Beta
বৃহস্পতিবার, ৩০ মে, ২০২৪
Beta
বৃহস্পতিবার, ৩০ মে, ২০২৪

সূর্যগ্রহণ ও রাশিচক্র

communityIcon_jgcu7rvvf7r61
Picture of সকাল সন্ধ্যা ডেস্ক

সকাল সন্ধ্যা ডেস্ক

মানুষের ভাগ্য গণণা ও রাশিচক্র বিদ্যার সঙ্গে সূর্যের সংযোগ অনেক আগে থেকেই। আর তাই গণকের গণণায় সূর্যগ্রহণের গুরুত্বও কম নয়। ঐতিহাসিক নথিপত্র অনুযায়ী, প্রাচীন ব্যাবিলনীয় এবং চীনারা খ্রিস্টের জন্মের আড়াই হাজার বছর আগে থেকেই সূর্যগ্রহণের দিন নির্ধারণ করতে পারতো। চীনে সূর্যগ্রহণকে সম্রাটের স্বাস্থ্য ও সাফল্য গণণার জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হতো। ঠিকঠাক মতো গ্রহণের সময় গণণা না করতে পারলে, রাজ-জ্যোতিষদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতো বিনাবাক্যে। এরকম একজন চীনা সম্রাটের দুইজন জ্যোতিষের নাম রয়েছে ইতিহাস গ্রন্থে। শি এবং হো নামের ওই দুইজন জ্যোতিষ সূর্যগ্রহণের সময় গণণা করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। ফলে তাদের চূড়ান্ত পরিণতি কেউ ঠেকাতে পারেনি। ঐতিহাসিকরা বলেন, প্রায় ৪ হাজার ২০০ বছর আগে খ্রিস্টপূর্ব ২১৩৪ সালের ২২ অক্টোবর ওই সূর্যগ্রহণটি হয়েছিল। এখন পর্যন্ত মানবেতিহাসে রেকর্ড করা সূর্যগ্রহণের আদিতম তারিখ সেটি, যার জন্য দুইজন জ্যোতিষকে প্রাণ দিতে হয়েছিল।

৮ এপ্রিলকে কেন্দ্র করে সারাবিশ্বের জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের পাশাপাশি জ্যোতিষরাও সোশাল মিডিয়া বিশেষ করে ইউটিউব সরগরম রেখেছেন গত একমাস।

আরও একটি কারণে জ্যোতিষদের কাছে এই সূর্যগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ কেননা ১১ বছরের সূর্য চক্র শেষ হতে যাচ্ছে। সূর্য চক্র শেষ হওয়া মানে সূর্যের চৌম্বকীয় ক্ষেত্র পরিবর্তন হওয়া। অর্থাৎ প্রতি ১১ বছরে সূর্যের উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরু যার যার অবস্থান পরিবর্তন করে বিপরীতমুখী অবস্থানে যায়। বিজ্ঞানীরা যেমন এসময়ে সূর্যের সোলার স্পট পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নানা বিশ্লেষণ দাঁড় করান, জ্যোতিষরাও তেমনি শাস্ত্রীয় অংক কষে বিভিন্ন রাশির ভাগ্য গণণা করেন, ভবিষ্যদ্বাণী করেন পৃথিবীর নানা ঘটনার।

বর্তমান সূর্যগ্রহণটি ঘটতে যাচ্ছে মেষ রাশিতে। মেষ রাশিচক্রের প্রথম রাশি। তবে কেবল এক সূর্যগ্রহণের ওপরই ভাগ্য নির্ভর করে না। বরং সূর্যগ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে রাশিতে অন্যান্য গ্রহ নক্ষত্রের অবস্থানও দেখতে হয়।

এপ্রিলের পৃথিবী থাকবে এক রোলার কোস্টারে

পুরো এপ্রিল মাসটি জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের জন্য একটি ঘটনাবহুল মাস হতে যাচ্ছে।

এপ্রিলের সূর্যগ্রহণের আগেই বুধ গ্রহ মেষ রাশির ঘরে পশ্চাদগামী অবস্থানে রয়েছে পয়লা এপ্রিল থেকে। এ অবস্থা থাকবে এপ্রিলের ২৫ তারিখ পর্যন্ত। মেষ রাশিতে সূর্যগ্রহণ মানে নতুনভাবে শুরু করা। পশ্চিমা জ্যোতিষশাস্ত্রে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচিত কাইরনও মেষ রাশিতে থাকবে ঠিক সূর্য গ্রহণের সঙ্গেই। সূর্য গ্রহণের আগেই ঠিক ২৫ মার্চ চন্দ্রগ্রহণ গিয়েছে। ২৫ মার্চের চন্দ্রগ্রহণ ছিল ‘অতীত কাতরতা’। তার মানে হচ্ছে সবকিছু ঝেড়ে ফেলে ৮ তারিখেই শুরু। এখানে একটু কাইরন প্রসঙ্গ না বললেই নয়।

কাইরন হচ্ছে প্রশান্তি বা হিলিং এর প্রতীক। কিভাবে? সেটির পেছনে একটি মিথ রয়েছে। গ্রিক মিথলজি অনুযায়ী, কাইরন ছিলেন একজন স্যান্টর। স্যান্টর হচ্ছে সে ধরনের প্রাণী যার মুখটা মানুষের এবং বাকি সবকিছু ঘোড়ার আকৃতির। স্যান্টরকে গ্রিক মিথলজিতে মানুষের সমান মর্যাদাই দেওয়া হয়নি। তবে কাইরন ছিলেন সবচেয়ে ব্যতিক্রম স্যান্টর- শরীর ও মনের দিক থেকে। তার পুরো শরীরটাই আসলে মানুষের ছিল। পেছনের দিকে ঘোড়ার শরীরের দুই পা-ও দেহসমেত জোড়া লাগানো ছিল। কাইরন গ্রিক দেবতা জিওসের ছেলে প্রমিথিওস, অ্যাপোলো, হারকিউলিসসহ অন্যান্যদের শিক্ষক ছিলেন। তাকে সবাই জ্ঞান-গরীমার জন্য বিপুল শ্রদ্ধা করতো। হারকিউলিসকে প্রশিক্ষণ দিতে গিয়ে তিনি একবার তার অস্ত্রের দ্বারা ভুলক্রমে আহতও হয়েছিলেন। এ কারণে তাকে আহত শিক্ষকও বলা হয়। সে যাই হোক, মূল মিথটা হচ্ছে এরকম- প্রমিথিউস মর্ত্যে নেমে মানুষের সঙ্গে আমোদ-ফূর্তি করতে খুব পছন্দ করতো। একবার তার মনে হলো, যাদের সঙ্গে সে এতো আনন্দ করে, তাদেরকে উপহার হিসেবে ‘অগ্নি’ দেবে। বাবা জিউসের অমতে সে আগুন নিয়ে যায় মর্ত্যে। একথা জানতে পেরে দেবতারাজ জিউস তাকে কঠিন শাস্তি দেন। একটি পাহাড়ের ওপর বেঁধে রাখে। সেখানে প্রতিদিন সকালে এসে একটি ঈগল পাখি তার কলিজা ঠুকরে খায়। সেই কলিজা আবার জন্মায়। পরদিন সকালে এসে আবার সেই ঈগল সেটা খুবলে নেয়। প্রমিথিউসের চরম যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে তার শিক্ষক কাইরন জিউসের কাছে গিয়ে আর্জি জানায়, প্রমিথিউসের বদলে তাকে শাস্তি দেওয়া হোক। কাইরন তখন খুবই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। নিজের সর্বস্ব দিয়ে তিনি প্রমিথিউসকে মুক্ত করতে চান। দেবতা জিউস রাজি হন এবং কাইরনকে একটি মহাকাশের বস্তু বানিয়ে দেন। পরে হারকিউলিস গিয়ে প্রমিথিউসকে উদ্ধার করে।

এই ঘটনা বলা হলো এ কারণে যে, ৮ তারিখের সূর্য গ্রহণের সঙ্গে রাশিচক্রের মিল খুঁজতে গেলে এ ঘটনার দর্শনগত গভীরতার কথা ভাবতে হবে। নতুন শুরু মানে নিজেকে দিয়ে শুরু। রাশিচক্রের প্রথম ঘর মেষও ‘আত্ম’ বা ‘নিজ’ এর কথা বলে। কাইরন মানে আত্মপ্রশান্তি। সেই আত্মপ্রশান্তি নিজের কিছু বিসর্জন দেওয়ার মধ্য থেকেই আসে। বুধ গ্রহের পশ্চাদগামিতাকে তুলনা করা যায়, অতীতের সমাজিক ও ব্যক্তিক সম্পর্কের কারণে নিজের মনের কষ্ট পাওয়ার সঙ্গে। অর্থাৎ ৮ এপ্রিলের সূর্যগ্রহণের জ্যোতিষবিদ্যাগত অর্থ করলে দাঁড়ায়- নিজেকে খুঁজে ফেরা। নিজের কষ্টগুলোকে বিদায় করে দেওয়া। বড় ধরনের ঝাঁকুনি দেওয়া এবং গ্রিক মিথের আগুনের দেবতা প্রমিথিউসের মতো শাস্তির ঝুঁকি নিয়ে মানুষের উপকারে আসার চিন্তা করা। কিংবা আলোকিত হয়ে নতুন পথের সন্ধান করা।

এপ্রিলেরই ৮ তারিখেই নতুন চাঁদ হবে। এটিও একটি শুরুর লক্ষণ। এপ্রিলের ১০ ও ১১ তারিখে মঙ্গল ও শনি মীন রাশির ঘরে মিলিত হবে। যার অর্থ দাঁড়ায় স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনার সঙ্গে সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী কিছু স্বপ্ন বাস্তবায়নে হাত দেওয়া।

২০ তারিখে বৃহস্পতি ও ইউরেনাস মিলিত হবে বৃষ রাশির ঘরে। জুপিটার এবং ইউরেনাস মানেই বিশাল চমক।

এইসব গ্রহ নক্ষত্র বিচার করে সারা পৃথিবীর জ্যোতিষরা বলছেন, এই সূর্যগ্রহণের পর থেকেই পৃথিবীতে বড় পরিবর্তন আসবে। তারা বলছেন, আচমকা কোনও ঘটনার মধ্য দিয়ে বিশ্ববাসী আবার শান্তির জন্য আন্দোলন শুরু করতে পারে। অর্থাৎ জ্যোতিষিরা এমনকিছু ঘটার আশঙ্কা করছেন, যা ধ্বংসের মধ্য দিয়ে আবার নতুন করে বিশ্ববিবেককে ঐক্যবদ্ধ করবে। এর সঙ্গে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পূর্বাভাসও তারা দিয়েছেন। বিশেষ করে সূর্যগ্রহণ দেখা যাওয়ার আগেই ভূমিকম্প হওয়ার ব্যাপারটি, খোদ ইসরায়েলেই ফিলিস্তিনীদের পক্ষে বিক্ষোভ হওয়া ও হামলা বন্ধের আন্দোলন শুরু হওয়া জ্যোতিষদের দেওয়া পূর্বাভাসের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। তারা এও বলছেন, মার্টির লুথার কিং-এর মতো কোনও মানবতাবাদী নেতার আততায়ীর হাতে মৃত্যু হতে পারে, কিংবা মাস ছয়েকের মধ্যেই বিশ্বের বড় কোনও নেতার মসনদ কেঁপে উঠতে পারে। এছাড়া বৈশ্বিক আবহাওয়াতেও বড় আঘাত আসতে পারে।

তবে এসব ঘটনা যে রাতারাতি হবে তা নয়। এক-দুই মাস লাগতেই পারে।

ব্যক্তির রাশিফলে এপ্রিলের প্রভাব

আগেই বলা হয়েছে প্রায় সব রাশির জন্য এপ্রিল মাসটি একই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ। গ্রহের অবস্থান বিচারে এই মাসের সূর্যগ্রহণ কোন রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য কী ভবিষ্যদ্বাণী করছে সেটি একবার দেখে আসা যাক।

মেষ (অগ্নি রাশি: ২১ মার্চ-২০ এপ্রিল)

এপ্রিলে মেষ রাশির জাতক-জাতিকারা একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্যোতিষ সংকেতের মুখোমুখি হচ্ছেন- তাদের রাশিতেই হচ্ছে সৌরগ্রহণ। এটি শক্তিশালী নতুন শুরু এবং নিজের ভাগ্যের সাথে পুনঃসংযোগের ইঙ্গিত দেয়। উত্তর নোডের সঙ্গে সারিবদ্ধ এই গ্রহণটি একজনের সত্যিকারের পথ অনুসরণের উপর জোর দেয় এবং বিশেষ করে মেষ রাশির জাতক-জাতিকাদের মধ্যে ১৯ ডিগ্রির কাছাকাছিতে গ্রহ আছে এমন ব্যক্তিদের জন্য কর্মজীবন, সম্পর্ক বা ব্যক্তিগত পরিচয়ে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে পারে সূর্যগ্রহণ।

এছাড়াও, মেষ রাশি তাদের রাশিতে বুধ গ্রহের বিপরীতগামী প্রভাবের মুখোমুখি হচ্ছে, যা আত্মবিশ্লেষণ, অতীতের পুনর্বিবেচনা এবং পরিকল্পনায় সম্ভাব্য বিঘ্নের কথা মনে করিয়ে দিতে পারে। এই সময়টি নমনীয়তা এবং খাপ খাওয়ানোর ক্ষমতা বাড়ানোর কাজে লাগানো যেতে পারে।

মঙ্গল ও শনি মেষ রাশির ১২তম ঘরে একটি নতুন চক্র শুরু করবে এ মাসেই। মেষ রাশির জাতক-জাতিকাদের গোপন চ্যালেঞ্জগুলোর মোকাবিলা করতে, স্ব-ধ্বংসাত্মক আচরণ দূর করতে এবং আগামী দুই বছরে স্থিতিস্থাপকতা গড়ে তুলতে এটি ইতিবাচক কাজে দিবে। আসক্তি, অপচয়ের অভ্যাস বা অভ্যন্তরীণ সংগ্রামের মোকাবিলা করা সহজ হবে।

একই সময়ে, মেষ রাশির দ্বিতীয় ঘরে বিরল বৃহস্পতি-ইউরেনাসের মিলিত অবস্থান আগামী ১২-১৪ বছরে আর্থিক প্রবৃদ্ধি, স্বচ্ছলতা এবং স্বনির্ভরতা সুযোগের সূচনা করবে। মেষ রাশির জাতক-জাতিকারা হঠাৎ আর্থিক লাভ, উদ্ভাবনী ধারণা বা নিজের আর্থিক দিকটিতে পরিবর্তনের লক্ষণ পাবেন। যা দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা এবং স্বাধীনতায় পৌঁছে দেবে তাদেরকে।

বৃষ (মাটি রাশি: ২০ এপ্রিল-২০ মে)

এপ্রিল মাসের সূর্য গ্রহণ মেষ রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য গভীর আত্মিক অনুসন্ধান এবং জীবন পরিবর্তনকারী সুযোগ নিয়ে আসছে। জ্যোতিষীদের মতে, এই মাসটিতে বৃষের ১২ তম ঘরে সূর্যগ্রহণ এ রাশির জাতক-জাতিকাদের চিন্তাভাবনা, অবচেতন অনুসন্ধান এবং আধ্যাত্মিক জাগরণের সময় হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় তাদের ইনটুইশন কাজ করবে ইতিবাচকভাবেই। মনের প্রশান্তি সুদৃঢ় হবে।

১১ নম্বর ঘরে শনি ও মঙ্গলের মিলিত অবস্থান বন্ধুত্ব, সামাজিক দায়িত্ব এবং দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যের ক্ষেত্রে নতুন দুই বছরের একটি চক্রের সূচনা করবে। বৃষ রাশির জন্য পরামর্শ হলো তাদের লক্ষ্য অর্জনে শৃঙ্খলাবদ্ধ, সংগঠিত এবং অধ্যবসায়ী হতে হবে।

বৃহস্পতি ও ইউরেনাসের মিলিত অবস্থানের প্রভাবও পড়বে ভালোই। বিশেষ করে বৃষ রাশিতে ২২ ডিগ্রির কাছাকাছি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান থাকা জাতক-জাতিকারা ‘জীবনে একবারের জন্যই আসে’ এমন সুযোগ পেতে পারেন। এটি হঠাৎ সাফল্য, অনুপ্রেরণা এবং প্রাচুর্যের ইঙ্গিত দেয়, যা আগামী ১৪ বছরে জীবন বদলে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটাতে পারে।

মিথুন (বায়ু রাশি: ২১ মে-২০ জুন)

মিথুন রাশির জাতক-জাতিকাদের মাসটি শুরু হবে ১১ তম ঘরে বুধের বিপরীতগামী অবস্থানের সঙ্গে। এর ফলে বন্ধুত্ব, দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য এবং সামাজিক সম্পর্ক নিয়ে এ জাতির জাতক-জাতিকারা পুনরায় গভীরভাবে বিশ্লেষণে বসবেন। পরিচিতজনদের সঙ্গে পুনর্বিবেচনা ও পুনঃসংযোগ এবং সামাজিক গতিশীলতাতেও একটি পরিবর্তন আসবে।

৮ এপ্রিল সূর্যগ্রহণও একই ঘরে অর্থাৎ ১১ নম্বর ঘরে ঘটতে যাচ্ছে, যা সামাজিক মহলে, গোষ্ঠীগত কার্যকলাপ এবং আকাঙ্ক্ষায় নতুন সূচনা করে। এই শক্তিশালী গ্রহণ নতুন শক্তি, সম্ভাব্য নতুন বন্ধুত্ব এবং সামাজিক যোগাযোগে বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে আসবে। এটি সামাজিক মেলামেশা সংক্রান্ত অতীত ক্ষত সারিয়ে উঠতেও সাহায্য করবে। আরও সত্যিকারের এবং গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলার জায়গা করে দিবে।

১০ এপ্রিল, দশম ঘরে শনি ও মঙ্গলের মিলিত অবস্থানের সাথে একটি নতুন দুই বছরের চক্র শুরু হবে, যা কর্মজীবন, দায়িত্ব এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষার দিকে ফোকাস করবে।

এর প্রভাবে পেশাদার কাজে ধৈর্য, শৃঙ্খলা এবং কঠোর পরিশ্রমে এ রাশির জাতক-জাতিকারা মনোযোগ দিবেন। কর্তৃপক্ষ বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে চ্যালেঞ্জ দেখা দিতে পারে, কিন্তু দৃঢ়সংকল্প এবং মনোযোগের সঙ্গে কাজ করলে সাফল্য নিশ্চিত।

মাসের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনাটি ২০ এপ্রিল ঘটবে, যখন বৃহস্পতি ১২ তম ঘরে ইউরেনাসের সঙ্গে মিলিত হবে। এই বিরল সারিবদ্ধতা সাফল্য, হঠাৎ উপলব্ধি এবং অবচেতন মানসিক সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্তি দেয়। মিথুন রাশির জাতক-জাতিকারা বিশেষ করে বিদেশ ভ্রমণ, আধ্যাত্মিক অনুসন্ধান বা গবেষণা কার্যক্রমে এ মাস থেকেই দারুণ ফল পাওয়া শুরু করবেন। তাদের ইনটুইশনগুলো ফলে যাবে। অপ্রত্যাশিতভাবে নিজের আর্থিক সমৃদ্ধির সুযোগ আসবে। 

কর্কট রাশি (জলীয় রাশি: ২১ জুন-জুলাই ২২)

কর্কট রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য এপ্রিল মাসের পূর্বাভাস হলো তার কর্মজীবন, ব্যক্তিগত বিকাশ এবং দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যগুলোর জায়গায় বড় পরিবর্তন আসবে।

৮ এপ্রিলে মেষ রাশিতে সূর্য গ্রহণের কারণে দীর্ঘদিন মাথার মধ্যে থাকা উদ্যোগ, কিংবা কর্মজীবনে দীর্ঘ পরিশ্রমের সুফল হিসেবে স্বীকৃতিও পাবেন কর্কটে থাকা ব্যক্তিরা। এই গ্রহণটি হচ্ছে তাদের ১০ নম্বর ঘরে।

তবে বুধ গ্রহের অবস্থান ধৈর্যের প্রয়োজন রয়েছে। এটি এপ্রিল জুড়ে কর্কটকে সবচেয়ে বেশি বিরক্ত করে যাবে। ৬ নম্বর অর্থাৎ রুটিন ও কাজের ঘরে এটি প্রভাব ফেলবে। প্রত্যেকটি নথি বারবার পরীক্ষা না করলে ভুল হতে পারে। আবার দীর্ঘযাত্রায় সংকটেও পড়তে পারেন কর্কটের জাতক-জাতিকারা। নমনীয় এবং খাপ খাইয়ে চলাই শ্রেয়। প্রয়োজনে পরিকল্পনা পরিবর্তনও করা ভালো।

তবে শনি ও মঙ্গলের অবস্থান ১০-১১ তারিখ থেকে কর্কটের দশম ঘরে থাকবে। আগামী দুই বছর এই দুইটি গ্রহের প্রভাবে কর্কট কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা এবং ধৈর্যশীল হয়ে উঠবে। এই শক্তিশালী  অবস্থান কর্কটদের পেশাদার অগ্রগতি ও শিক্ষাগত তাড়নাকে (নবম ঘর) বাড়াবে। তাছাড়া আইনি বিষয় (৮ম ঘর) এবং ভ্রমণের বাধাও (৯ম ঘর) দূর করবে।

সিংহ (অগ্নি রাশি: ২১ জুলাই-২১ আগস্ট)

সিংহ রাশির সূর্যগ্রহণ পড়েছে মেষ অর্থাৎ প্রথম ঘরে। এটি এ রাশির মানুষের মধ্যে অনুসন্ধিৎসু এবং জ্ঞানপিপাসু মনকে জাগ্রত করবে। কেননা এটি ভ্রমণ, উচ্চশিক্ষা, অথবা দর্শনের পরিবর্তন আনতে পারে। এই রাশির জাতকরা নতুন দিগন্তের দিকে এগিয়ে যাবেন। পরিশ্রম ও মনোযোগ ফিরিয়ে আনার জন্য এ সময়টি খুব ভালো। 

১০ এপ্রিল, মেষ রাশিতে অষ্টম ঘর বা হাউজ অব ট্রান্সফরমেশনে শনি-মঙ্গল মিলন আর্থিক বিষয় বা অংশীদারিত্বের মধ্যে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে এ রাশির জাতক-জাতিকাদের সহায়তা করবে। এটি এ রাশির জন্য ভিত্তি সুদৃঢ় করার এবং অস্পষ্টতা বা উদ্বেগ দূর করার সুযোগ। মনে রাখতে হবে, ধৈর্যই মূল চাবিকাঠি!

২০ এপ্রিল, বৃষ রাশির দশম ঘরে  বৃহস্পতি-ইউরেনাস মিলন অপ্রত্যাশিত সুযোগ এবং ক্যারিয়ারে সাফল্যের সূচনা করবে। সিংহ রাশির জীবনে একবারই ঘটে যাওয়া এই শক্তিশালী দিকটি প্রাচুর্য এবং সাফল্যের দিকে একটি মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। অপ্রত্যাশিত পরিবর্তনগুলোকে আলিঙ্গন করার পরামর্শ দিয়েছেন জ্যোতিষরা সিংহ রাশির জন্য।  কারণ এগুলো তাদেরকে শেষ পর্যন্ত পরিপূর্ণতা এবং স্বীকৃতির স্থানে নিয়ে যাবে।

মনে রাখতে হবে, পুরো মাস ধরে বুধ গ্রহ বিপরীতগামী থাকায়, যোগাযোগে ঝামেলা হতে পারে এবং পরিকল্পনাগুলো পরিবর্তন করার প্রয়োজন হতে পারে। এই সময়ে ধৈর্য এবং স্পষ্ট যোগাযোগ অপরিহার্য। অতীত ধারণাগুলো পুনর্বিবেচনা করতে হবে এবং আপনার কৌশলগুলো পরিমার্জন করুন। অনুপ্রেরণাকারী পরামর্শদাতা বা শিক্ষকদের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ করার জন্য এটি একটি ভালো সময় হতে পারে, যারা মূল্যবান দিকনির্দেশনা দিতে পারবেন।

রূপান্তরের এই মাসে এগিয়ে যাওয়ার সময়, মনে রাখতে হবে যে বৃদ্ধির জন্য প্রায়শই কিছু জিনিস ছেড়ে দেওয়া প্রয়োজন।

নেতিবাচক অভ্যাস বা আপনার অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টিকারী ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়ার জন্য এই সময়টিকে একটি সুযোগ।

কন্যা রাশি (মাটি রাশি: ২২ আগস্ট-২২ সেপ্টেম্বর)

এপ্রিল ২০২৪ কন্যা রাশির জাতকদের জন্য জ্যোতিষীদের মতে এই মাসের শুরুতেই কন্যা রাশির অধিপতি বুধ গ্রহ মেষ রাশিতে উল্টাপথে হাঁটা শুরু করবে, যা ২৫শে এপ্রিল পর্যন্ত স্থায়ী থাকবে। এই সময়টি কন্যা রাশিকে অর্থনৈতিক বিষয়াদিতে আরও নমনীয় হতে এবং গভীর মনস্তাত্ত্বিক প্রশ্নাবলীর স্ব-মূল্যায়নে জোর দিতে হবে। এছাড়াও, সূর্যগ্রহণ কন্যা রাশির অষ্টম ঘরে প্রভাব ফেলবে, যা এক বছরব্যাপী মনস্তাত্ত্বিক বিকাশ ও মানসিক রূপান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করবে। এই গ্রহণ হঠাৎ উপলব্ধি জাগিয়ে তুলতে পারে, যা কন্যা রাশির ভেতরের দুনিয়াকে নাড়িয়ে দেবে এবং আবেগগতভাবে তাকে প্রশান্তি দিবে।

১০ এপ্রিল কন্যা রাশির সপ্তম ঘরে মঙ্গল ও শনির যোগ দুই বছরের একটি চক্রের সূচনা করবে, যেখানে সম্পর্কগুলোতে ধৈর্য ও আত্ম-নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব বেশি থাকবে। কন্যা রাশির জাতকরা অন্যদের সঙ্গে মেশার চ্যালেঞ্জ এবং বাধার সম্মুখীন হতে পারেন। সীমানা বজায় রাখতে এবং দ্বন্দ্ব কার্যকরভাবে মোকাবিলার জন্য সচেতন প্রচেষ্টার প্রয়োজন হবে।

এই সব প্রভাবের মধ্যে, ২০ এপ্রিল কন্যা রাশির নবম ঘরে বৃহস্পতি ও ইউরেনাসের বিরল সম্মিলন ঐশ্বরিক জ্ঞান এবং উন্নতির সুযোগ নিয়ে কন্যা রাশির জাতক-জাতিকাদের মধ্যে আগ্রহের সৃষ্টি করবে।

বিশেষ করে উচ্চশিক্ষা, আধ্যাত্মিকতা এবং আন্তর্জাতিক বিষয় সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে কন্যা রাশির মানুষেরা অপ্রত্যাশিত অনুপ্রেরণা পেতে পারেন অথবা আত্ম-অবিষ্কারের যাত্রা শুরু করতে পারেন, যা আগামী ১৪ বছরে প্রচুর আশীর্বাদ এবং ইতিবাচক রূপান্তরের পথ সুগম করবে।

এপ্রিল মাস জুড়ে, কন্যা রাশির জাতকদের পরিবর্তনকে আলিঙ্গন করতে, স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে এবং ব্যক্তিগত ও আধ্যাত্মিক উন্নতির সুযোগ গ্রহণ করতে বলা হচ্ছে। সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও, গ্রহের অবস্থান বর্ণিত ক্ষেত্রে তাদেরকে সাফল্যে অর্জনে সহায়তা দিবে।

তুলা (বায়ু রাশি: ২৩ সেপ্টেম্বর-২২ অক্টোবর)

তুলা রাশির জাতকদের রোমাঞ্চকর ৮ এপ্রিলের গ্রহণ সপ্তম ঘরে প্রভাব ফেলবে। সপ্তম ঘর হলো হলো ভারসাম্যের ঘর, যার মধ্যে পড়ে অংশীদারিত্ব, বিয়ে, প্রেম এবং ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয়। কূটনীতি, চুক্তি, এবং অফিসের কলিগদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং কাজের ভারসাম্যের কথা বলছে এ ঘরটি।

পরিবর্তন আসছে। এটা হতে পারে নতুন কোনো সম্পর্ক, পুরনো প্রেমের পুনর্জন্ম অথবা বর্তমান সম্পর্কের একটা মোড়।২৫শে এপ্রিল পর্যন্ত বুধ গ্রহ পেছনে হাঁটছে, ফলে যোগাযোগে সমস্যা হতে পারে। তাই মেসেজ ও ইমেল পাঠানোর আগে একটু বেশি সাবধান থাকতে হবে।

এপ্রিলের শেষের দিকে, তুলার অষ্টম ঘর ‘হাউজ অব ট্রান্সফরমেশনে’ বৃহস্পতি ও ইউরেনাস গ্রহের মিলন আগামী ১৪ বছরের জন্য এ রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য প্রচুর সুযোগ এনে দেবে। অর্থনৈতিক দিক থেকে ভাগ্য সহায় হতে পারে। কোনো সহযোগিতা, বিনিয়োগ, অথবা উত্তরাধিকার – ধন সঞ্চয়ের সম্ভাবনা প্রবল। আর এই সুরক্ষার ধারণা স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। শনি ও মঙ্গল গ্রহের ষষ্ঠ ঘরে মিলন তুলা রাশির জাতকদের (স্বাস্থ্য) স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলা এবং অপ্রয়োজনীয় মানসিক চাপ থেকে দূরে রাখবে। শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে মনোযোগ দেওয়ার পাশাপাশি প্রেম ও অর্থের নতুন সম্ভাবনার দিকে চোখ রাখতে হবে।

বৃশ্চিক (জলীয় রাশি: ২৩ অক্টোবর-২১ নভেম্বর)

ষষ্ঠ ঘরে সূর্যগ্রহণ বৃশ্চিক রাশির কর্মক্ষেত্র, স্বাস্থ্য এবং দৈনন্দিন রুটিনের ক্ষেত্রে পরিবর্তন নিয়ে আসবে। এটি নতুন অভ্যাস গ্রহণ ও জীবনযাপনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার সময়।

পঞ্চম ঘরে মঙ্গল-শনি যোগে বৃশ্চিকের সৃজনশীলতা, প্রেম এবং আত্মপ্রকাশের ক্ষেত্রে নতুন দুই বছরের চক্রের সূচনা করে। বৃশ্চিক রাশিকে এই ক্ষেত্রে আরও শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং লক্ষ্যনির্ধারিত হতে উৎসাহিত করে, সীমানা নির্ধারণ করে এবং লক্ষ্য অর্জনে কঠোর পরিশ্রম করতে বলে।

সপ্তম ঘরে বৃহস্পতি-শনি যোগ বৃশ্চিকের ক্ষেত্রে বিরল ও শক্তিশালী ঘটনা সম্পর্ক, অংশীদারিত্ব, কূটনীতি, চুক্তি এবং সহযোগিতায় সুযোগ ও প্রসার লাভের ইঙ্গিত দেয়। বৃশ্চিক রাশিকে নতুন সংযোগ ও ধারণা গ্রহণ করতে উৎসাহিত করে, যা আগামী ১৪ বছরে আর্থিক সমৃদ্ধি এবং ব্যক্তিগত বিকাশ ঘটিয়ে যাবে।

ধনু (অগ্নি রাশি: ২২ নভেম্বর-২০ ডিসেম্বর)

ধনু রাশির জাতক-জাতিকাদের সূর্যগ্রহণ হবে পঞ্চম ঘরে । অর্থাৎ ভালোবাসা ও প্রেমের ঘরে। এ সময়ে তারা মনের মতো সঙ্গী খুঁজে পাবেন। বিয়ের জন্য বেছে নিতে পারেন আগে থেকে পরিচয় থাকা এমন কাউকে যাকে তারা মন থেকে ভালোবাসেন বলে উপলব্ধি করবেন। বেছে নেওয়া মানুষটিও ধনুর জাতক-জাতিকাদের ব্যাপারে একই মনোভাব প্রকাশ করবেন।

এসময় পঞ্চম ঘরে ধনু জাতক-জাতিকাদের বুধ গ্রহের বিপরীতগামিতাও প্রভাব ফেলবে। তবে সেটি মূলত প্রেম, ভালোবাসা বা রোমান্স নিয়ে নিজের ভেতরে সাময়িক দ্বন্দ্ব তৈরি করা ছাড়া আর কোনও সমস্যা তৈরি করবে না। এই মনে হবে যাকে ভালোবাসেন তাকেই খুঁজছিলেন, আবার দেখা যাবে নিজেকে নিজেই তার সম্পর্কে প্রশ্ন করছেন। কেবল এ মাসেই এটি থাকবে, সামনের মাসে কেটে যাবে।

চতুর্থ ঘরে শনি ও মঙ্গলের মিলিত অবস্থান বাড়ি, পরিবার এবং মানসিক সুস্থতা দৃঢ় করবে। তবে ধনু রাশির জাতক-জাতিকাদের দুই বছরের মধ্যে অতীতের যেকোনো মীমাংসাবিহীন সমস্যা মোকাবিলা করতে হতে পারে। ।

বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি ঘটনা হলো ষষ্ঠ ঘরে বৃহস্পতির সঙ্গে ইউরেনাসের মিলিত অবস্থান। এটি কাজ, স্বাস্থ্য এবং অন্যের সেবা ক্ষেত্রে সৃজনশীল কাজের সুযোগ এনে দেবে। উদ্ভাবনী শক্তি দ্বারা ধনু তার নিজের স্বকীয় সত্ত্বাকে সত্যিকার অর্থে প্রকাশ করতে পারবে। হঠাৎ স্বাস্থ্যের উন্নতি, ঋণ মুক্তি, অথবা চাকরিতে ভালো অগ্রগতি ধনু পেতে পারে আগামী ১৪ বছর নাগাদ, যার শুরুটা এই এপ্রিলের ২০ তারিখেই।

মকর রাশি (মাটি রাশি: ২১ ডিসেম্বর-১৯ জানুয়ারি)

মকরের ২৫ মার্চের চন্দ্রগ্রহণটি হয়েছিল ১০ম ঘরে। সূর্যগ্রহণ হচ্ছে ৮ এপ্রিল তারিখে ৪ নম্বর ঘরে। তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে পরিবর্তন আসবে। ১০ম ঘর হচ্ছে ক্যারিয়ারের। পুরানো ক্যারিয়ার ছেড়ে নতুন ক্যারিয়ারের দিকে মনোযোগ বেশি দিতে পারে মকর। কেননা চন্দ্রগ্রহণের সময়টি ছিল ত্যাগের ঘর।

৪ নম্বর ঘরটি হচ্ছে পরিবার ও প্রিয়জনের। মানসিক শান্তি, ব্যক্তি জীবন, বাবা-মা, স্ত্রী ও সন্তান ইত্যাদি সূর্যগ্রহণের কারণে মকরের কাছে প্রাধান্য পাবে। ব্যক্তি জীবনে রাতারাতি পরিবর্তনের কারণে পরিবারের কিছু মানুষকে ছাড়তে হতে পারে, বাসা পরিবর্তন করে নতুন জায়গায় ওঠার শুভযোগ তৈরি হতে পারে, সম্পত্তি নিয়ে আলাপ হতে পারে, পুরনো কাজ বা আইডিয়া টাকাও নিয়ে আসতে পারে। কেননা, এপ্রিলের ২০ তারিখের কথা তো মনে রাখতেই হবে।

অন্যদিকে এই রাশির বুধ গ্রহ রয়েছে ৬ নম্বর ঘরে। এটি রুটিন কাজ, স্বাস্থ্য, চাকরি ইত্যাদি নির্দেশ করে। বুধ গ্রহের বিরূপতার কারণে এসব বাধাগ্রস্ত হবে। গা ম্যাজম্যাজ করবে, চাকরিকে লাথি মেরে অন্যকিছু করতে ইচ্ছা করবে ইত্যাদি ইত্যাদি। এমন হতে পারে, সব রুটিন সাজিয়ে কাজ করার জন্য নেমে দেখা গেল কিছুই হচ্ছে না।

তিন নম্বর ঘরে শনি ও মঙ্গল ১০ ও ১১ তারিখে মিলিত হবে। দুই বছরের জন্য এটি ফল দিবে। শনি হচ্ছে মকরের নিজের গ্রহ। মঙ্গল হচ্ছে যোদ্ধা গ্রহ। কাজেই ঝুঁকি নেওয়া ও সাহসের পরীক্ষায় মকর রাশির জাতকরা এগিয়ে থাকবেন। ঝুঁকি নিলে ফলও পাবেন। তবে ঝুঁকি নিয়ে কোনও ভ্রমণ করতে গেলে এ মাসে অন্তত উল্টা ফল পাবেন।

বৃহস্পতি ও ইউরেনাস পঞ্চম ঘরে মিলবে। পঞ্চম ঘর মানে, বিনোদন-অবসর, খেলা, ঝুঁকি, রোমান্স ইত্যাদির প্রতীক। বৃহস্পতি হলো সম্পদের প্রতীক ও ইউরেনাস দ্রুতগামিতার। একইসঙ্গে এদের মেষ রাশিতে মিলিত হওয়া মকর রাশির জাতকদের জন্য হঠাৎ সম্পদ প্রাপ্তির ইঙ্গিত করে। তবে বাচ্চা হওয়া এবং মাথায় দুর্দান্ত আইডিয়া আসাতেও এ দুই গ্রহের সমন্বয় ভালো। এই দুইটি গ্রহ আবার মকরের ক্ষেত্রে ১৪ বছর পরে গিয়ে এক হবে সপ্তম ঘরে- যেটি ব্যবসা, অংশীদারিত্ব, বিয়ে, পার্টনারশিপ, চুক্তির প্রতীক। অর্থাৎ এমন হতে পারে এ মাসে মকর রাশির জাতকরা এমন কিছু করবে যেটির ফল ১৪ বছর ধরে পাবেন।

কুম্ভ (বায়ু রাশি: জানুয়ারি ২০-ফেব্রুয়ারি ১৮)

কুম্ভ রাশির চন্দ্রগ্রহণ ঘটেছিল নবম ঘরে, যেটিকে বলা হয় ‘হাউস অব পারপাস’। এর মধ্যে পড়ে ভ্রমণ এবং বৈদেশিক বিষয়, সংস্কৃতি, সম্প্রসারণ, আইন ও নৈতিকতা, শিক্ষা ও জ্ঞান, দার্শনিক আগ্রহ, বিশ্বাস ইত্যাদি।

আর এ রাশির সূর্যগ্রহণ হতে যাচ্ছে তৃতীয় ঘরে, যেটাকে বলা হয় ‘হাউস অব শেয়ারিং’ অর্থাৎ যোগাযোগ, বিতরণ, উদারতা, বুদ্ধিমত্তা, উন্নয়ন, ভাইবোন, পরিবহন ইত্যাদি ইত্যাদি।

সূর্যগ্রহণ পুরনোকে ফেলে দিয়ে উদ্দীপনার সঙ্গে কুম্ভ রাশিকে নতুন মতবাদ ও বিশ্বাস গ্রহণের পথে নিয়ে যাবে। ৮ এপ্রিল মেষ রাশিতে গ্রহণ কুম্ভ জাতকের উদ্যম বাড়াবে পরিবর্তনের পথে। সম্পর্ক, দক্ষতা, বা সহযোগিতা বাড়বে।

১০ এপ্রিল থেকে দ্বিতীয় ঘরে শনি ও মঙ্গলের যুক্তি দুই বছরের সময়কালকে চিহ্নিত করে- যখন অর্থ এবং আত্মমূল্য বিষয়ে শৃঙ্খলা এবং ইচ্ছাশক্তি গড়ে তোলা উচিত। এর মধ্যে খরচের অভ্যাস এবং সম্পত্তি পুনর্মূল্যায়ন করাও যোগ হতে পারে।

সারা বছর ধরে চতুর্থ ঘরে ইউরেনাস ও বৃহস্পতি একসঙ্গে থাকাটা আত্মার স্তরে একটি শক্তিশালী নতুন সূচনা বা পুনর্জন্ম নিয়ে আসে, যা জাতক-জাতিকার বাড়ি, পরিবার এবং সুখের ধারণায় খুব ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

মীন রাশি (জলীয় রাশি: ১৯ ফেব্রুয়ারি-২০ মার্চ)

মীন রাশির জাতক-জাতিকাদের সূর্য গ্রহণ হবে। দ্বিতীয় ঘরটি বৃষের, যা বস্তুগত এবং অবস্তুগত মূল্যবান সম্পদের সঙ্গে জড়িত। ৮ এপ্রিলের গ্রহণ মীন রাশিকে সরাসরি প্রভাবিত না করলেও, এর প্রভাব গভীর হতে পারে, বিশেষ করে যদি কারও যদি ১৯ ডিগ্রি মেষ রাশির কাছাকাছি গ্রহ থাকে। সৌর গ্রহণ নতুন শুরু নিয়ে আসে। এমন হতে পারে বিঘ্ন বা বিপদের মাধ্যমে আপনার আর্থিক পথ এবং স্বমূল্যায়ন পুনর্বিন্যাস করতে এ গ্রহণটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই পরিবর্তনে কিছু আয়ের উৎসও পরিবর্তন করতে হতে পারে। মীন রাশির জাতক-জাতিকারা চাকরি ছেড়ে নিজেই ব্যবসায়ে জড়িয়ে যেতে পারেন। আগামী এক বছরে মীনের অর্থ এবং সম্পদ সংক্রান্ত ভাবনার বড় ধরনের পরিবর্তন গটতে পারে।

১০-১১ এপ্রিলে প্রথম ঘরে শনি ও মঙ্গলের মিলিত অবস্থান ধৈর্য, সাহস এবং শৃঙ্খলা গড়ে তোলার ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে দুই বছরের একটি নতুন চক্রের সূচনা বোঝায়। প্রতি ২৯ বছরে একবার ঘটে যাওয়া এই সারিবদ্ধতা মীন জাতক-জাতিকাকে সামনের দিকে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার ক্ষমতা দেয়, ব্যক্তিগত বিকাশ এবং অর্জনে সহায়তা করে। দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের ভিত্তি স্থাপনের জন্য শনির আত্মসংযমের শিক্ষা এবং মঙ্গলের কর্মের প্রেরণাকে গ্রহণ করতে হবে তাদের।

২০ এপ্রিল তৃতীয় ঘরে বৃহস্পতি-ইউরেনাসের মিলিত অবস্থান নতুন ধারণা এবং একের পর এক নতুন সুযোগ নিয়ে আসে। প্রতি ১৪ বছরে একবার ঘটে যাওয়া এই বিরল সারিবদ্ধতা মীনের নিজেকে প্রকাশ করার এবং তার লক্ষ্য অনুসরণ করার ক্ষেত্রে সাফল্যের সম্ভাবনা জাগিয়ে তোলে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত