Beta
মঙ্গলবার, ১৮ জুন, ২০২৪
Beta
মঙ্গলবার, ১৮ জুন, ২০২৪

কলাম

বিশ্ববিদ্যালয়ে মাতৃভাষায় উচ্চতর বিজ্ঞান যেভাবে সম্ভব

আহমেদ শামীম। প্রতিকৃতি অঙ্কন: সব্যসাচী মজুমদার।

আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীরা ইংরেজি ভাষা ও ‘আমেরিকান সংস্কৃতি’ ছাড়াও নানান ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে ক্যাম্পাসে আসে। তাদের সেই ভাষা আর সংস্কৃতিগুলোর অনুশীলন ও উদযাপন বিশেষ বিশেষ দিনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে বহুকাল। গত দুই দশক থেকে এই চিত্রের মধ্যে পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে।

আমেরিকার প্রায় পঁয়তাল্লিশটা বিশ্ববিদ্যালয় মিলে একটি সঙ্ঘ করেছে, ‘কালচার অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যাক্রস দ্য কারিকুলাম।’ এই সঙ্ঘের সদস্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের শিক্ষাক্রমে ১ থেকে ২ ক্রেডিটের ‘ডিসকাশন সেকশন’ কিংবা ‘ল্যাব সেকশন’ যুক্ত করেছে বিভিন্ন ভাষায়। ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যাক্রস দ্য কারিকুলাম বা ‘ল্যাক’ নামের এই কোর্সগুলো সাধারণত সেসব শিক্ষার্থীরা নেয় যাদের ইংরেজিভিন্ন অন্য একটি ভাষায় দক্ষতা আছে, প্রায়শই সেটা তার মাতৃভাষা (প্রথম ভাষা), নয়তো মাতাপিতার ভাষা (ঐতিহ্যিক ভাষা)। আবার অনেক সময়ে সেটা বিবিধ প্রয়োজনে শেখা ভাষা (দ্বিতীয় ভাষা)।

এই ল্যাক কোর্সগুলো ভাষা শেখার কোর্স নয়, বিভাগীয় বিষয়েরই কোর্স, কিন্তু তা পড়ানো হয় ইংরেজিভিন্ন অন্য ভাষায়। অর্থাৎ সেই ‘ডিসকাশন সেকশন’-এর পাঠ্য মূলকোর্সের থেকেই চয়ন করা হয়। সেই পাঠ্য মূলকোর্স চলাকালেই ছাত্ররা ইংরেজিভিন্ন অন্য একটি ভাষায় পড়া, আলোচনা করা, এবং পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ নিতে পারে। ফলে মূল কোর্সের ৩ ক্রেডিটের সঙ্গে আরও দুই এক ক্রেডিট যোগ করে ৫ ক্রেডিট পর্যন্ত পেতে পারে। এতে দুটি ভাষায় একই বিষয় পড়ার ফলে বিষয়ের উপর দক্ষতা যেমন বৃদ্ধি পায়, তেমনি দ্বিতীয় ভাষাটিতেও একাডেমিক বিষয় নিয়ে বলা, লেখা, শোনা, পড়ার কাজ করার দক্ষতা অর্জিত হয়।

কর্মসূত্রে আমি কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা সম্পদ কেন্দ্র পরিচালিত ‘ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যাক্রস দ্য কারিকুলাম’ প্রকল্পটি সমন্বয় করি। ইতোমধ্যে স্প্যানিশ, ম্যান্ডেরিন, ও কোরীয় ভাষায় ১ ক্রেডিটের বিভাগীয় বিষয় যুক্ত করেছি। ভবিষ্যতে বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের বিষয়গুলো বাংলা ভাষায় ডিসকাশন সেকশন যুক্ত করার পরিকল্পনা আছে। কাজটা কঠিন। একদিকে ওই তিন ভাষার ভাষীদের মতো বাংলাভাষী তেমন নেই কর্নেলে। অন্যদিকে বাংলাভাষায় উচ্চশিক্ষা, বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বাংলায় লেখা পড়া সম্ভব নয় এমন একটা কথা তারা তাদের পূর্বসূরিদের কাছ থেকে শুনে এসেছে।  

ইংরেজি মান পেয়েছে ইউরোপীয় বাঘা ভাষাগুলোর পরে; ইংরেজি আজ আন্তর্জাতিক মহলে উচ্চতর বিজ্ঞানের ভাষা হয়ে উঠেছে, গত দুইশ বছরে। তাদের এই সাম্প্রতিক সাফল্যের মূলে আছে ইংরেজ চাষাভুষাদের রাজনৈতিক অর্জন। এদিকে বাংলার চাষাভুষার সন্তানেরা নিজের ভাষ-ভূমেই নিজের ভাষাকে উচ্চতর বিজ্ঞান চর্চায় অযোগ্য বলে ভাবছে এবং সে কথা প্রকাশও করছে তাদের যুক্তি সহকারে।

উচ্চতর জ্ঞানবিজ্ঞান চর্চায় বাংলা ভাষার ব্যবহার নিয়ে যেসব অভিভাবকেরা সন্দিহান, তাদের তো জানা উচিত, সর্বকালের সেরা ইংরেজ বিজ্ঞানী নিউটনও তার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘দ্য প্রিন্সিপিয়া’ লিখেছেন ল্যাটিনে, যার প্রকাশকাল ১৬৮৭ সাল। তখনও ইংরেজি ছিল ‘চাষাভুষার ভাষা’, যার সীমা দাবি করা হতো ‘নাটক-ফাটক’, ‘কবিতা-টবিতা’ লেখার মধ্যে। আবার ল্যাটিন যখন ‘আন্তর্জাতিকভাবে’ স্বীকৃত এবং ব্যবহারিত ভাষা তখন আধুনিক বিজ্ঞানের প্রবর্তক গ্যালিলিও তার গবেষণাপত্রগুলো সাধারণ ইতালীয় ভাষাতেই বেশি লিখেছেন। এদিকে আধুনিক বিজ্ঞানকে বর্তমান উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া বিজ্ঞানী আইনস্টাইন মূলত জার্মান ভাষাতেই লিখেছেন তার গবেষণাকর্ম।

অর্থাৎ ইংরেজি মান পেয়েছে ইউরোপীয় বাঘা ভাষাগুলোর পরে; ইংরেজি আজ আন্তর্জাতিক মহলে উচ্চতর বিজ্ঞানের ভাষা হয়ে উঠেছে, গত দুইশ বছরে। তাদের এই সাম্প্রতিক সাফল্যের মূলে আছে ইংরেজ চাষাভুষাদের রাজনৈতিক অর্জন। এদিকে বাংলার চাষাভুষার সন্তানেরা নিজের ভাষ-ভূমেই নিজের ভাষাকে উচ্চতর বিজ্ঞান চর্চায় অযোগ্য বলে ভাবছে এবং সে কথা প্রকাশও করছে তাদের যুক্তি সহকারে। তাদের যুক্তি দুটি বর্গে বিভক্ত। এক বর্গে বাংলাভাষার সক্ষমতার সীমা, অন্য বর্গে আগে আন্তর্জাতিক বাস্তবতা। তবে দুইবর্গের যুক্তিতেই খামতি আছে।

প্রথমেই আসা যাক ভাষা সক্ষমতার বিষয়ে। উচ্চতর বিজ্ঞান চর্চায় একটি মানভাষা ব্যবহার করা যায় কি যায় না এটা যারা বিচারিক রায় দিতে চান তাদের রায়কে গ্রহণযোগ্য হতে হলে সেই রায়ের পেছনে অন্তত বৈজ্ঞানিক তথা ভাষা-বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দরকার হবে। অর্থাৎ আমি ও আমার পরিজন পারছে না বলে তা সম্ভব না এমন ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য হবে না। পাশাপাশি যে বিচারকের আসনে বসেন তার মানসিক অবস্থা থাকতে হবে এমন যে তার যুক্তির বিরুদ্ধে যায় এমন তথ্য-উপাত্ত হাজির করা হলে সে তার অবস্থান পরিবর্তন করবে। এক কথায় বিজ্ঞান নিয়েই যেহেতু তারা বিচারিক কর্তৃত্ব করছেন, তারা বিজ্ঞানমনস্ক হবেন এটাই আমাদের আশা।

সেই আশা জারি রেখে একটি কথা দায়িত্ব নিয়ে জানাতে চাই যে, আধুনিক ভাষাবিজ্ঞানে এমন কোনো রায় হাজির নেই যা দিয়ে বলা যায় বাংলা উচ্চতর বিজ্ঞান চর্চালব্ধ জ্ঞান প্রকাশে সমস্যায় পড়বে। তবু তাদের ওই অভিযোগ আমরা বিবেচনা করব, কেননা এটা ‘অনেকেই’ বলে। তো সেই বলার মধ্যে মোটা দাগে দুই ধরনের সমস্যা দাগানো যায়। এক, বাংলা বাক্য, বাক্যাংশ, ও শব্দগুচ্ছ গঠনের যে রীতি তাতে উচ্চতর বৈজ্ঞানিক চিন্তা প্রকাশ করা যায় না, আর দুই বাংলার শব্দভাণ্ডার উচ্চতর বৈজ্ঞানিক আলোচনা বর্ণনা করার মতো সমৃদ্ধ নয়।

প্রথম অভিযোগটি খুবই নাজুক, মানে বাংলা বাক্য, বাক্যাংশ, ও শব্দগুচ্ছ গঠনের রীতির পরিসীমা সম্পর্কে একজন বাংলাভাষী যখন এমন মত দেন যে তা খুব সীমাবদ্ধ, তাহলে ধরে নিতে নয় তিনি সেই পরিসীমা পর্যন্তই পরিভ্রমণ করেছেন। কিন্তু তা যাচাই করার উপায় কী? সৃজনশীল লেখকেরা নিত্যনতুন ঢঙে ওই রীতি ভাঙছেন গড়ছেন, তাহলে তথাকথিত পরিসীমাকে অনতিক্রম্য বলে মেনে নিই কীভাবে। একটা জিনিস এখানে মনে রাখতে হবে, রীতি মানে ভাষার বিষয় নয়, ভাষীর বিষয়। রীতি আর ব্যাকরণ এক কথা নয়। ব্যাকরণ আবিষ্কারের বিষয় আর রীতি হলো এমন জিনিস যা আসলে গৎ। আমরা গৎকে ব্যাকরণ ভেবে, বাংলাভাষার সীমা দাগিয়ে দিচ্ছি। ইংরেজি ভাষায় নানান গৎ হাজির আছে, কেননা ল্যাটিনের দাপটের পর নানা জনে উচ্চতর বিজ্ঞান লেখার উপায় আবিষ্কার করেছে ইংরেজিতে। আজ সেগুলো সহজলভ্য তাই সহজে ব্যবহার করি। কিন্তু বাংলায় সেই পথ আবিষ্কার করতে হবে, কিন্তু আমরা ওই পথ মাড়াই না। ভাষার ঘাড়ে নিজের সীমাবদ্ধতা চাপিয়ে দিই। ভাষার সীমাবদ্ধতাবাদীদের জন্য একটা দুঃসংবাদ হচ্ছে, আধুনিক ভাষাবিজ্ঞানই বলে একটি ভাষার ব্যাকরণ লিখে শেষ করা যায় না। সেক্ষেত্রে একজন একটি ভাষার সীমাবদ্ধতা কি করে খুঁজে পায় সেটা নিয়ে প্রশ্নের অবকাশ আছে।

দ্বিতীয় অভিযোগটি বরং কিছুটা কম নাজুক। হ্যাঁ বিজ্ঞানের নতুন নতুন আবিষ্কারের জন্য নাম বাংলা শব্দভাণ্ডারে হাজির নেই। তবে পৃথিবীতে কোথায় কী আবিষ্কার হচ্ছে সে জিনিশের নাম আগে থেকেই বাংলা শব্দভাণ্ডারে হাজির থাকবে এমনটা আশা করা বোকামি। সেক্ষেত্রে ওই জিনিশ নিয়ে বাংলায় কথা বলা যাবে না? যাচ্ছে তো। এভাবেই তো যে কোনো ভাষাই যুগে যুগে শব্দভাণ্ডারের প্রচলিত শব্দ বদলাতে থাকে। ওয়েদার বললে মুখভার করা আবহাওয়া বলিয়েরা একসময় জলবায়ু এমন কিছু বলা লোকদের বিরাগভাজন হয়েছিলেন, কেননা আব এবং হাওয়া দুটাই আরবি-ফারসি থেকে আসা। কেউ হয়তো আবহাওয়াকে পানিবাতাস বলতে উৎসাহী হতে পারেন, কেননা জলবায়ু বলতে ভিন্ন কিছু বোঝায়, কিন্তু সেটা কাজের কথা নয়। কাজের কথা হচ্ছে ট্র্যাঞ্জিস্টার, রেজিস্টার, কন্ডেসার, আরও যত তাবিজতুমার তাদের আবিষ্কারকের দেয়া নাম আমাদের বাংলা লেখায় ব্যবহার করলে ক্ষতি নেই, কেননা সেই নামগুলো বাংলাভাষীর কথাবার্তায় ইতোমধ্যেই জায়গা নিয়ে ফেলেছে। এখন যেমন আসছে কোয়ান্টাম। এটা বাংলায় ব্যবহার করলে যা ইংরেজিতে ব্যবহার করলেও তা, বিষয়ের বাইরের উচ্চশিক্ষিত ইংরেজও বুঝবে না কোয়ান্টাম শব্দটি দিয়ে বিজ্ঞানে আসলে কী বোঝায়। সেটা বুঝতে হলে বিজ্ঞানের বিষয় নিতে পড়তে হবে, জানতে হবে কোয়ান্টাম আসলে কী? সেখানে কি বাংলা ভাষায়, কি ম্যান্ডেরিন (চাইনিজ), কি কোরীয় ভাষায় যদি বিজ্ঞানের বিষয় পড়ানো হয়, সেখানে কোয়ান্টামের মতো শব্দগুলি ঋণশব্দ হিসবে ব্যবহার করা হয় তাতে ক্ষতির কিছু দেখি না। 

আবার উল্টাও হয়, আমি সারা জীবন ইংরেজিতেই পদার্থবিদ্যা চর্চা করলাম, বাংলা ভাষার উৎকৃষ্ট লেখাগুলো পড়লাম না, জানলাম না এই ভাষার কতো প্রকাশক্ষমতা, শিখলামও না। তাছাড়া ভাষা যাই হোক লেখার দক্ষতা একটি ভিন্ন জিনিস। একদিকে যেমন ব্যাপক পড়তে হবে মাতৃভাষায় রচিত উৎকৃষ্ট রচনাবলী, অন্যদিকে নিজেও লিখতে হবে একাডেমিক এবং/অথবা সৃজনশীল লেখা।

শব্দের ব্যাপারে আরেকটু বিস্তারিত বলা যাক। বাস কন্ডাক্টর কি বাঙালি জানে, সেমিকন্ডাক্টর কি তাও জানে; ফলে এই শব্দগুলো বাংলা ভাষায় স্থান পেয়েছে; একইভাবে ইংরেজি ভাষার মাধ্যমে ইংরেজি এবং আরও শব্দ স্থান পাবে আধুনিক বাংলা অভিধানে, যেমন পেয়েছে নিউট্রন, প্রোটন এবং নিউট্রন শব্দগুলো। বাংলা ভাষার সব শব্দ, সব বাক্য, সব অনুচ্ছেদ সব বাঙালির কাছে বোধগম্য হবে না, কেননা সবাই একই বিষয়ে, ব্যবস্যায় বা চর্চায় নেই। বিষয়ভিত্তিক বাংলা শব্দভাণ্ডার আলাদা হবে, এটা সব ভাষাতেই হয়।

একজনের মাতৃভাষা ইংরেজি, এখন সে আইভি লিগের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিগ্রি নিলেই, চমস্কির ভাষাতত্ত্ব বিষয়ক লেখাগুলো পড়ামাত্রই বুঝে যাবে এমনটা আশা করা যায় না। বিষয়জ্ঞান লাগে। বাংলাভাষার ক্ষেত্রেও তাই। এখন উচ্চতর পদার্থবিদ্যা যদি আমার চর্চার বিষয় না হয়, পদার্থবিদ জামাল নজরুল ইসলাম যদি বাংলায় কোনো রচনা লেখেন ‘হকিং রেডিয়েশন’ নিয়ে,  আমি বাংলা কিংবা ইংরেজি সাহিত্যে উচ্চতর শিক্ষা শেষ করেওবা সে রচনা কতটুকু বোঝার আশা করতে পারি!

আবার উল্টাও হয়, আমি সারা জীবন ইংরেজিতেই পদার্থবিদ্যা চর্চা করলাম, বাংলা ভাষার উৎকৃষ্ট লেখাগুলো পড়লাম না, জানলাম না এই ভাষার কতো প্রকাশক্ষমতা, শিখলামও না। তাছাড়া ভাষা যাই হোক লেখার দক্ষতা একটি ভিন্ন জিনিস। একদিকে যেমন ব্যাপক পড়তে হবে মাতৃভাষায় রচিত উৎকৃষ্ট রচনাবলী, অন্যদিকে নিজেও লিখতে হবে একাডেমিক এবং/অথবা সৃজনশীল লেখা।

বিদেশে বাংলা ভাষা সম্পর্কে নতুন প্রজন্মের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের জন্য খোদ বাংলাদেশেই উচ্চতর বিজ্ঞানে বাংলা ভাষা ব্যবহার প্রসঙ্গে পূর্বসূরিদের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে হবে। ‘ল্যাক’-এর মতো কোর্স বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও শুরু করা যেতে পারে। মূল কোর্সের ‘মিডিয়াম অব ইন্সট্রাকশন’ বা শেখার মাধ্যম যদি হয় ইংরজি, তার সঙ্গে এক্ষুনি বাংলা ডিসকাশন কিংবা ল্যাব সেকশন যুক্ত করা যেতে পারে। কবে বিপ্লব আসবে আর সর্বস্তরে বাংলা চালু হবে এমন আশা ভালো, তবে অনেক বেশি ইউটোপীয় ধারণা। বাস্তবিক এবং গণতান্ত্রিক বিষয় হলো বাংলাদেশ একটি বহুভাষিক দেশ, এবং বাংলার পাশাপাশি চাকমা, ত্রিপুরা, মারমা ইত্যাদি ভাষার কথাও একই নিঃশ্বাসে ভাবতে হবে। ‘ল্যাক সেকশন’ আসবে ভাষা নির্বিশেষে কাজ করে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, সেসব বিভাগীয় বিষয়গুলো এখন ইংরেজিতে পড়ানো হচ্ছে, অবিলম্বে তাতে বিভিন্ন ভাষার ‘ল্যাক সেকশন’ চালু করা যেতে পারে। কাজটা সহজ, ধরা যাক কোনো বিভাগীয় বিষয়ের ৫-৭ শিক্ষার্থী বাংলা বা চাকমা ভাষা থেকে এসেছে। তাদেরকে নিয়েই একটা ল্যাব বা ডিসকাশন সেকশন করা যায়, যেখানে ওই ৭ জন ওই ক্লাসের পড়া আবার নিজের ভাষায় আলোচনা করবে, এবং লিখবে (পরীক্ষাও দিবে)। দ্বিতীয়বার একই পাঠ্য পাঠ করায় পরীক্ষায় ভালো করার সম্ভাবনা বেড়ে যায়, ক্রেডিট পাওয়া যায় এবং উচ্চতর ভাষার ব্যবহারটাও শেখা হয়ে যায়। লাভে লাভ এই ‘ল্যাক’ প্রকল্প এখন বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সময়ের দাবি।

লেখক: সহকারী অধ্যাপক (প্রশিক্ষণ), ইউনির্ভাসিটি অব টেক্সাস (অস্টিন)-এ বাংলা পড়াচ্ছেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা সম্পদ কেন্দ্রে বিদ্যায়তনিক প্রকল্প সমন্বয়ক হিসেবে কর্মরত।

ad

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত