Beta
সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

চাল ব্যবসায়ীরা শিয়ালের চেয়ে ধূর্ত: খাদ্যমন্ত্রী

চালের দাম বৃদ্ধির জন্য করপোরেট, মিল মালিক থেকে খুচরা ব্যবসায়ী- সব পক্ষকে দায়ী করেছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। শুধু তাই নয়, চাল ব্যবসায়ীদের ‘শিয়ালের চেয়েও ধূর্ত’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বগুড়ায় চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে অংশীজনদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এমন কথা বলেন খাদ্যমন্ত্রী। রবিবার দুপুরে বগুড়া জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সভাকক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মতবিনিময় সভায় চাল ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা একে অপরের দিকে কাদা ছুঁড়েছেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে চালের দাম বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে অংশীজনরা স্পষ্ট কোনও ধারণা দিতে পারেননি।

ধান-চালের পরিস্থিতি মনিটরিংয়ের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কাজী সাইফুদ্দিনের কাছে জানতে চান খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। জেলার ১২ টি উপজেলায় দুই জন খাদ্য পরিদর্শক ও একজন করে টিএসও রয়েছেন বলে জানান জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক।

এ কথা শুনে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, “খাদ্য বিভাগের পরিদর্শকসহ মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা মনে হয় ঘাস কাটে। তারা প্রতিনিয়ত বাজার পরিদর্শন করেন না। আমাদের নির্দেশ দেওয়ার আগ পর্যন্ত তারা বাজারে নামেননি। তারা যদি তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতেন তাহলে এমন পরিস্থিতি হতো না।”

প্রত্যেকটি লাইসেন্স এর জন্য গোডাউন, চাতাল, বিদ্যুৎ লাইন, অফিস, ক্যাম্পাস সবই ভিন্ন ভিন্ন থাকতে হবে। এসব যাচাই করে জেলার সব মিল মালিকদের ক্যাপাসিটি অনুযায়ী চাল উৎপাদনের পরিস্থিতি মনিটরিংয়ের জন্য ৭ দিনের সময় বেঁধে দেন খাদ্যমন্ত্রী।

ব্যবসায়ীদের পাল্টাপাল্টি দোষ আর বিষোদগারের এক পর্যায়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, “সাধারণত আমনের সময় সিন্ডিকেট হয় না। সিন্ডিকেট হয় বোরো মৌসুমে। এর আগে সেটা ২৫ পয়সা, ৫০ পয়সা, এক টাকা ছিল। কিন্তু এবার সেটা অনেক হয়ে গেছে। জেলাগুলোয় গিয়ে যখন আপনাদের সাথে মুখোমুখি হচ্ছি তখন আসল চেহারা ধরা পড়ছে। আপনারা একে অপরের প্রতি দোষারোপ করছেন।

“আপনাদের অবস্থা হয়ে গেছে শিয়ালের মতো। এক শিয়াল হুক্কা দিলে সবাই দেয়। আপনারা মন খারাপ করবেন না। আপনাদের শিয়াল বলছি না। চাল ব্যবসায়ীরা শিয়ালের চেয়েও ধূর্ত।”

চালের সিন্ডিকেটে খুচরা ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে আড়তদার, হাস্কিং মিল, অটো মিল, করপোরেট মিল সবাই দায়ী বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এসময় নতুন আইনের কথা জানিয়ে সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, “করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো সুগন্ধী চালের বাইরে সাধারণ মানের চাল কতটুকু কিনতে বা বাজারজাত করতে পারবে সে বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। আর মজুদ পরিস্থিতি তদারকির জন্য ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রত্যেক মিল মালিককে তার উৎপাদিত চালের বস্তা কিংবা ব্যাগে মিল রেট এবং উৎপাদনের তারিখ লেখা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এজন্য সংসদে পাশ করা নতুন আইনও প্রণয়ন করা হয়েছে।”

এখন বিধিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, “ওই আইনে খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন, মজুত, স্থানান্তর, পরিবহন, সরবরাহ, বিতরণ ও বিপণন ব্যবস্থায় কোনও অপরাধ পাওয়া গেলে অপরাধীর ন্যূনতম ১০ লাখ টাকা জরিমানা এমনকি জেলের বিধান রয়েছে। আইনটি কার্যকর হলে খাদ্য নিয়ে অপরাধমূলক তৎপরতা বন্ধ হয়ে যাবে।”

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist