Beta
শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

তাহলে এমন সাফ রেখে লাভ কি

অযোগ্য কমিশনারের হাতে ফাইনাল তুলে দেওয়ার ফল। ছবি : সংগৃহীত

রাত দশটার সময়ও মাঠে বসে আছেন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী দলের ফুটবলাররা। সন্ধ্যা ৬টায় শুরু ফাইনাল শেষ করে দলগুলোর এতক্ষণ কমলাপুর স্টেডিয়ামেই থাকার কথা নয়, সেই খেলোয়াড়রাই মাঠে বসে আছেন খেলার ফল জানতে। বাংলাদেশের মেয়েরা দুশ্চিন্তা নিয়ে মাঠে তো প্রতিপক্ষ ভারত ম্যাচ কমিশনারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ড্রেসিং রুমে। আর ক্রীড়ামন্ত্রী প্রথমবার ফুটবলে প্রধান অতিথি হয়ে এসে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন। এদিকে ঘণ্টাখানেকেরও বেশি সময় ধরে চলতে থাকা অনূর্ধ্ব-১৯ নারী সাফের ফাইনালের তামাশা যেন শেষই হচ্ছে না!

সাফের বর্তমান সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন চতু্র্থ মেয়াদে সাফে কর্তৃত্ব করছেন। সেই ২০০৮ সালে বাফুফে সভাপতির চেয়ারে বসার পর থেকেই। এবার না হয় অসুখে ঘরবন্দী। কিন্তু দেশের বাইরে সাফ হলে তার টিকিও খুঁজে পাওয়া যায় না। এমনকি সভাপতি হিসাবে ফাইনালেও উপস্থিত থাকেন না। আরেকজন সাফের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হক হেলাল ঢাকায় অফিসটা পাহারা দেন। এই অঞ্চলের ফুটবল নিয়ে নতুন কোনো চিন্তা ও লক্ষ্য ছাড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। মানে নতুন কিছু চালু করার হ্যাপা ও চ্যালেঞ্জ নিতেই চায় না সাফ।

সাফের ব্যানারে একটা বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্ট আয়োজন করতেও লেজেগোবরে করে ফেলেন এই কর্মকর্তাদের। কমলাপুর স্টেডিয়ামের টার্ফে ফুটবল ম্যাচ চালানোর অনুমতি নেই ফিফার। মেয়াদোত্তীর্ণ ও ভয়ংকর টার্ফে খেলে চোটে পড়ে ফুটবলাররা। এরকম নজির আছে অনেক, তাছাড়া বিদেশীরা এসে নিন্দা-মন্দও করে গেছেন। কিন্তু সাফের কর্তাদের কোনো হেলদোল নেই, এখানে ফুটবলের আসর বসায় প্রতি বছর।

তাছাড়া সংগঠনটি নামে সাফ কিন্তু অংশগ্রহণকারী দল দেখলে তা মনে হয় না। বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টও সতটি দেশকে আনতে পারে না। ২০২২ সালে তো অনূর্ধ্ব-১৫ সাফের আয়োজন করেছিল মাত্র ৩ দেশ নিয়ে! এবারও মাত্র ৪টি দেশ নিয়ে হয়েছে অনূর্ধ্ব-১৯ সাফের আয়োজন। 

এবার মেয়েদের অনূধর্ব-১৯ আয়োজন করতে গিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় সাফ কর্মকর্তারা। ফাইনালে সবচেয়ে বড় ঝামেলা পাকিয়েছেন শ্রীলঙ্কান ম্যাচ কমিশনার ডি সিলভা জয়সুরিয়া দিলান। নিয়ম না জেনেই সাডেন ডেথ বন্ধ করে টস করেছেন। যে ভুলের খেসারত দিচ্ছে দুই দল। তার এই বিতির্কিত সিদ্ধান্তে দুই দলই অসন্তুষ্ট।

শ্রীলঙ্কানের ম্যাচ কমিশনারগিরি দেখে তার অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। অনেকের সন্দেহ, কম টাকা সম্মানি দিয়ে অনভিজ্ঞ ম্যাচ কমিশনার এনে সাফ এমন ছোটখাটো টুর্নামেন্ট পার করে দেওয়ার পায়ঁতারা করেনি তো ! এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করতে সাফ সম্পাদক আনোয়ারুল হক হেলালকে ফোন করেও পাওয়া যায়নি।

সাফ এমন অকর্মণ্য হলে রেখে লাভ কী ! নাকি অনেকদিন একই নেতৃত্বের হাতে থাকায় কর্মোদ্যম হারিয়েছে সংগঠনটি?

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist