Beta
শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

রাস্তাঘাটের অবস্থা নিয়ে বিব্রত পটুয়াখালীর শাহজাদা

জাতীয় সংসদের অধিবেশন।

রাস্তাঘাটের অবস্থা খারাপ থাকায় নির্বাচনের সময়ে ভোট চাইতে গিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছিলেন এস এম শাহজাদা। রবিবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সম্পূরক প্রশ্ন করতে গিয়ে পটুয়াখালী-৩ আসনের এই সংসদ সদস্য এসব কথা বলেন।

সম্পূরক প্রশ্নে এস এম শাহজাদা বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে অনেক উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু টেন্ডার হওয়ার পর থেকে অনেকগুলো কাজ দীর্ঘদিন ধরে অর্ধসমাপ্ত হয়ে আছে। অবস্থাটা এখন এমন হয়েছে যে, ওই রাস্তায় কাজ না ধরলেই ভালো হতো। কাজগুলো থেমে থাকার কারণে জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীকে বার বার তাগাদা দেওয়ার পরও হচ্ছে না। এ জন্য নির্বাচনের সময় ভোট চাইতে গিয়ে অনেক বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছিল।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। জবাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, “বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতার কারণে নির্মাণ সামগ্রীর দাম অনেকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে যেসব কাজে ঠিকাদাররা অংশ নিয়েছিল, পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ঠিকাদাররা কাজ করতে অনীহা প্রকাশ করেছে। আমরা বাস্তবতা উপলব্ধি করে প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নিয়ে এ সমস্ত উপকরণের দাম বৃদ্ধি করি।

“যেহেতু আমাদের আইনগত বাধ্যবাধকতা আছে তাই যে কাজগুলো ঠিকাদাররা বাস্তবায়ন করবেন না সেগুলোর ক্ষেত্রে নতুন টেন্ডার করা ছাড়া আমাদের বিকল্প নেই। এ প্রক্রিয়াটি করতে গিয়ে আমাদের সময়ক্ষেপণ হচ্ছে।”

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, “আমার নির্বাচনী এলাকাসহ অনেক এলাকায় ঠিকাদাররা কাজ পেয়েছিল, কিন্তু বাস্তবায়ন করতে পারেননি, তাদের এ সমস্ত কাজ বাতিল করে নতুন করে ঠিকাদার নিয়োগ করে সেগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।”

এরপর সাতক্ষীরা-২ আসনের জাতীয় পার্টির দলীয় সংসদ সদস্য আশরাফুজ্জামান সম্পূরক প্রশ্নে নিজ এলাকার সড়কের দুরাবস্থার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “ডিজিটাল যুগেও যেন আদিম যুগে আছি।” সাতক্ষীরা শহরের পোস্ট অফিসের মোড় থেকে ফুড অফিস, সমবায় অফিস, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান নিয়ে যে মহাসড়কটি রয়েছে সেটি দ্রুত সংস্কারের আহ্বান জানান তিনি।

জবাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, “যে রাস্তাগুলো অতি জরুরি, যেখানে জনগণের চলাফেরার সমস্যা হচ্ছে সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবো। পৌরসভা থেকে প্রাক্কলন পাঠানো হলে টাকা দ্রুত ছাড় করা হবে।”

ডেঙ্গু মোকাবিলায় বরাদ্দ

চট্টগ্রাম-১১ আসনের এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম জানান, স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালন বাজেটের আওতায় চলতি অর্থ বছরে ডেঙ্গু মোকাবিলা, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও প্রচার খাতে সিটি করপোরেশনগুলোর অনুকূলে ৪০ কোটি ও পৌরসভাগুলোর অনুকূলে ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

আর্সেনিকমুক্ত পানির উৎস স্থাপন

নোয়াখালী-৩ আসনের মো: মামুনুর রশীদ কিরনের প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, আর্সেনিকমুক্ত পানি সরবরাহের জন্য বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় ২০২৫ সালের মধ্যে গ্রামাঞ্চলে প্রায় ১০ লাখ ৬৫ হাজার আর্সেনিকমুক্ত পানির উৎস স্থাপন করা হবে। এ ক্ষেত্রে গভীর নলকূপ ছাড়াও পাইপের মাধ্যমে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, বৃষ্টির পানির সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং পুকুর খনন ও পুন:খননসহ সৌরচালিত পন্ড স্যান্ড ফিল্টার স্থাপন করা হবে। বর্তমানে যারা আর্সেনিক ঝুঁকিতে রয়েছে ২০২৫ সালের মধ্যে তাদের হার শতকরা ৫-৬ ভাগে নামে আসবে।

সরকারি দলের সংসদ সদস্য মোরশেদ আলমের প্রশ্নের জবাবে তাজুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও ইউনিসেফের যৌথ জরিপ প্রতিবেদন অনুযায়ী বর্তমানে দেশের মোট জনসংখ্যার ১১ ভাগ আর্সেনিক দূষণের ঝুঁকিতে রয়েছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist