Beta
রবিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৪

রশিদ ছাড়া চিনি বিক্রি, নাবিল-আর এমকে অর্থদণ্ড

suger

চিনি বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগে জরিমানা করা হয়েছে দুটি প্রতিষ্ঠানকে। জরিমানার মুখে পড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি চট্টগ্রাম খাতুনগঞ্জের আর এম এন্টারপ্রাইজ আর অন্যটি রাজশাহীভিত্তিক নাবিল গ্রুপ।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত রবিবার দুটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করে। প্রতিষ্ঠান দুটি শুধু ফেব্রুয়ারিতেই ৮শ টন চিনি পরস্পর বেচাকেনা করেছে। কিন্তু তাদের কাছে কোন পাকা রশিদ পায়নি ভ্রাম্যমাণ আদালত। এই অনিয়মের কারণেই চিনির বাজারে কারসাজি করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে অভিযোগে জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

আর এম এন্টারপ্রাইজের মালিক চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালক আলমগীর পারভেজ। এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলমের পারিবারিক প্রতিষ্ঠান এটি। প্রতিষ্ঠানটি মূলত সব ভোগ্যপণ্যের ট্রেডিং ব্যবসা করে। অন্যদিকে এস আলম গ্রুপের সুগার কারখানায় উৎপাদিত সব চিনিই এই নাবিল গ্রুপের মাধ্যমেই সারাদেশে সরবরাহ করা হয়। দেশে চিনি পরিশোধনে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে এস আলম গ্রুপ। দিনে আড়াই হাজার টন টিনি পরিশোধনের ক্ষমতা আছে প্রতিষ্ঠানটির।

এ বিষয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতীক দত্ত সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “জরিমানার মুখে পড়া দুটিই বড় প্রতিষ্ঠান। শুধু ফেব্রুয়ারিতেই নাবিল গ্রুপ থেকে ৮শ টন চিনি কিনেছে আর এম এন্টারপ্রাইজ। কিন্তু ক্রয়-বিক্রয়ের কোন পাকা রশিদ তাদের কাছে আমরা পাইনি। পাকা রশিদ ছাড়া অর্থাৎ মুখে মুখে ব্যবসা বা ডিও ব্যবসা আইনত বন্ধ। বড় স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে এমন অনিয়ম আমরা আশা করিনি। এজন্যই আর এম এন্টারপ্রাইজকে ৩০ হাজার টাকা এবং নাবিল গ্রুপকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।”

এস আলম সুগার মিলে অগ্নিকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “এস আলম সুগার মিলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পরে খুচরা বাজারে চিনির দাম কেজিপ্রতি পাঁচ থেকে সাত টাকা বেড়েছে, তবে পাইকারি বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। চিনি বিক্রয়কারী দুটি প্রতিষ্ঠান আর এম এন্টারপ্রাইজ এবং নাবিল গ্রুপ কারও কাছেই কোন ক্রয় বিক্রয় রশিদ না থাকায় তারা কত টাকায় কিনছে বা বিক্রি করছে তা আমরা জানতে পারছি না। এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী এ সুযোগে বাজারে চিনির দাম বাড়িয়ে ফেলছে। এজন্যই অভিযান চালানো হয়েছে।”

এটি মূলত সতকর্তামূলক জরিমানা উল্লেখ করে প্রতীক দত্ত বলেন, “পরবর্তীতে একই অভিযোগ আবার পেলে বড় জরিমানা করা হবে। আর শুধু জরিমানা করেই তো বাজারে স্থিতিশীলতা আনা যায় না। ব্যবসায়ীরা যদি সৎ না হন, ক্রেতারা যদি হুজুগে না হন, তাহলে জরিমানা করে বাজারে কিছুটা সুফল দেওয়া যায়।”

জরিমানার বিষয়ে আর এম এন্টারপ্রাইজের মালিক আলমগীর পারভেজ সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “আমি চিনি কিনেছি নাবিল গ্রুপ থেকে। কিন্তু তারা আমাকে বিক্রয় রশিদ দেয়নি। তাহলে আমি কোথা থেকে সরবরাহ করবে। কোন কারখানাই তো বিক্রয় রশিদ দেয় না।” 

তিনি আরও বলেন, “কারখানাগুলো থেকে বিক্রয় রশিদ সরবরাহ নিশ্চিত করতে আমি অনেকবার এফবিসিসিআই থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম চেম্বারের মাধ্যমে সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছিলাম। কিন্তু সাড়া মিলেনি।”

ভোগ্যপণ্যের বাজারে দামের কারসাজি বন্ধে ২০১১ সালের ২১ মার্চ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। যেখানে দীর্ঘদিনের ডেলিভারি অর্ডার (ডিও) প্রথা বাতিল করা হয়। আর দেশজুড়ে অঞ্চলভিত্তিক ডিলার নিয়োগ ও সমান অনুপাতে আমদানি করা পণ্য বিপণনের নির্দেশনা দেওয়া হয় আইনে। চালু করা হয় সাপ্লাই অর্ডার (এসও) প্রথা। কিন্তু ব্যবসায়ীরা তো নয়ই সরকারী তদারকি সংস্থাও সেটি কার্যকর করতে উদ্যোগ নেয়নি। ফলে খাতুনগঞ্জসহ বাংলাদেশের সব ব্যবসায়ীই মুখে মুখে লেনদেন করেন। ব্যবসায়ীরা কোন রশিদ না রাখায় তাদেরকে একটি পদ্ধতির আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। মুনাফা কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের আটকানো যায়নি; আর সঠিকভাবে বাজার তদারকি করে দাম নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি।

অভিযানের সময় উপস্থিত ছিলেন খাতুনগঞ্জ ট্রেড এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিজ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ছগীর আহমদ। জানতে চাইলে তিনি সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “আইনগত দিক থেকে পাকা রশিদ না থাকায় জরিমানা করাটা ঠিক আছে। কিন্তু বাস্তবতা তো কিছুটা ভিন্ন। পাকা রশিদ তো কারখানা প্রান্ত থেকে সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে সবাই সেটি রাখবে।”

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist