Beta
সোমবার, ২০ মে, ২০২৪
Beta
সোমবার, ২০ মে, ২০২৪

সাগর-রুনি হত্যা : আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি সাংবাদিকদের

সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যার বিচার দাবিতে 
রবিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন সাংবাদিকেরা। ছবি : সকাল সন্ধ্যা
সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যার বিচার দাবিতে রবিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন সাংবাদিকেরা। ছবি : সকাল সন্ধ্যা
Picture of প্রতিবেদক, সকাল সন্ধ্যা

প্রতিবেদক, সকাল সন্ধ্যা

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত নিয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সাম্প্রতিক বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছেন সাংবাদিক নেতারা। মন্ত্রীর বক্তব্যকে ‘কাণ্ডজ্ঞানহীন’ আখ্যা দিয়ে তার পদত্যাগ দাবি করেছেন সাংবাদিকেরা।

সাগর-রুনি হত্যার বিচার দাবিতে রবিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে এমন দাবি তোলেন সাংবাদিক নেতারা। ঢাকার সেগুনবাগিচায় ডিআরইউ চত্বরে এই সমাবেশ হয়।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি সকালে ঢাকার পূর্ব রাজবাজারের ফ্ল্যাটে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির রক্তাক্ত লাশ পাওয়া যায়। তখন তাদের পাঁচ বছরের ছেলেটিই শুধু ঘরে ছিল। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হত্যা রহস্য উদঘাটনে সরকারের ঘোষণা গড়াল ১২ বছরে, তারপরেও জানা গেল না কীভাবে নিজের ঘরে খুন হলেন এই সাংবাদিক দম্পতি।

থানা পুলিশ থেকে তদন্তভার গিয়েছিল ডিবির হাতে, তাদের ব্যর্থতা স্বীকারের পর এক যুগ ধরে তদন্ত চালিয়ে আসছে র‌্যাব, কিন্তু এখনও কূলের সন্ধান পায়নি তারা। অভিযোগপত্র দিতে আদালতের কাছে তাদের শতাধিকবার সময়ও নেওয়া হয়ে গেছে।

এমন পরিস্থিতিতে গত ১ ফেব্রুয়ারি আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, “তাদের (র‌্যাব) তদন্তে যতদিন সময় লাগে সঠিকভাবে দোষী নির্ণয় করতে, তাদেরকে ততটুকু সময় দিতে হবে। সেটা যদি ৫০ বছর হয়, ৫০ বছর দিতে হবে।”

আইনমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে ‘কাণ্ডজ্ঞানহীন’ উল্লেখ করে  ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ খান বলেন, “আমরা এর প্রতিবাদ জানাই। আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ চাই। আমরা ৫০ বছর অপেক্ষা করব না।”

সাঈদ খানের সঙ্গে সহমত প্রকাশ করে ডিআরইউ দপ্তর সম্পারক রফিক রাফি বলেন, “আমি মনে করি আইমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত।”

ডিআরইউ সহসভাপতি মো. শামীম জানান, “১২ বছর ধরে আমরা একই জায়গায় প্রতিবাদ করে আসছি সাগর-রুনির বিচার দাবিতে। কিছুদিন আগে আইনমন্ত্রী যা বলেছেন তাতে আমরা আরও বেশি মর্মাহত হয়েছি। সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কারও কাছ থেকে এমন মন্তব্য আমরা আশা করি না।”

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সদস্য ফারহানা জ্যোতি বলেন, “আমাদের সাংবাদিক নেতারা যদি আরও একটু আন্তরিক হতেন, তাহলে হয়তো সাগর-রুনি হত্যার বিচার আরও ত্বরান্বিত হতো। তারা সরকারের কাছে যেন আরও আন্তরিকভাবে এই বিচারটির দাবি জানান।”

সাগর সরওয়ার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, তেল-গ্যাস, দুর্নীতি নিয়ে রিপোর্ট করতেন জানিয়ে মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক রাশেদ আহমেদ বলেন, “আমরা জানি না তার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এইসব রিপোর্টের কোনও সম্পৃক্ততা আছে কি না। আমি জানি না আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লজ্জা হয় কি না বারবার সময় চাইতে, আদালতেরও এতোবার সময় দিতে বিবেকে বাধে কি না? আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই হত্যার তদন্ত রিপোর্ট এবং বিচার চাই।”
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহীদুল ইসলাম বলেন, “তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রয়াত সাহারা খাতুন বলেছিলেন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করা হবে। কিন্তু ৪৮ দিন, ৪৮ মাস নয়, ১২ বছর পার হয়ে গেছে। কিছুদিন আগে আইনমন্ত্রী বলেছেন, বিচারের জন্য ৫০ বছর লাগতে পারে। আমরা তার বক্তব্য বুঝতে পেরেছি। কিন্তু আপনিও আমাদের কথা বোঝার চেষ্টা করেন— এই হত্যাকারীদের বিচার হবে এবং যারা এই হত্যাকারীদের বিচার করেনি তাদেরও বিচার হবে।”

বিচারহীনতার সংস্কৃতি যেখানে বিদ্যমান থাকে সেখানে কিছুই থাকে না— এমন অভিমত ব্যক্ত করে ডিআরইউর সাবেক সভাপতি মোরসালীন নোমানী বলেন, “সাংবাদিকেরা আজকে অনেকের অভিন্ন শত্রুতে পরিণত হয়েছে। তাই সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। র‍্যাব যদি তদন্ত প্রতিবেদন দিতে না পারে তাহলে তারা বলে দিক।”

শুধু সাগর-রুনি নয়, অনেক সাংবাদিক হত্যার বিচার এখনও হয়নি মন্তব্য করে ডিআরইউর সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু বলেন, “মাননীয় প্রধান বিচারপতির কাছে আমাদের আহ্বান, দ্রুত বিচারের উদ্যোগ নিন।”

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত