্পর্কে জানা য়ায়।”

‘মামা পার্টি’র সক্রিয় সদস্য ১০ জন জানিয়ে এই র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি মাঝরাতে র‌্যাব-১০ এর একটি দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ও তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানাধীন শনিরআখড়া এলাকায় একাধিক অভিযান চালালয়। অভিযানে চক্রের হোতাসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়। এসময় ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি হায়েস গাড়ি ও একটি করোলা প্রাইভেটকার, একটি হাতকড়া, চার পাতা চেতনানাশক ওষুধ, দুটি সুইচ গিয়ার, দুটি স্টিলের চাকু, একটি ক্ষুর, ১১টি মোবাইল ফোন ও নগদ ১,৬০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist