Beta
সোমবার, ৪ মার্চ, ২০২৪

সরকারের ‘সদিচ্ছার অভাব’ দেখছেন রুনির ভাই

মেহেরুন রুনির ভাই নওশের রোমান।

এক যুগেও হয়নি, আদতে হবে কি না, তা নিয়ে সন্দিহান নিহত মেহেরুন রুনির ভাই নওশের রোমান। তার অভিযোগ, সরকারের সদিচ্ছার অভাব রয়েছে।

নিহত সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যামামলার বাদী রোমান বোন-ভগ্নিপতি হত্যাকাণ্ডের যূগপূর্তিতে এই প্রতিক্রিয়া জানান সকাল সন্ধ্যাকে।

তিনি বলেন, “এক যুগেও তদন্ত শেষ না হওয়ায় সরকারের সদিচ্ছার অভাব দেখতে পাচ্ছি। এর বাইরে আমার মনে হয় না আর কারণ আছে।”

২০১২ সালের ১১ জানুয়ারি ঢাকার রাজাবাজারে নিজের ভাড়া বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রুনি।

রাতে পাঁচ বছরের সন্তানসহ বাসায় ছিলেন তারা। সকালে তাদের দুজনের রক্তাক্ত লাশ পাওয়া যায়।

হত্যাকাণ্ডের পর যে মামলা হয়েছিল, তার বাদী নওশের রোমান। থানা পুলিশের হাত হয়ে ডিবির হাতে গিয়েছিল তদন্ত। দুই মাস পর ডিবি ব্যর্থতা শিকার করলে তদন্তভার যায় র‌্যাবের কাছে।

এরপর ১২ বছর কাটলেও র‌্যাব তদন্ত শেষ করতে পারেনি। তদন্ত প্রতিবেদন দিতে আদালতের কাছে এরই মধ্যে ১০৭ বার তাদের সময় নেওয়া হয়ে গেছে।

রোমান বলেন, “হয়ত সরকার অথবা তদন্ত সংস্থা কাউকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে। অথবা তাদের প্রকৃত খুনি শনাক্ত ও তাদের বিচাররের আওতায় আনতে দক্ষতার অভাব রয়েছে। দক্ষতার অভাব যদি থেকেই থাকে, তাহলে কেন তারা ব্যর্থ সে বিষয়টি জবাবদিহির আওতায় আসত।”

র‌্যাব অবশ্য বলছে, তারা এই খুনের রহস্যভেদে ‘সর্বোচ্চ চেষ্টা’ই চালাচ্ছে।

তদন্তের দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে র‌্যাবের মুখপাত্র কমান্ডার খন্দকার আল মঈন সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করতে সময় লাগছে। নির্দোষ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, সেদিকটা দেখতে হচ্ছে। এসব কারণে অভিযোগপত্র দিতে দেরি হচ্ছে।”

তদন্তের প্রয়োজনে আরও সময় নেওয়ার পক্ষে যুক্তি দিয়ে সম্প্রতি সংসদে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, “৫০ বছর সময় লাগলেও তা তদন্তকারীদের দিতে হবে।”

রোমান বলছেন, মামলার বাদী হিসাবে তার সঙ্গে অনেকদিন যোগাযোগ করছে না র‌্যাব।

“দীর্ঘ সময়ের মাঝে কুশলাদি জানার জন্য কয়েকবার ফোন করেছেন তদন্ত কর্মর্কতা। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ কিছু জানাননি, জানতে চাননি। মামলার তদন্ত কর্মকর্তার পরিবর্তন, নিয়োগসহ কোনও সংবাদ আমরা জানতে পারি না কখনও।”

কোনও ধরনের হুমকি অথবা চাপ অনুভব করেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সরাসরি হুমকির ঘটনা নেই। তবে এতদিন ধরে বিচার না হওয়া যেমন হতাশার, তেমন ভয়েরও।

“ লম্বা সময় ধরে বিচার না হওয়া, উচ্চ মহল থেকে কিছু মন্তব্য ও আচরণ আমাদের নানাভাবে চাপের মুখে ফেলেছে। আমাদের ভয়ের মধ্যে থাকতে হয়। খুনি শনাক্ত ও বিচারের আওতায় না আসার ঘটনা সাগর-রুনির সন্তান মেঘের জন্য আতঙ্ক ও ভয়ের কারণ।”

মেহেরুন রুনি ও সাগর সরওয়ার।

হত্যাকাণ্ডের পরপরই রুনির ভাইদের গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। তা নিয়ে তখন নানা প্রশ্নও ওঠে।

সে প্রসঙ্গে রোমান বলেন, “দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য সঠিক নয়। আমাকে ও আমার ছোট ভাইকে ডেকে নেওয়া হয়েছিল। আমার ভাইয়ের মোবাইল সিমের লোকেশন দুটি স্থানে দেখা যাওয়ায় এ বিভ্রান্তি। এর বাইরে কিছু নয়।

“পরে গোয়েন্দারা ঘটনাস্থলে গিয়ে যাচাই করে দেখেছে, আমাদের বাসার দুই পাশে মোবাইল সিগন্যাল পৃথক দুটি টাওয়ারের আওতায় দেখা যায়। কাছাকাছি সময়ে দুটি থানা এলাকায় মোবাইলের অবস্থান চিহ্নিত হলে এ বিড়ম্বনা তৈরি হয়েছিল। এর বাইরে পরিবার ও স্বজনদের ব্যাপারে তদন্তকারীরা প্রশ্ন তোলেননি।”

র‌্যাবে তদন্তভার নেওয়ার পর নানা সময়ে ডেকেছিল জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাকে ডেকে ৩/৪ ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয় মাত্র কয়েক মিনিট কথা বলতে। এটাকে অবশ্যই হয়রানি বলা যায়।”

খুনি কে বা কারা- সে বিষয়ে কোনও ধারণা দিতে এখনও পারছেন না রোমান। তবে তদন্ত শেষ না হওয়ায় ‘প্রভাবশালী মহল’ জড়িত বলে ধারণা তৈরি হচ্ছে তার।

তদন্ত সংস্থার পরিবর্তন চান কি না- এমন প্রশ্নে রুনির ভাই বলেন, “সরকার চাইলে করতে পারে, নাও করতে পারে। আমাদের কাছে এখন সংস্থা মূখ্য নয়। যারা ১২ বছর ধরে তদন্ত করছে, কিন্তু তাদের মাধ্যমে অগ্রগতি আসছে না- এমন মনে করলে সরকার তাদের জবাবদিহিতায় আনতো। প্রয়োজনে পরিবর্তন করতো। সরকার আন্তরিক হলে মামলা তদন্তে সংস্থা কোনও বিষয় নয়।”

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist