Beta
শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

সাবিনা-মারিয়াদের ক্লাবে ঢোকার স্বপ্ন আফঈদার

আফঈদা খন্দকার, অধিনায়ক বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী ফুটবল দল। বুধবার কমলাপুর স্টেডিয়ামে। ছবি: সকাল সন্ধ্যা।

পাঁচ তারকা হোটেলের সুইমিং পুলের পাশে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি রেখে ফটোসেশন- আফঈদা খন্দকারের জন্য এ এক অন্য রকম অভিজ্ঞতা। অনুশীলন শেষে ক্যামেরার ফ্লাশ লাইট যখন মুখের ওপর পড়ে, তখনও এতটুকু ভড়কে যান নি বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী দলের অধিনায়ক। ছোট ফুটবল ক্যারিয়ারে নতুন আলো গায়ে মেখে ছুটছেন তিনি।   

২০২১ সালে প্রথমবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলেছেন আফঈদা। সেবার ওই দলের একজন সাধারণ ফুটবলার হিসেবেই খেলেছিলেন। তখনকার কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন বদলি খেলাতেন তাকে। সেই আফঈদা এবার বাংলাদেশ দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার।

খেলেন রক্ষণভাগে। কিন্তু সুযোগ পেলেই দূরপাল্লার শটে গোল করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন। গত আসরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১২-০ গোলে জয়ের ম্যাচে বদলি নামেন আফঈদা। মজার ব্যাপার হলো, ওই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছিলেন তিনি। প্রতিটি গোলই করেছিলেন মাঝ মাঠ থেকে দূরপাল্লার শটে।

এবার লিগ পর্বে যখন ভারতের বিপক্ষে তারা গোলের জন্য হাপিত্যেশ করছিল তখন আফঈদা দারুন এক বল যোগান দিয়েছিলেন। মাঝ মাঠ থেকে দুর্দান্ত এক লং বল ফেলেন, সেটি ধরেই বক্সে ঢোকেন সাগরিকা। এরপর বল জালে জড়িয়ে ভারত-বধের কাহিনী রচনা করেন।

সেই ভারতই ফাইনালে। কঠিন প্রতিপক্ষ হলেও ফাইনাল নিয়ে নাকি কোনো স্নায়ুচাপেই ভুগছেন না আফঈদা। বুধবার কমলাপুর স্টেডিয়ামে অনুশীলন শেষে বলেছেন, “ফাইনাল ম্যাচের জন্য যতটুকু টেনশন থাকার অতটুকুই। এর বেশি না। ফাইনালটা চাপ ভাবলেই বেশি চাপ নেওয়া হবে। তাই চাপ নিচ্ছি না।”

নিজের এবং দলের ওপর পুরো আত্মবিশ্বাস আছে অধিনায়কের, “আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছি, তার উপর আমার আত্মবিশ্বাস আছে। ওই আত্মবিশ্বাস নিয়েই আগামীকাল মাঠে নামবো আমরা।”

জয় ছাড়া অন্য কিছু ভাবছেন না তিনি, “আমার লক্ষ্য একটাই দলকে জেতানো।”

ভারতের বিপক্ষে গত ম্যাচে গোলের সুযোগ পেয়েও হাতছাড়া হয়েছিল। কিন্তু এবার সেই ভুল করতে চান না আফঈদা, “গত ম্যাচে আমরা বেশ কিছু সুযোগ পেয়েছিলাম। কিন্তু কাজে লাগাতে পারিনি। যেহেতু ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ, তাই সুযোগ কম আসবে এবং সেগুলোই কাজে লাগাতে হবে।”

ভারতকে নিয়ে মোটেও ভয় কাজ করছে না তার, “সবাই ভাবে ভারতের নাম শুনলে আমরা ভয় পাই। আসলে বিষয়টা তেমন না। ভারত যেমন খেলে আমরাও তেমনই খেলি। গত ম্যাচেও আপনারা সেটা দেখেছেন।”সমান-সমান দলের সঙ্গে লড়াই হলে খেলাটা আকর্ষনীয় হয়। ফাইনালটাও জমে।   

২০১৭ সালে অনূর্ধ্ব-১৫ সাফে চ্যাম্পিয়ন দলের অধিনায়ক ছিলেন মারিয়া মান্দা। ২০২১ সালে জুনিয়র শামসুন্নাহারের হাতে উঠেছিল সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপের ট্রফি। পরের বছর জাতীয় দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন জেতেন বড়দের সাফ। সেই ক্লাবে ঢুকতে যেন এবার তর সইছে না আফঈদারও।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist