Beta
শনিবার, ২ মার্চ, ২০২৪

সতীনের হাতে খুন হন রোজিনা : পুলিশ

পারিবারিক কলহের জের ধরে সতীনের হাতে খুন হন কামরাঙ্গীরচরের গৃহবধূ রোজিনা। আয়নার ভাঙা অংশ ব্যবহার করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটান মালা সাহা। তাকে সহযোগিতা করেন স্বামী সঞ্জিত সাহা ওরফে আকাশ।

রোজিনা (২০) হত্যার মূল আসামি মালা সাহা(২৫) ও সঞ্জিত সাহাকে(৩১) ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানার খোলামোড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এসময় হত্যায় ব্যবহৃত আয়নার ভাঙা অংশও উদ্ধার করা হয়। সোমবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মাহবুব-উজ-জামান এসব তথ্য জানান।

৫০-৬০টি সিসি টিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে রোজিনার হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করে বংশাল পুলিশ। ডিসি বলেন, গ্রেপ্তারের পর সঞ্জিত ও মালা পুলিশকে জানিয়েছেন, দেড় বছর আগে রোজিনাকে বিয়ে করেন সঞ্জিত। সেসময় হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করে নাম নেন মো. আকাশ। তাদের ঘরে ৪ মাস বয়সী একটি মেয়েও আছে। কিন্তু তখনও রোজিনা জানতেন না যে আকাশের আগে থেকেই স্ত্রী ও দুটি সন্তান আছে। দ্বিতীয় বিয়ের কথা জানাজানি হলে মালা ও সঞ্জিতের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ শুরু হয়।

যেভাবে রোজিনাকে হত্যা

স্বামী সঞ্জিতের সঙ্গে পরিকল্পনা করেই গত ৯ ফেব্রুয়ারি সকালে কামরাঙ্গীরচর থানার বড়গ্রাম ওয়াপদা মসজিদ সংলগ্ন হাজী মো. বদরুদ্দিনের বাড়ির ২য় তলার ফ্ল্যাটে যান মালা। সেখানে আয়নার ভাঙা অংশ দিয়ে রোজিনার গাল ও গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে সেখান থেকে দ্রুত পালিয়ে যান। সেই সময়ে ওই ঘরেই ছিলেন সঞ্জিত।

সিসি টিভি ফুটেজে দেখা যায়, কালো হিজাব ও গোলাপি রঙের বোরকা পরে সিঁড়ি বেয়ে দুই তলার ফ্ল্যাটের সামনে দাঁড়ালেন এক নারী। কিছুক্ষণ পর ব্রাশ হাতে ভেতর থেকে দরজা খুললেন আর একজন নারী। কয়েক সেকেন্ড পর ভেতরের নারী দরজা বন্ধ করতে চাইলে বোরকা পরা নারী জোর করে ভেতরে প্রবেশ করলে শুরু হয় ধ্বস্তাধস্তি। কিছুক্ষণ পর লাল প্রিন্টের শাড়ি পরে হাতে সবুজ রঙের পলিথিন ব্যাগ নিয়ে বের হন হত্যাকারী মালা।

গ্রেপ্তারের পর সঞ্জিত-মালা

পুলিশ জানিয়েছে, প্রথমে হত্যার কথা অস্বীকার করলেও ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তারা হত্যার কথা স্বীকার করেন। পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহের জের ধরে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বাসা থেকে আয়নার একটি ভাঙা অংশ নিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়।  

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist