Beta
সোমবার, ৪ মার্চ, ২০২৪

রোহিঙ্গাদের ‘চিনলোন’ খেলার উৎসব

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চিনলোন টুর্নামেন্ট। ছবি : সংগৃহীত

গত ছয় বছরে নানা অপরাধে জড়িয়ে রোহিঙ্গারা হুমকি হয়ে উঠেছেন কক্সবাজার, টেকনাফ, উখিয়া অঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্য। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর কয়েকটি দুষ্কৃতকারী চক্রের জন্য দিন দিন ক্যাম্পে অপরাধ প্রবণতাও বাড়ছে।  

এর উল্টো ছবিও আছে। হত্যা, অপহরণ, মাদকের মতো ভয়াল অপরাধ জগতকে পাস কাটিয়ে শিক্ষা, খেলাধুলা ও বিনোদনে নিজেদের পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টও করছেন রোহিঙ্গাদের বড় একটা দল। তাদের সাহায্য করছেন স্থানীয় ক্যাম্প প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিভিন্ন সংস্থা।

এরই অংশ হিসেবে এখন ‘চিনলোন’ খেলার উৎসবে মেতেছেন রোহিঙ্গারা। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে জনপ্রিয় খেলা এটা।  চিনলোন-এর জন্য বড় মাঠের প্রয়োজন নেই। নির্দিষ্ট উচ্চতার নেটের দুই প্রান্তে তিনজন করে খেলোয়াড় থাকেন। বাঁশ বেতের তৈরি গোলাকার হালকা বল নিয়ে পায়ে ও হেডে (মাথা দিয়ে) খেলাটি চলে। কোনো খেলোয়াড় হাত দিয়ে বল ছুঁতে পারেন না। জয়ী হয় আগে ১৫ পয়েন্ট পাওয়া দল।

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে শরণার্থী জীবন শুরুর পর বিভিন্ন ক্যাম্পে চিনলোন খেলতেন রোহিঙ্গারা। তবে টুর্নামেন্ট আয়োজনের উপায় ছিল না। দূর হলো সেই আক্ষেপও। আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ‘চিনলোন’ টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে।

গত ১৫ জানুয়ারি উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বলিবাজার মাঠে ‘চিনলোন’ টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছে ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) অধীনস্থ পানবাজার এপিবিএন ক্যাম্প। এতে অংশ নিয়েছে ৮, ৯ ও ১০ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ১২টি দল।

টুর্নামেন্ট উপভোগ করতে প্রতিদিনই হাজার হাজার রোহিঙ্গা ভিড় করছেন খেলার মাঠে। অন্যরকম উচ্ছ্বাস তাদের মধ্যে।

তাদের এমন উৎসবের আমেজ দেখে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন (আরআরআরসি) পর্যন্ত খেলাটা রোহিঙ্গাদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে আগ্রহী। কারণ ৩৪টি ক্যাম্পের ছোট জায়গায় একসঙ্গে অনেকের বসবাস হওয়ায় দ্বন্দ্ব-সংঘাত  স্বাভাবিক। ক্যাম্পে বাড়তে থাকা অপরাধপ্রবণতা আর স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা আতঙ্ক দূর করতে চিনলোন হতে পারে অন্যতম মাধ্যম।

উখিয়ার ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) অধিনায়ক মো. আমির জাফর সকাল সন্ধ্যাকে জানালেন, ‘‘আমরা চিনলোন টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছি মাদককে না বলতে। রোহিঙ্গা যুবকরা খেলায় সম্পৃক্ত থাকলে তারা অপরাধ থেকে দূরে থাকবে। তাদের শরীর মন ভালো থাকবে, ক্যাম্পের শৃঙ্খলা স্বাভাবিক থাকবে। এ ধরনের আয়োজনে সবসময় তাদের পাশে থাকবে এপিবিএন।’’

৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) অধিনায়ক এডিশনাল ডিআইজি মো. আমির জাফর, পানবাজার ক্যাম্প কমান্ডার পুলিশ সুপার উক্য সিংসহ আরও অনেক উর্ধ্বতন কর্তা রোজই উপভোগ করছেন রোহিঙ্গাদের এই টুর্নামেন্ট।

রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ কামাল হোসেন খুশি এজন্য,‘‘ রোহিঙ্গা যুবকদের খেলাধুলায় ব্যস্ত রাখলে ওরা অপরাধে জড়াবে না। দূরে থাকবে মাদক থেকে। স্থানীয় প্রশাসন আমাদের এভাবে টুর্নামেন্ট আয়োজন করে সাহায্য করায়, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’’

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist