Beta
শুক্রবার, ১ মার্চ, ২০২৪

ডিএসইতে লেনদেন ১৭০০ কোটি টাকা ছাড়াল

ঢাকার একটি ব্রোকারেজ হাউসে পুঁজিবাজারের লেনদেন পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ছবি : জীবন আমীর

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন এক হাজার ৭০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। সেইসঙ্গে প্রধান সূচকও বেড়েছে। এ নিয়ে টানা আট কার্যদিবস সূচকটি বাড়ল। এমনটা গত কয়েক বছরে দেখা যায়নি।

দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা কমার পাশাপাশি বিভিন্ন কোম্পানির প্রান্তিকের আয়ের ইতিবাচক খবরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ার কেনার ঝোঁক বেড়েছে। বেছে বেছে বড় মূলধনি কোম্পানিতে নতুন করে বিনিয়োগ করছেন অনেকে। এতে সূচকের পাশাপাশি লেনদেন বাড়ছে বলে জানিয়েছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

সপ্তাহের চতুর্থ দিন বুধবার ডিএসইতে ১ হাজার ৭৩০ কোটি ৪৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এটি গত ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে এর চেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছিল ২০২২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর; সেদিন লেনদেনের অঙ্ক ছিল ১ হাজার ৮১০ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

বুধবারের লেনদেন আগের দিনের চেয়ে ৮০ কোটি টাকা বেশি। মঙ্গলবার এই বাজারে লেনদেনের অঙ্ক ছিল ১ হাজার ৬৫১ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।

ফ্লোর প্রাইস বা সর্বনিম্ন মূল্যসীমা তুলে নেওয়ার পর কয়েকদিন বাজারে পতন হলেও সেই ধাক্কা কাটিয়ে তেজিভাবে ফিরেছে বাজার। এর বড় কারণ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরেছে। দীর্ঘ মন্দায় যারা এতদিন বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন, তারা ফিরে আসছেন বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।

গত সপ্তাহে টানা চার দিন সূচক বেড়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় চলতি সপ্তাহের প্রথম চার দিনও সূচক বেড়েছে। এ নিয়ে টানা আট কার্যদিবস সূচক বাড়ল পুঁজিবাজারে। বেড়েছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দর।

সপ্তাহের চতুর্থ দিন বুধবার ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৬ দশমিক ৪৩ পয়েন্ট বেড়ে ৬ হাজার ৩৫২ দশমিক ৪৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে শরীয়াহ সূচক ডিএসইএস ২ দশমিক ২৬ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৩৮৭ পয়েন্টে। তবে ডিএসই-৩০ সূচক ৮ দশমিক ৪২ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৩৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

বুধবার ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয় ৩৯৪টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৯৮টির, কমেছে ১৫৮টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৮টির দর।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহের চার দিনে (সোম, মঙ্গল,বুধ ও বৃহস্পতিবার) ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৩৫ পয়েন্ট বেড়েছিল; চলতি সপ্তাহের প্রথম দিন রবিবার বাড়ে ৬৭ পয়েন্ট। সোমবার বেড়েছে ৪২ পয়েন্টের মতো। মঙ্গলবার বেড়েছিল ২৩ শতাংশের বেশি। সবশেষ বুধবার বেড়েছে ৬ পয়েন্টের বেশি। সব মিলিয়ে এই আট কার্যদিবসে ডিএসইর প্রধান সূচক ২৭৫ পয়েন্টের মতো বেড়েছে।

দেশের আরেক পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৭২ দশমিক ৩৫ পয়েন্ট বেড়ে লেনদেন শেষ দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ১৭৪ পয়েন্টে।

এদিন সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৮৮টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৫০ টির, কমেছে ১০৮ টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩০ টির দর।

লেনদেন হয়েছে ২৯ কোটি ২৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট। মঙ্গলবার লেনদেন হয়েছিল ২৩ কোটি ৩২ লাখ টাকার।

বাজার আরও ভালো হবে

বাজারে লেনদেন বাড়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বাজার বিশ্লেষক ডিএসইর বর্তমান পরিচালক ও সাবেক সভাপতি শাকিল রিজভী। সকাল সন্ধ্যাকে তিনি বলেন, “এখন বাজারের সবচেয়ে ভালো দিক হচ্ছে প্রতিদিনই লেনদেন বাড়ছে। আমি আগেই বলেছিলাম ফ্লোর প্রাইস উঠে যাওয়ার পর বিক্রির চাপে দু-একদিন বাজারে পতন হবে। তারপর ঠিক হয়ে যাবে। বাজার ভালোর দিকে যাবে। এখন আসলে তাই হচ্ছে।”

“নির্বাচনের আগে ও পরে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে—এমন শঙ্কা ছিল। কিন্তু সব কিছু ঠিকঠাক মতো হয়েছে। সব ভয় কেটে গেছে। এখন বাজার স্বাভাবিক হবে; ভালো হবে।”

“সর্বনিম্ন মূল্যস্তরের কারণে অনেকে দীর্ঘদিন শেয়ার বিক্রি করতে পারেননি। ফলে মূল্যস্তর উঠে যাওয়ায় যাদের নগদ অর্থের বেশি প্রয়োজন ছিল, তাদের অনেকেই শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছিলেন। সে কারণে বাজার সমন্বয় হয়েছে। এখন স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। বাজার এখন ভালো হবে” যোগ করেন শাকিল রিজভী স্টক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

একই কথা বলেছেন আরেক বাজার বিশ্লেষক ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্য ব্রোকারেজ হাউসের মালিকদের সংগঠন ডিএসই ব্রোকারেজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সাবেক সভাপতি আহমেদ রশিদ লালী।

সকাল সন্ধ্যাকে তিনি বলেন, “বাজার ইতিবাচক ধারায় ফিরছে। সূচকের পাশাপাশি লেনদেনও বাড়ছে। আমি মনে করি বাজার সঠিক পথেই আছে। ফ্লোর পাইস উঠে যাওয়ার পর বিক্রির চাপ বেড়েছিল। সে কারণে সূচক কমেছিল; এখন ঠিক হয়ে যাচ্ছে।”

“লেনদেন বাড়া বাজারের জন্য খুবই ভালো ইঙ্গিত দিচ্ছে। বাজার আরও ভালো হবে।”

আরেক বাজার বাজার বিশ্লেষক ডিএসই ব্রোকারেজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সাবেক সভাপতি মোশতাক আহমেদ সাদেক সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “ফ্লোর পাইস বসিয়ে বাজারটাকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল। তুলে নেওয়ায় এখন স্বাভাবিক হচ্ছে। আশা করছি, সামনের দিনগুলোতে আরও ভালো হবে।”

তিনি বলেন, “সবচেয়ে ভালো দিক হচ্ছে—সূচকের পাশাপাশি লেনদেনও বাড়ছে। ফ্লোর প্রাইস উঠে যাওয়ার পর বিক্রির চাপে দু-একদিন বাজারে পতন হয়েছিল; সেটা স্বাভাকি ছিল। এখন সব ভয় কেটে গেছে। এখন বাজার স্বাভাবিক হবে, ভালো হবে।”

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist