Beta
সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

পরীক্ষা কেন্দ্রে যাবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী, তবে ‘ডিস্টার্ব করবেন না’

এমবিবিএস-বিডিএস ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সামন্ত লাল সেন।

শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের সিদ্ধান্ত যখন প্রশংসিত, তখন উল্টোপথ নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়লেন নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সামন্ত লাল সেন।

শুক্রবার অনুষ্ঠেয় এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনে যাচ্ছেন তিনি। প্রশ্ন ওঠার প্রেক্ষাপটে তিনি অবশ্য বলেছেন, তিনি পরীক্ষার্থীদের মনোযোগে বিঘ্ন না ঘটিয়েই পরিদর্শন সারবেন।

আগুনে পোড়া রোগীদের চিকিৎসার উদ্যোগ নেওয়ার জন্য প্রশংসিত চিকিৎসক সামন্ত লাল রাজনীতিতে না থাকলেও নতুন সরকারে তাকে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ পদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা মো. মাইদুল ইসলাম প্রধান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে মন্ত্রীর শুক্রবারের কর্মসূচি জানান হয় সংবাদমাধ্যমকে।

তাতে বলা হয়, আগামীকাল (৯ জানুয়ারি) শুক্রবার সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবন কেন্দ্রে এমবিবিএস/বিডিএস ভতি পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন।

অনুষ্ঠানের সংবাদ সংগ্রহের জন্য রিপোর্টার ও ফটোসাংবাদিক পাঠানোর অনুরোধও করা হয় মন্ত্রণালয় থেকে।

৯ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে এক ঘণ্টা সারাদেশের ১৯টি কেন্দ্রের ৪৪টি স্থানে এমবিবিএস ও বিডিএসের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এই পরীক্ষা নেওয়া হয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের ব্যবস্থাপনায়।

এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এক লাখের বেশি শিক্ষার্থী চিকিৎসক হওয়ার লক্ষ্যে এই ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেবেন। যেখানে দেশে সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজ মিলিয়ে আসন সংখ্যা রয়েছে ৬ হাজার ২৯৫টি।

এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার দিন কেন্দ্র পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর যাওয়ার রেওয়াজ দেশে দীর্ঘদিনের। আগের স্বাস্থ্যমন্ত্রীদেরও সদলবলে পরিদর্শনে দেখা যেত।

তেমনি এসএসসি কিংবা এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র ঘটা করে পরিদর্শনে যেতেন শিক্ষামন্ত্রীরা। তবে নতুন সরকারের শিক্ষামন্ত্রী নওফেল কয়েকদিন আগেই জানান, তিনি পরীক্ষা কেন্দ্রে যাবেন না

কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, এই ধরনের পরিদর্শন শিক্ষার্থীদের উপর চাপ সৃষ্টি করে, তাদের ভোগান্তিতে ফেলে।

সেখানে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনে যাওয়া অযৌক্তিক মনে করছেন জনস্বাস্থ্যবিদ অধ্যাপক ডা. আবু জামিল ফয়সাল।

তিনি সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “এমবিবিএসের মতো এত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা, যেখানে শিক্ষার্থীদের প্রতিটি সেকেন্ডের মূল্য তাদের জীবন নির্ধারণের ক্ষেত্রে অমূল্য, সেখানে মন্ত্রী যাওয়াতে তাদের অ্যাটেনশন নষ্ট হবে, বিরক্তির উদ্রেক করবে।”

মন্ত্রীর সঙ্গে সচরাচর আরও অনেকের থাকার বিষয়টি তুলে ধরে আবু জামিল বলেন, “আর মন্ত্রী তো কেবল একা যাবেন না, তার সঙ্গে অধিদপ্তর, মন্ত্রণালয়, ক্যামেরা…কত কত মানুষ থাকবে।

“যে কারণে শিক্ষামন্ত্রী এত ভালো একটা সিদ্ধান্ত নিলেন, সেখানে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে কেন যেতে হবে? উনি তো মানুষের ডাক্তার, মাটির ডাক্তার। এটা তো তার বোঝা উচিৎ।”

ডা. সামন্ত লাল সেনকে প্রাজ্ঞ মানুষ মনে করলেও তার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি বলেন, “সমস্যা হচ্ছে, মন্ত্রী হয়ে গেলে কানে কিছু শুনতে পায় না, চোখে কিছু দেখতে পায় না, মাথায় বুদ্ধি থাকে না। আমলাদের পাল্লায় পড়ে …. ”

স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতিসহ যেসব সমস্যা রয়েছে, মন্ত্রী হিসেবে সামন্ত লালের সেদিকে মনোযোগ দেওয়া উচিৎ বলে মনে করেন আবু জামিল।

আরেক জনস্বাস্থ্যবিদ অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদও মনে করেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনের কোনও প্রয়োজন নেই।

তিনি সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “কেন্দ্র পরিদর্শন একজন মন্ত্রীর জন্য বড় বিষয় হতে পারে না। পরীক্ষার্থীদের জন্য এটা মোটেই সহায়ক নয়। বিশেষ করে এমবিবিএসের মতো পরীক্ষায়। যেখানে একটা সেকেন্ড, একটা মুহূর্ত পরীক্ষায় বসা প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য অমূল্য।

“এখানে তাদের দরকার সহায়ক পরিবেশ, মাথা ঠাণ্ডা রাখা। এই পরীক্ষা অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা। সর্বোচ্চ মনোযোগ দিতে হয়, যেন তিনি ভালোভাবে প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর ঠিকসময়ের মধ্যে দিতে পারেন। সেখানে মন্ত্রীর পরিদর্শন নিঃসন্দেহে ব্যাঘাত ঘটাবে।”

পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন জনগুরুত্বপূর্ণ কোনও কাজ কি না, সেই প্রশ্নও রাখেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক বে-নজির আহমেদ।

এই সমালোচনার প্রেক্ষাপটে মন্ত্রী সামন্ত লাল সেন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সকাল সন্ধ্যার প্রশ্নে বলেন, “আমি বাইরে থেকে চলে আসব, আমি কাউকে ডিস্টার্ব করব না, চুপচাপ দেখে চলে আসব।”

এদিন সকালেই তিনি এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist