Beta
শুক্রবার, ১ মার্চ, ২০২৪

স্প্রিঙ্কলার-তর্ক শুনে প্রেসবক্সের সমস্যা দেখলেন ক্রীড়ামন্ত্রী

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে সংস্কার কাজ দেখার পর যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী বলছেন অসন্তোষের কথা। ছবি : সকাল সন্ধ্যা

২০২১ সাল থেকেই চলছে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের সংস্কার। চলমান সংস্কারে আপাতভাবে দৃশ্যমান হয়েছে কেবল খেলার সবুজ মাঠটি। এই মাঠে পা রেখেই বৃহস্পতিবার নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী শুনলেন নানা অসঙ্গতির কথা। দেখেলেন ক্রীড়ামন্ত্রণালয় ও বাফুফের কথার লড়াই। এক পক্ষ দোষ চাপাতে চায় অন্য পক্ষের ঘাড়ে। শেষমেষ ক্রীড়ামন্ত্রী নাজমুল হাসান বলেছেন, “আমি বুঝলাম এখনো সমস্যা রয়ে গেছে দুটো। একটি হলো মাঠে স্প্রিঙ্কলার দিয়ে পানি ছিটানোর ব্যবস্থা হয়নি। অন্যটি হলো প্রেসবক্সটা ঠিকমতো করা হয়নি।”

২০২১ সালে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে সংস্কার কাজ শুরু হয়েছিল ৯৮ কোটি টাকা বাজেট ধরে। সেটি বাড়তে বাড়তে এখন ১৫৫ কোটি টাকা হলেও কাজের মান নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা আসস্তোষ। মাঠের চারদিকে অ্যাথলেটিক ট্র্যাক বসেছে আর সবুজ মাঠটা হয়েছে। ক্রীড়ামন্ত্রণালয়ের সচিব মহিউদ্দিন আহমদের দাবি অনুযায়ী, এখনে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করা হয়েছে।

তবে ফুটবল মাঠে পানি ছিটানো নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন বাফুফের কম্পিটিশন ম্যানেজার জাবের বিন তাহের আনসারী। আন্তর্জাতিক ফুটবল ভেন্যু গুলোতে পানি ছিটানোর জন্য ব্যবহার করা হয় স্প্রিঙ্কলার, ম্যাচের হাফ-টাইমে যা সবার চোখে পড়ে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুতে বসিয়েছে মান্ধাতার আমলের জল কামান যা দিয়ে মাঠের সব জায়গায় পানি পৌঁছে না। পাল্টা যুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করেন ক্রীড়ামন্ত্রণালয় সচিব। তার সঙ্গে সঙ্গত করেছেন সংস্কারের দায়িত্ব প্রাপ্ত বসতি কনস্ট্রাকশনের কর্মকর্তা।

এরপর সাংবাদিকরা প্রশ্ন তুলেন প্রেসবক্স নিয়ে। এই একটা ব্যাপারে ফুটবল ফেডারেশনকে কখনো আন্তরিক দেখা যায়নি। ড্রেসিং রুম, রেফারিজ রুম, মাঠ ইত্যাদি সারাতে বাফুফে মরিয়া হলেও প্রেসবক্স নিয়ে তাদের বিন্দুমাত্র আগ্রহ থাকে না। তাই এটার আধুনিকায়নও হয় না, তার ওয়াশরুমও হয়ে উঠে গণমানুষের। ক্রীড়ামন্ত্রী মাঠে দাঁড়িয়েই বাইরের কাঠামোটা দেখলেন, সামনে চারটা পিলার রেখে বানানো হয়েছে এই মিডিয়া বক্স। ফলে সাংবাদিকদের পক্ষে ম্যাচ কাভার করা কঠিন হয়ে যাবে। এটা হতে পারতো শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের মতো স্টিল স্ট্রাকচারে। এছাড়া ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ক্যামেরা রাখার জন্য আগে প্রেসবক্সের সামনে নীচে জায়গা ছিল, নতুন কাঠামোয় সেটাও রাখেনি।

বিসিবি সভাপতি হওয়ার সুবাদে নাজমুল হাসানের জানা আছে প্রেসবক্সের কাঠামো। তাই তার বুঝতে অসুবিধা হয়নি সমস্যাগুলো। পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী বলেছেন, “প্রেসবক্সের সামনে পিলার কেন হবে আর ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বসার ব্যবস্থা কোথায় হবে, বিষয়গুলো আগেই দেখা উচিত ছিল। বাফুফে কী আগে জানিয়েছিল, নাকি মন্ত্রণালয় করেছে, কাগজপত্র দেখে আমার জানতে হবে। তার আগে কমেন্ট করা উচিত হবে না।” এরপর তিনি যোগ করেন, “এখন পরিবর্তন করা সম্ভব হবে কিনা, আমি দেখবো। পরিবর্তনের নামে আরো এক-দুই বছর সময় নিলে হবে না। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে।”

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist