Beta
সোমবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৪

সামিটের টার্মিনাল যুক্ত হচ্ছে এপ্রিলে, গ্যাস সরবরাহ বাড়বে

মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল।
মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল।

জাহাজে করে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে নিয়োজিত সামিট গ্রুপের ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এসএলএনজি) মেরামত শেষে দেশে আসছে। এতে দেশে গ্যাস সরবরাহ বাড়বে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সিঙ্গাপুরের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষে ২৭ মার্চ রওনা দিয়েছে এসএলএনজি। জাহাজটি ৩১ মার্চের মধ্যেই কক্সবাজারের মহেশখালী এলাকায় বঙ্গোপসাগরে পৌঁছবে।

সামিটের টার্মিনাল যুক্ত হলে আমদানিকৃত এলএনজি সরবরাহ বর্তমানের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ হবে। এই টার্মিনাল দিয়ে দিনে গড়ে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ দেওয়া যায়।

বর্তমানে মহেশখালীতে যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনাল দিয়ে এলএনজি সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। দিনে গড়ে ৬৩০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি; যা চুক্তির চেয়ে ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট বেশি।

সামিটের টার্মিনাল না থাকায় এক্সিলারেট এনার্জির মাধ্যমে বাড়তি সরবরাহ দেওয়ার পরও এখন দেশে চাহিদার চেয়ে ১০ শতাংশ ঘনফুট কম সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে।

এপ্রিলে সামিট এলএনজি টার্মিনাল কাজ শুরু করলে এলএনজি সরবরাহ সক্ষমতা বেড়ে ১,১০০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হবে। ফলে বিদ্যমান গ্যাস সংকট কমবে। একইসঙ্গে আগামী গ্রীষ্ম ও সেচ মৌসুমের আগে সংকট অনেকটাই কমবে বলে আশা গ্যাস বিতরণ কর্তৃপক্ষের।

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ কোম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (এলএনজি) প্রকৌশলী মো. শাহ আলম সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “সামিটের এলএনজি টার্মিনালটি ১ এপ্রিলের মধ্যেই মহেশখালী চলে আসছে। আসার পর এলএনজি সরবরাহে যুক্ত হতে এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। সেই টার্মিনাল থেকে আগের মতো ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ দেওয়া হবে। সেটির ক্যাপাসিটি বাড়েনি। এরপর থেকে দুটি টার্মিনাল মিলিয়ে মোট ১,১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা তৈরি হবে। কিন্তু সেই পরিমাণ এলএনজিবাহী জাহাজ থাকতে হবে।”

মহেশখালীতে দুটি টার্মিনাল দিয়েই আমদানিকৃত এলএনজি সরবরাহ দেওয়া হয়। জাহাজে করে এলএনজি আসে। ভাসমান টার্মিনালে ভিড়িয়ে জাহাজে থাকা এলএনজিকে গ্যাসে রূপান্তর করা হয় এক্সিলারেট ও সামিটের টার্মিনালে।

দুটি টার্মিনালের প্রতিটির সর্বোচ্চ সরবরাহ ক্ষমতা ছিল ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ দুটি টার্মিনাল মিলিয়ে সর্বোচ্চ এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ দেওয়া যেত।

গত অক্টোবর মাসে এক্সিলারেট এনার্জি সিঙ্গাপুরে যায় রক্ষণাবেক্ষণের জন্য। সেটি ফেরে গত ১৭ জানুয়ারি। ১৯ জানুয়ারি থেকে পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু করে। রক্ষণাবেক্ষণের সময় এই টার্মিনালের ক্যাপাসিটি ৫০০ মিলিয়ন থেকে বাড়িয়ে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত করা হয়। সেই বাড়তি সক্ষমতার পুরোটাই চালু আছে।

সরকার বিদেশ থেকে দুইভাবে এলএনজি আমদানি করে, যা ২০১৮ সাল থেকেই চালু আছে। একটি হচ্ছে, সরকারের সঙ্গে সরকারের (জিটুজি) দীর্ঘ মেয়াদি চুক্তি। আরেকটি হচ্ছে, আন্তর্জাতিক বাজার, যাকে স্পট মার্কেট বলে। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে এলএনজি আমদানির সুবিধা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম উঠানামার প্রভাব এখানে থাকে না।

দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে ২০২৪ সালে জিটুজি ভিত্তিতে ৪০টি জাহাজে কাতার থেকে বছরে ২ দশমিক ৫ মিলিয়ন টন আমদানি করা হয়। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কাতার থেকে এসেছে ৬টি জাহাজ।

জিটুজি চুক্তি অনুযায়ী ওমান থেকে আসে বছরে ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন টন। ২০২৪ সালে আসবে ১৬টি জাহাজ। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২টি জাহাজ এলএনজি খালাস করেছে।

স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনে ২০২০ সালে প্রথম জাহাজ আনা হয়। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৫৫টি জাহাজ আনা হয়েছে। স্পট মার্কেট থেকে সবচেয়ে বেশি এলএনজি আমদানি করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে।

২০২৩ সালে ২৪ হাজার ১৪৭ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি আমদানি হয় যুক্তরাষ্ট্র থেকে, আর ২০২২ সালে ছিল ১২ হাজার ৬৬৩ মিলিয়ন ঘনফুট।

মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কম থাকলে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনে থাকে সরকার।

চট্টগ্রাম বন্দরের হিসাবে, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া এলাকার সাগরে বর্তমানে তিনটি এলএনজিবাহী জাহাজ আছে। তিনটি জাহাজে মোট ১ লাখ ৯২ হাজার টন এলএনজি আছে। কেবল একটি টার্মিনাল চালু থাকায় জাহাজগুলো থেকে এলএনজি খালাসে কিছুটা দেরি হচ্ছে।

দুটি টার্মিনাল চালুর পর সরবরাহ সক্ষমতা বাড়লে এবং সেই পরিমাণ এলএনজি সরবরাহ দিতে পারলেই কেবল পরিস্থিতির উন্নতি হবে মনে করছেন জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা।

এখন সেই পরিমাণ এলএনজি আমদানি হয়ে পাইপলাইনে আছে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে সরকারের জ্বালানি সরবরাহে যুক্ত পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “বোরো মৌসুমে সেচের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে সরকার স্পট মার্কেট থেকে আগেই এলএনজি কিনেছে। তার একটি এখন বহির্নোঙরে আছে। মৌসুম শুরুর আগেই ধারাবাহিকভাবে আসবে। সেইসাথে গ্রীষ্মে লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে রাখতে তেলভিত্তিক বিদ্যুতকেন্দ্র বেশি চালানো হবে।”

দেশে বিদ্যুৎ খাতে দিনে গ্যাসের চাহিদা ২৩২ কোটি ঘনফুট। এবার গ্রীষ্মে অন্তত ১৫০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ পেলে লোডশেডিং সহনীয় মাত্রায় থাকবে বলে মনে করে পিডিবি।

এখন সরবরাহ করা হচ্ছে ৯০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। ফলে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার অর্ধেকের বেশি বসিয়ে রাখতে হচ্ছে। এলএনজি সরবরাহ বাড়লে সেই গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সচল করা যাবে।

আর গ্যাস সরবরাহ বাড়লে আবাসিকে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস থাকবে। পাশাপাশি শিল্প কারখানায় আগের চেয়ে ভালো গ্যাস সরবরাহ দেওয়া সম্ভব হবে মনে করে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেড।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist