Beta
সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

রিয়াল বনাম জিরোনা : ক্লাসিকো নয় তবে শিরোপা নির্ধারণের ক্লাসিক

মুখোমুখি রিয়াল মাদ্রিদ-জিরোনা। যে ম্যাচেই আঁকা হবে শিরোপার পথ। ছবি: টুইটার
> লা লিগায় পয়েন্ট টেবিলের যা অবস্থা, তাতে শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে হতে যাচ্ছে শিরোপা নির্ধারণ!

> ইতিহাস গড়তে যাওয়া ম্যাচের ৮৫ হাজার টিকিট বিক্রি শেষ। লড়াই হবে এক নম্বর বনাম দুই নম্বরের, যে দুই দল মিলেই করেছে ১০০ গোল।

> একটি ক্লাব ঘরের মাঠে এখন পর্যন্ত অপরাজিত। ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোর মধ্যে যাদের পয়েন্ট সর্বোচ্চ।

> সেই দলটি আবার এমন এক দলকে আতিথ্য দিচ্ছে, যারা এখন পর্যন্ত হারেনি অ্যাওয়ে ম্যাচ।

> দুই দলের লড়াইয়ে যে জিতবে, বসবে শীর্ষস্থানে।

> শীর্ষ গোলদাতারা মুখোমুখি হচ্ছেন একে অন্যের। জমে উঠবে পিচিচির লড়াই।

> লড়াইটা স্পেনের প্রতীক বনাম নির্বাসিত কাতালান প্রেসিডেন্ট সমর্থিত দলের।

> স্পেনের রাজধানীতে হঠাৎ উঠেছে বিশাল এক ব্যানার। যেখানে লেখা : আমরা আসছি তোমার জন্য।

এ তো এল ক্লাসিকোর উত্তাপ। কিন্তু এটা ক্লাসিকো নয়। লড়াইটা রিয়াল মাদ্রিদ বনাম বার্সেলোনা নয়, উত্তাপটা রিয়াল বমান জিরোনা ম্যাচের। চলতি লা লিগায় কাতালান ক্লাবটির দাপট এমন যে, মাদ্রিদে যাচ্ছে তারা ‘বার্সেলোনা-আবহ’ নিয়ে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের লড়াই হয়তো নয়, তবে শিরোপা নির্ধারণের গতিপথ আঁকা হয়ে যেতে পারে বার্নাব্যুর ম্যাচেই। বাংলাদেশ সময় শনিবার রাত সাড়ে ১১টায় মঞ্চায়িত হবে শিরোপা নিষ্পত্তির ‘ক্লাসিক’।

চলতি মৌসুমে বার্নাব্যুতে হারেনি রিয়াল। তবে জিরোনার বিশ্বাস, তারা হারাতে পারবে। মাইকেল সানচেজের দল এবারের স্বপ্নযাত্রায় হারিয়েছে বার্সেলোনা ও আতলেতিকো মাদ্রিদকে। হারিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদকেও, গত মৌসুমের লিগে।

জিরোনা এখন পর্যন্ত কিছুই জেতেনি। কখনও পৌঁছাতে পারেনি ইউরোপিয়ান টুর্নামেন্টে। তাদের প্রথমবার লা লিগায় আসা ২০১৭ সালে। আবার অবনমন ঘটে। এবার দিয়ে মাত্র চতুর্থবার খেলছে স্প্যানিশ ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে। তাদের এক মৌসুমের মোট খরচের ১৪গুণ বেশি বাজেট রিয়াল মাদ্রিদের। অর্থের ঝনঝনানি ও ঐতিহ্যে মাদ্রিদের ক্লাবের ধারেকাছেও নেই জিরোনা। শক্তিমত্তার কথা বললেও রিয়ালের সঙ্গে তুলনা চলে না। কিন্তু এবারের মৌসুমে জিরোনার যে পারফরমেন্স, তাতে লস ব্লাঙ্কোদের এগিয়ে রাখার খুব বেশি সুযোগ আছে কি!

কী বলছে জিরোনা

২০২৩-২৪ লা লিগা মৌসুমে জিরোনা যে একটি ম্যাচ হেরেছে, সেটি রিয়ালের বিপক্ষে। আজ আবার খেলবে বার্নাব্যুতে। যেখানে রিয়াল হারেনি এখনও। জিরোনা কোচ অবশ্য প্রতিপক্ষ নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নন। নিজেদের খেলাতেই মনোযোগ তার, “মৌসুম শেষে আমরা ইতিহাস গড়তে চাই। বার্নাব্যুতে জিতে ফেরাটা অবশ্যই স্পেশাল হবে। তখন সবার মুখে মুখে জিরোনা ছড়িয়ে পড়বে। তবে আমরা এখনও লিগ জেতার প্রার্থী নই। এখনও ১৪ ম্যাচ বাকি আছে।”

এই সময়ের মধ্যে ‘বিগ থ্রি’র যে কেউ শীর্ষে বসতে পারে বলে মনে করেন মাইকেল, “আমার মনে হয় মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা অনেক ম্যাচ জিতবে। আমাদের জন্য প্রত্যেকটা ম্যাচ কঠিন। লিগ জিততে গেলে ৮৫ থেকে ৯০ পয়েন্ট দরকার। আমাদের আছে ৫৬। মাদ্রিদ এটা করতে পারে, বার্সেলোনা করতে পারে, আতলেতিকোও করতে পারে। ফলে কেউ জোর গলায় লিগ জেতার কথা বললে সেটা অন্যায় হবে।”

জিরোনার উচ্চাশা নেই। বাস্তবেই তাদের বসবাস। এই তত্ত্ব ধারণ করে অপ্রতিরোধ্য দল হয়ে ওঠা। এখন পর্যন্ত হওয়া ২৩ সপ্তাহের ৯টিতে শীর্ষে ছিল জিরোনা। চারবার দখল করেছে শীর্ষস্থান। বার্নাব্যুতে যাওয়ার আগে পিছিয়ে ২ পয়েন্টে। রিয়ালকে হারিয়ে দিতে পারলে পঞ্চমবার বসবে শীর্ষে।

লিস্টার হতে পারবে জিরোনা?

২০১৫-১৬ মৌসুমে গোটা ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিয়ে প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জিতেছিল লিস্টার সিটি। এবার লা লিগায় কি লিস্টার হবে জিরোনা? এখন পর্যন্ত যে অবস্থা, সুযোগ আছ যথেষ্ট। ২৩ ম্যাচে ৫৬ পয়েন্ট পাওয়ার পথে হেরেছে মাত্র এক ম্যাচে। ক্লাউদিও রানিয়েরির লিস্টারের সঙ্গে তুলনায় দাঁড় করালে জিরোনা বরং ভালো অবস্থানে আছে। সেবার প্রিমিয়ার লিগ জেতার পথে লিস্টার হেরেছিল তিন ম্যাচে।

তবে সমস্যাও আছে, যেটা মাইকেল নিজেই বলেছেন- অন্য দলগুলোও ছেড়ে কথা বলবে না। ২০১৬ সালে প্রিমিয়ার লিগে দ্বিতীয় হওয়া আর্সেনালের পয়েন্ট ছিল ৭১। তৃতীয় হওয়া টটেনহাম পেয়েছিল ৭০ পয়েন্ট। তবে লা লিগায় চিত্রটা ভিন্ন। শীর্ষে থাকা রিয়ালের পয়েন্ট এখনই ৫৮। এখনও বাকি আছে ৪৫ পয়েন্টের খেলা।

রিয়াল থেকে এসেছে ভিন্ন বার্তা

লিগের আগের ম্যাচে রিয়াল-জিরোনা দুই দলই ড্র করেছে। মাদ্রিদ ডার্বি রিয়াল শেষ করেছে ১-১ গোলের সমতায়। অন্যদিকে ঘরের মাঠেও রিয়াল সোসিয়েদাদকে (০-০) হারাতে পারেনি জিরোনা। জয়ের ক্ষুধা দুই দলেরই থাকবে। তবে এই ম্যাচেই শিরোপা নির্ধারণ হয়ে যাবে, ব্যাপারটা তেমন নয় বলে জানিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদ কোচ কার্লো আনচেলত্তি।

ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে ইতালিয়ান কোচ বলেছেন, “যে-ই এই ম্যাচ জিতবে, এগিয়ে যাবে। তবে মনে রাখতে হবে লিগের পথটা লম্বা। জিরোনা বড় আশা ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে আসবে। তারা জিতলে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে বসবে। তবে এই ম্যাচে কিছুই নির্ধারণ হবে না। যাই ঘটুক লিগের নিষ্পত্তি পরে হবে।”

সবশেষে

তা হয়তো হবে না। লা লিগার এখনও অনেকটা পথ বাকি। তবে বার্নাব্যুর ম্যাচ গড়ে দেবে শিরোপার পথ। এগিয়ে যাওয়া দল সঞ্চার করবে আত্মবিশ্বাস, পিছিয়ে পড়া দলের থাকবে ঘুরে দাঁড়ানোর তাগাদা। তবে ফল যা-ই হোক, বার্নাব্যুতে অপেক্ষা করছে উপভোগ্য ‘ক্লাসিক’ ম্যাচ।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist