Beta
মঙ্গলবার, ১৮ জুন, ২০২৪
Beta
মঙ্গলবার, ১৮ জুন, ২০২৪

ঈদের আগে রেমিটেন্সে হোঁচট, ৩ মাসে সর্বনিম্ন মার্চে

মার্কিন ডলার
মার্কিন ডলার
Picture of বিশেষ প্রতিনিধি, সকাল সন্ধ্যা

বিশেষ প্রতিনিধি, সকাল সন্ধ্যা

ঈদের আগে কমেছে দেশের বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভের অন্যতম প্রধান উৎস প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স।

সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত মার্চে ১৯৯ কোটি ৬৮ লাখ ৫০ হাজার (১ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন) ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এই অঙ্ক সবশেষ তিন মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম।

শুধু তাই নয়, এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়েও ১ দশমিক ২৬ শতাংশ কম।

এখন রেমিটেন্সে প্রতি ডলারে ১০৯ টাকা ৫০ পয়সা দিচ্ছে ব্যাংকগুলো। সে হিসাবে টাকার অঙ্কে মার্চে ২১ হাজার ৮৬৫ কোটি টাকা পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। প্রতিদিনের গড় হিসাবে এসেছে ৭০৫ কোটি টাকা।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১০ অথবা ১১ এপ্রিল দেশে রোজার ঈদ উদযাপিত হবে। তার ঠিক আগের মাসে রেমিটেন্সের প্রবাহ কমে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন খাত সংশ্লিষ্টরা। তবে ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, চলতি মাসে ঈদকে সামনে রেখেই রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়বে।

২০২৪ সালের প্রথম মাস জানুয়ারিতে ২১১ কোটি ৩১ লাখ (২ দশমিক ১১ বিলিয়ন) ডলারের রেমিটেন্স এসেছিল। ফেব্রুয়ারি মাসে তার চেয়েও বেশি ২১৬ কোটি ৬০ লাখ (২ দশমিক ১৬ বিলিয়ন) ডলার পাঠান প্রবাসীরা। যা ছিল সবশেষ আট মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।

ফেব্রুয়ারি মাসে গত বছরের ফেব্রুয়ারির চেয়ে ৩৯ শতাংশ বেশি রেমিটেন্স এসেছিল । ফেব্রুয়ারির সেই রেমিটেন্সের চেয়ে মার্চে প্রবাসী আয় কম এসেছে ৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

রেমিটেন্সের হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, মার্চ মাসে ১৯৯ কোটি ৬৮ লাখ ডলার রেমিটেন্সের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ২৬ কোটি ১৭ লাখ ৭০ হাজার ডলার। বিশেষায়িত কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৩ কোটি ৫২ লাখ ৭০ হাজার ডলার।

বেসরকারি ৪৩ ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ১৬৭ কোটি ১৭ লাখ ডলার। আর নয়টি বিদেশি ব্যাংক এনেছে ৮১ লাখ ১০ হাজার ডলার।

পাশাপাশি সুস্থির হতে চলেছে দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা ডলারের ‘অস্থির’ বাজার।

ডলারের তেজ কমে বাড়ছে টাকার মান। কিছুদিন আগেও যেখানে ১২৪ টাকা পর্যন্ত দরে রেমিটেন্সের ডলার কিনছিল ব্যাংকগুলো; এখন তা ১১৩/১১৪ টাকায় কিনছে। সোমবার আমদানি বিল নিষ্পত্তিতে ডলারের দাম নেওয়া হয়েছে ১১৬ থেকে ১১৭ টাকা, যা দুই সপ্তাহ আগেও ছিল ১২২ থেকে ১২৪ টাকা।

খোলা বাজার বা কার্ব মার্কেটেও ডলারের দরে বড় পতন হয়েছে। সোমবার প্রতি ডলার ১১৮ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মাস দেড়েক আগেও তা ১২৬/১২৭ টাকায় বিক্রি হতো।

তবে আন্তঃব্যাংক লেনদেনে ডলারের দর এখনও অনেক কম; ১১০ টাকা। অর্থাৎ এক ব্যাংক আরেক ব্যাংক ১১০ টাকায় ডলার কিনছে। বাংলাদেশ ব্যাংকগুলোর কাছে যে ডলার বিক্রি করছে, সোয়াপ কারেন্সির আওতায় টাকা-ডলার অদলবদল করছে সেটাও ১১০ টাকা নিচ্ছে।

মাস দু’য়েক আগে আন্তঃব্যাংক লেনদেনে ডলারের দর ১১০ টাকায় উঠেছিল।

গত বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী প্রবাসীরা প্রায় ২ বিলিয়ন (২০০ কোটি) ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন।

আগের দুই মাস অক্টোবর ও নভেম্বরেও বেশ ভালো রেমিটেন্স এসেছিল দেশে। অক্টোবরে এসেছিল ১৯৭ কোটি ৭৫ লাখ (১ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন) ডলার; নভেম্বরে ১৯৩ কোটি (১ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন) ডলার।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত