Beta
রবিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৪

অবহেলিত শিশুদের সহায়তায় ১২৩৯ সমাজকর্মী নিয়োগ: দীপু মনি

রাজধানীর জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে সোমবার ‘স্ট্রিট সিচুয়েশন ইন বাংলাদেশ ২০২৪’ নামের গবেষণা প্রতিবেদন উন্মোচন করা হয়। ছবি: সকাল সন্ধ্যা
রাজধানীর জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে সোমবার ‘স্ট্রিট সিচুয়েশন ইন বাংলাদেশ ২০২৪’ নামের গবেষণা প্রতিবেদন উন্মোচন করা হয়। ছবি: সকাল সন্ধ্যা

ঢাকার প্রান্তিক এলাকা ও বস্তিতে বাস করা পরিবারসহ শিশুদের সহায়তার জন্য ১ হাজার ২৩৯ জন সমাজকর্মী নিয়োগ করেছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সমাজসেবা অধিদপ্তর।

সোমবার ঢাকার জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে এক গবেষণা প্রতিবেদন উন্মোচন অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী দীপু মনি।

অনুষ্ঠানে পথশিশুদের বর্তমান অবস্থা নিয়ে ‘স্ট্রিট সিচুয়েশন ইন বাংলাদেশ ২০২৪’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন উন্মোচন করা হয়।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে ওই গবেষণায় মাঠ পর্যায়ে যৌথভাবে কাজ করেছে সমাজকল্যাণ অধিদপ্তর, সুইডিস ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কোঅপারেশন এজেন্সি (সিডা) ও ইউনিসেফ।

গবেষণা প্রতিবেদনটি সম্পর্কে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি দীপু মনি বলেন, “এই গবেষণা শিশুদের প্রতি আমাদের অটুট প্রতিশ্রুতির প্রমাণ। তাদের গল্প বুঝতে, তাদের সংগ্রামের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে এবং তাদের স্বপ্ন পূরণে আমাদের উদ্বুদ্ধ করে।”

নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও সূক্ষ অনুসন্ধানের মাধ্যমে এই গবেষণায় পথশিশুরা যেসব প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছে, তার মূল কারণগুলো উন্মোচন করেছে বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী।  

সরকার শিশুবান্ধব নীতি গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় সংশোধনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ জানিয়ে দীপু মনি বলেন, “প্রান্তিক শিশুদের সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের আরও নিবিড়ভাবে কাজ করতে হবে এবং তাদের কল্যাণের জন্য প্রগতিশীল পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।”

গবেষণা প্রতিবেদন উন্মোচন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সিমিন হোসেন রিমি।

প্রতিবেদনটি পথশিশুদের পথে আসার মূল কারণগুলো তুলে ধরেছে এবং তাদের স্থায়ী প্রান্তিকতার কারণ চিহ্নিত করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “গবেষণা প্রতিবেদনটি আমাদের সমাজের প্রান্তিক শিশুদের সেবা ও অধিকার নিশ্চিত এবং ক্ষমতায়নের সুনির্দিষ্ট সমাধান প্রস্তাব করেছে। আমরা সবাই একযোগে কাজ করলে অবস্থার পরিবর্তন আনতে পারব।”

পথশিশুদের প্রসঙ্গ টেনে সিমিন হোসেন রিমি বলেন, “আমাদের নগরজীবনের ব্যস্ততায় প্রায়ই অদেখা এবং না শোনা একটি শ্রেণি হলো পথশিশুরা। এই শিশুরা পিতামাতার বা অভিভাবকের যত্ন-ভালোবাসা ছাড়াই নিঃশব্দে জীবনের প্রতিকূলতার মধ্যে বেড়ে ওঠে এবং সমাজের প্রত্যেকটি প্রান্তে অবহেলার শিকার হয়।”

গবেষণা প্রতিবেদন উন্মোচন অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সিডার উন্নয়ন সহযোগিতার প্রধান মারিয়া স্ট্রিডসম্যান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি এনরিকো লরেঞ্জন ও ইউনিসেফের প্রতিনিধি সেলডন ইয়েট।

জাতীয় চিত্রশালার তিন তলায় পথশিশুদের নিয়ে ‘আবছায়ার ধ্বনি’ নামের একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীরও আয়োজন করেন আয়োজকরা। প্রদর্শনীটি সোমবার থেকে শুরু হয়ে চলবে ২৩শে মার্চ পর্যন্ত।



গবেষণা প্রতিবেদনে যা বলা হয়েছে

রাস্তায় থাকা শিশুদের চরম দারিদ্র‍্য, পারিবারিক অস্থিরতা ও শারীরিক বা মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয় বলে গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

বর্তমানে প্রায় ৩৪ লাখ শিশু রাস্তায় বাস করছে এবং অর্থনৈতিক চাপ প্রায়ই এই শিশুদের শ্রমে যুক্ত হতে বাধ্য করে, শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে ও দারিদ্র্যের চক্রকে স্থায়ী করে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

এতে আরও বলা হয়, দারিদ্র্য, বিপর্যয় ও অভিবাসনের মতো ম্যাক্রো ফ্যাক্টরগুলো শিশুদের রাস্তার দিকে নিয়ে যায়। পিতামাতার অবহেলা, দুর্ব্যবহার, পরিত্যাগসহ পারিবারিক কর্মহীনতা সরাসরি তাদের রাস্তায় বেড়ে ওঠাকে প্রভাবিত করে।

এছাড়া শিক্ষাগত সংগ্রাম, পারিবারিক স্নেহের অভাবসহ ব্যক্তিগত কারণগুলো তাদের বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অবদান রাখে। জনগণের সহানুভূতি, অনানুষ্ঠানিক শ্রমে জড়িত হওয়া এবং কিছু ক্ষেত্রে অবৈধ কার্যকলাপ অবলম্বন করে বেঁচে থাকতে হয় এই শিশুদের।

পরিবারিক সহায়তা শক্তিশালী করা, শিক্ষা ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি, নারী ও শিশুদের জন্য সুরক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী ও প্রসারিত করা, আইনি ও সামাজিক সুরক্ষার উন্নতি, জনসচেতনতা ও অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি এবং সরকার থেকে তহবিল বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist