Beta
রবিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৪

ভাইকে হত্যার অভিযোগে ট্রান্সকম সিইওর বিরুদ্ধে বোনের মামলা

সিমিন হোসেন ও শাযরেহ হক।
সিমিন হোসেন ও শাযরেহ হক।

ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সিমিন রহমানের বিরুদ্ধে ভাই আরশাদ ওয়ালিউর রহমানকে হত্যার অভিযোগ এনে মামলা করেছেন তার বোন শাযরেহ হক।

মামলায় সিমিন রহমান, তার ছেলে যারাইফ আয়াত হোসেনসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে।

শুক্রবার ঢাকার গুলশান থানায় বোনের বিরুদ্ধে ভাই হত্যার এই মামলা করেন ট্রান্সকম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা লতিফুর রহমানের ছোট মেয়ে।

মামলার এজাহারে শাযরেহ হক বলেছেন, মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী বড় ভাই আরশাদ ওয়ালিউর রহমান, সিমিন রহমান এবং শাযরেহ হক তাদের বাবা ট্রান্সকম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা লতিফুর রহমানের সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির ওয়ারিশ।

“বাবার মৃত্যুর পর থেকেই আমার বড় বোন সিমিন রহমান এবং তার ছেলে যারাইফ আয়াত হোসেন (ট্রান্সকম গ্রুপের হেড অফ ট্রান্সফর্মেশন) এই সম্পত্তির পুরোটা হস্তগত করার চক্রান্তে লিপ্ত হয়। মামলার ১ ও ২ নং আসামি (সিমিন ও যারাইফ) আমাকে ও আমার বড় ভাই আরশাদ ওয়ালিউর রহমানকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার অসৎ উদ্দেশ্যে জালিয়াতির মাধ্যমে বিভিন্ন কাগজপত্র তৈরি করে সম্পত্তি আত্মসাৎ করেন।”

শাযরেহ হক বলেন, এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ও তার বড় ভাই আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এজন্য ২০২৩ সালের ৮ জুন বড় ভাই আরশাদ রহমান তাকে আম-মোক্তারনামা বা পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দেন।

পাওয়ার অব অ্যাটর্নি পাওয়ায় ভাইয়ের হয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা পান শাযরেহ।

আর এপর পর সিমিন আমার বড় ভাই আরশাদের ওপর ক্ষুব্ধ হন বলে উল্লেখ করে শাযরেহ এজাহারে জানিয়েছেন, সেসময় তিনি জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে নিকটজনদের কাছে আশঙ্কাও প্রকাশ করেছিলেন। 

আরশাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে, তিনি নিঃসন্তান ছিলেন বলে একা বসবাস করতেন- এই তথ্য উল্লেখ করে এজাহারে বলা হয়েছে, ১৬ জুন বেলা সোয়া ১১টায় মোসলেম হাওলাদার নামে তার বাবার সময়কার পুরোনো এক গৃহকর্মী শাযরেহকে ফোন করে জানান, আরশাদ মারাত্মক অসুস্থ। ফোন পেয়ে দ্রুত ওই বাসায় গিয়ে বড় ভাইকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান তিনি।

ঘটনার সময় মামলার ১১ আসামিকেই আরশাদের বাসভবনে উপস্থিত থাকতে দেখেছেন জানিয়ে শাযরেহ বলেন, “কিন্তু, তাদের কেউই আমাকে ভাইয়ের মৃত্যুর খবর জানায়নি।

“আমার জানা মতে, বড় ভাইয়ের কোনও জটিল অসুখ ছিল না। ঘটনার ৩/৪ দিন আগে থেকেই চেষ্টা করেও তার সাথে যোগাযোগ করতে পারছিলাম না।”

গুলশানে আরশাদের ভাড়া বাড়ির নিচে একটি অ্যাম্বুলেন্স তাকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিল উল্লেখ করে শাযরহে বলেছেন, সেখানে পৌঁছানোর পর এসকায়েফ ফার্মাসিউটিক্যালসের ম্যানেজার (মেডিকেল অ্যাফেয়ার্স) ডা. মুরাদ হোসেন (৫০) এবং মার্কেটিং অ্যান্ড সেলসের পরিচালক ডা. মুজাহিদুল ইসলামের (৫৫) সঙ্গে সিমিন রহমানকে কথা বলতে দেখেছেন তিনি।

সিমিন তাদের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মৃত্যু সনদের ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দিচ্ছিলেন বলেও এজাহারে লিখেছেন শাযরেহ। তার দাবি, উপস্থিত অন্য আসামিদের সেদিন সন্ধ্যার মধ্যেই আরশাদ ওয়ালিউর রহমানের দাফন সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন সিমিন।

এজাহারে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অ্যাম্বুলেন্সে করে আরশাদকে হাসপাতালে নিয়ে যান ডা. মুরাদ। অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছানোর আগে থেকেই এসকায়েফ ফার্মার অজ্ঞাতনামা কিছু কর্মকর্তা আগে থেকেই হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন।

শাযরেহ বলেন, “ইউনাইটেড হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক আসামিদের বলেন, আমার বড় ভাইয়ের মৃত্যু অনেক আগেই হয়েছে এবং কেন এত দেরি করে লাশ হাসপাতালে আনা হলো?”

কর্তব্যরত চিকিৎসক এসময় আরশাদ ওয়ালিউর রহমানের শারীরিক অবস্থা, তার কোনও দুরারোগ্য রোগ ছিল কিনা এবং কীভাবে তিনি মারা গেছেন সেসব প্রশ্ন করেন বলে জানান শাযরেহ।

এজাহারে তিনি লিখেছেন, চিকিৎসকের এসব প্রশ্নের জবাবে ডা. মুরাদ বলেন, তিনি পারিবারিক চিকিৎসক, তার কাছে সমস্ত তথ্য আছে। পুলিশ রিপোর্টেরও কোনও প্রয়োজন নেই।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist