Beta
শুক্রবার, ১ মার্চ, ২০২৪

দক্ষিণের নাটক দেখায় উত্তর কোরিয়ার দুই কিশোরের সাজা

দক্ষিণের নাটক দেখায় সাজাপ্রাপ্ত দুই কিশোরকে দেখা যাচ্ছে ফুটেজে। ছবি : বিবিসি

দক্ষিণ কোরিয়ার গান আর টিভি শোতে মাতোয়ারা সারাবিশ্ব, আর উত্তর কোরিয়ায় সেসব পুরোপুরি নিষিদ্ধ। দেশটির কোনও নাগরিক কে-ড্রামা বা কে-পপে বিনোদন খুঁজলেই, পেতে হবে সাজা।

সম্প্রতি ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির প্রকাশ করা ‘দুষ্প্রাপ্য’ এক ভিডিওতে দেখা গেল তেমনই দৃশ্য। ভিডিওতে দেখা যায়, দক্ষিণ কোরিয়ার নাটক দেখায় উত্তর কোরিয়ার দুই কিশোরকে হাতকড়া পরাচ্ছেন ইউনিফর্মধারী অফিসার। জনসম্মুখেই তাদের ১২ বছর ‘কঠোর পরিশ্রমের’ সাজা দিচ্ছেন তারা।

বিবিসি জানিয়েছে ফুটেজটি ২০২২ সালে ধারণ করা। নাগরিকদের ‘নৈতিক ও সাংস্কৃতিক অবক্ষয় তৈরি করে এমন রেকর্ডিং’ না দেখার বিষয়ে সতর্ক করতে ভিডিওটি প্রচার করে উত্তর কোরীয় সরকার।

ভিডিওতে দেখা যায়, নিজেদের ভুল গভীরভাবে অনুধাবন না করায় দুই কিশোরকে তিরস্কার করছেন অফিসাররা। ১৬ বছর বয়সী দুই কিশোরকে একটি আউটডোর স্টেডিয়ামে শতাধিক ছাত্রের সামনে হাতকড়া পরান তারা।

শুধু টিভি শো (কে-ড্রামা) বা গান (কে-পপ) নয়, দক্ষিণ কোরিয়ার যেকোনও বিনোদন এমনকি টিভিও উত্তর কোরিয়ায় নিষিদ্ধ। কিন্তু নিষিদ্ধ বস্তুমাত্রই আকর্ষণ করে বেশি। তাই কঠোর শাস্তির ঝুঁকিও কেউ কেউ তুচ্ছ জ্ঞান করে।

আগে এ বিষয়ক আইন ভেঙে কোনও অপ্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক ধরা পড়লে তাদের কারাগারে পাঠানোর বদলে যুব শ্রম শিবিরে পাঠানো হতো। সাধারণত সাজা হতো পাঁচ বছরের কম। কিন্তু ২০২০ সালে উত্তর কোরিয়া নতুন আইন প্রণয়ন করে। সেখানে দক্ষিণ কোরীয় বিনোদন দেখা বা বিতরণকে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে পিয়ংইয়ং।

উত্তর কোরিয়ার ছবি, ভিডিও কিংবা সেখানকার জীবনযাপনের যেকোনও চিত্র বহির্বিশ্বের কাছে প্রকাশ করা নিষিদ্ধ। সেজন্যই এই ফুটেজকে ‘দুষ্প্রাপ্য’ হিসেবে উল্লেখ করেছে বিবিসি। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সাউথ অ্যান্ড নর্থ ডেভেলপমেন্ট’ (স্যান্ড) বিবিসিকে এই ভিডিও সরবরাহ করেছে।

নিজ দেশ ছেড়ে পালিয়ে আসা উত্তর কোরীয় এক নাগরিক বিবিসিকে জানিয়েছে, ‘কেউ আমেরিকান সিরিজ দেখে ধরা পড়লেও ঘুষ দিয়ে রক্ষা পেতে পারে। কিন্তু কোরিয়ান ড্রামা দেখে ধরা পড়লে সাজা অনিবার্য।’

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist