Beta
সোমবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৪
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন

বিএনপিপন্থী খোকন সভাপতি, আওয়ামীপন্থী মনজুরুল সম্পাদক পদে জয়ী

ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন (বাঁয়ে) ও শাহ মনজুরুল হক
ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন (বাঁয়ে) ও শাহ মনজুরুল হক

হামলা-মামলা ও হট্টগোলের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের ভোট গণনা। গণনা শেষে ফল ঘোষণা করে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি।

এবারের নির্বাচনে সভাপতি পদে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের নীল প্যানেল থেকে ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন জয়লাভ করেছেন। সভাপতিসহ চারটি পদে জয় পেয়েছে নীল প্যানেল।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগপন্থী বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদের সাদা প্যানেল থেকে শাহ মনজুরুল হক সম্পাদক পদে জয়লাভ করেছেন। সম্পাদকসহ মোট ১০টি পদে জয়লাভ করেছে সাদা প্যানেল।

শনিবার মধ্যরাতে ভোট গণনা শেষে ফল ঘোষণা করেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের।

সভাপতি পদে ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন পেয়েছেন ২ হাজার ৬২২ ভোট, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাদা প্যানেলের আবু সাঈদ সাগর পেয়েছেন ২ হাজার ৫৩৯ ভোট। অন্য প্রার্থীদের মধ্যে এমকে রহমান পেয়েছেন ২২৯ ভোট এবং ড. ইউনূস আলী পেয়েছেন ১৬ ভোট।

সম্পাদক পদে শাহ মনজুরুল হক পেয়েছেন ৩ হাজার ৩১৯ ভোট। আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল পেয়েছেন ১ হাজার ৭০২ ভোট। অন্য প্রার্থীদের মধ্যে নাহিদ সুলতানা যুথি ২৬৯ ভোট ও ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ ভুইয়া ৬০ ভোট পেয়েছেন।

সহ-সভাপতি দুটি পদে প্রথম হয়েছে সাদা প্যানেল থেকে মো. রমজান আলী শিকদার, দ্বিতীয় হয়েছেন দেওয়ান আবু ওবায়েদ হোসেন সেতু। আর সহ-সম্পাদক দুটি পদে সাদা প্যানেল থেকে প্রথম হয়েছেন হুমায়ন কবির, দ্বিতীয় হয়েছেন মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব।

সাতটি সদস্য পদে সাদা প্যানেল থেকে জয়লাভ করেছেন রাশেদুল হক খোকন, মো. রায়হান রনি, মো. বেলাল হোসেন শাহীন ও খালেদ মোশাররফ রিপন।

অন্যদিকে নীল প্যানেল থেকে সদস্য পদে জয় পেয়েছেন সৈয়দ ফজলে এলাহি অভি, ফাতিমা আক্তার, মো. শফিকুল ইসলাম শফিক।

ফল ঘোষণার আগে নির্বাচন পরিচালনা সাব কমিটির আ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের বলেন, “আমরা চেয়েছি সুষ্ঠু, সুন্দর একটি নির্বাচন করতে। এটি করতে গিয়ে অনেক বাধা এসেছে। আমরা কমিটির সকল সদস্যের সঙ্গে পরামর্শক্রমেই সব সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা চেয়েছি একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তুলতে। কমিশনের সকল সদস্য সেই কাজে আমাকে সহযোগিতা করেছেন, আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই।”

শনিবার বেলা ২ টা ৫০ মিনিট থেকে ভোট গণনা শুরু হয়। এর আগে সমিতি ভবনের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতে প্রতিটি গেট তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। এরপর সাব কমিটি অডিটোরিয়ামে প্রবেশ করে। পরে তারা মিটিং করে ভোট গণনা শুরু করেন। সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামসহ পাচঁটি হলে একযোগে ভোট গণনা হয়।

ভোট গণনার সময় সাদা প্যানেলের প্রার্থীদের দেখা গেলেও বিএনপিপন্থী নীল প্যানেলের সম্পাদক প্রার্থী রুহুল কুদ্দুস কাজল, স্বতন্ত্র প্রার্থী নাহিদ সুলতানা যুথিকে দেখা যায়নি।

এ নির্বাচনে ভোট জালয়াতি, কারচুপির অভিযোগ এনে পুনর্নির্বাচন দাবি করেছেন নীল প্যানেলের সম্পাদক প্রার্থী রুহুল কুদ্দুস কাজল। গণমাধ্যমকে পাঠানো লিখিত বিবৃতি দিয়ে এ দাবির কথা জানানোর কিছু সময় পরই সিআইডির হাতে গ্রেপ্তার হন তিনি।

এদিকে ফল ঘোষণার আগেই পুনরায় ভোট গণনার দাবিতে নির্বাচন সাব কমিটির কাছে দরখাস্ত দেন সভাপতি নির্বাচিত হওয়া বিএনপির ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। তার দাবি, তিনি আরও অনেক বেশি ভোট পেয়েছেন। তার ভোট প্রতিপক্ষের ভোট হিসেবে গণনা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তার। 

হট্টগোল শুরু যেভাবে

পূর্বঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ৬ ও ৭ মার্চ সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি নির্বাচনে দুই দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ হয়। ভোট গ্রহণ শেষে বৃহস্পতিবার রাত ১০টা থেকে শুক্রবার ভোররাত পর্যন্ত ব্যালট পেপার গোছানো সম্পন্ন হয়। এরপর ভোট গণনা শুরু হলে আওয়ামী লীগপন্থী সাদা প্যানেলের সম্পাদক প্রার্থী শাহ মনজুরুল হক ভোট গণনার পরিবেশ ভালো নেই জানিয়ে গণনা বন্ধ রাখতে বলেন। তিনি পরের দিন শুক্রবার বিকাল ৩টা থেকে ভোট গণনা করার দাবি করেন।

ওই সময় স্বতন্ত্র প্রার্থী নাহিদ সুলতানা যুথি ভোট গণনা চালিয়ে যাওয়ার দাবি করেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে হট্টগোল ও মারামারি ঘটনা ঘটে। এতে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলসহ শাহ মনজুরুল হকের বেশ কয়েকজন সমর্থক আহত হন। উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ভোট গণনা না করে সম্পাদক প্রার্থী নাহিদ সুলতানা যুথিকে বিজয়ী ঘোষণা করে নির্বাচন সাব কমিটির আহ্বায়ক। হট্টগোলের এ অবস্থায় ব্যালট বাক্স বারের অডিটোরিয়ামের রুমের ভেতরে সিলগালা করে পুলিশ পাহারায় রাখা হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় ঘটনাস্থল ত্যাগ করে নির্বাচনের সাব কমিটিসহ প্রার্থীরা।

মারামারির ঘটনায় মামলা

ভোট গণনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার ভোরের মারামারির ঘটনায় সম্পাদক পদের স্বতন্ত্র প্রার্থী নাহিদ সুলতানা যুথি, বিএনপির প্যানেলের সম্পাদক প্রার্থী রুহুল কুদ্দুস কাজলসহ ২০ জনের নাম উল্লেখ করে শাহবাগ থানায় হত্যা চেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন নির্বাচন সাব কমিটির কো-অপ্ট সদস্য সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সাইফুর রহমান সিদ্দিকী সাইফ।

এজাহারে বলা হয়, “নির্বাচন সাব-কমিটির প্রধান অ্যাডভোকেট আবুল খায়েরকে অস্ত্রের মুখে ভোট গণনা ছাড়াই সম্পাদক হিসেবে নিজেকে নির্বাচিত ঘোষণা করতে বাধ্য করেন এক নম্বর আসামি। নির্বাচন সাব-কমিটির সদস্যরা জীবন বাঁচাতে ভোট গণনার কাজ না করেই চলে যেতে বাধ্য হন। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সিসি ক্যামেরার ভিডিওতে ঘটনার সবকিছু ধারণ করা আছে।”

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, “এক নম্বর আসামির নির্দেশে এবং প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্ট বার সমিতির নিচ তলার শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে অস্ত্র হাতে ঢুকে বাদীসহ নির্বাচন সাব-কমিটির অন্য সদস্যদের গালিগালাজ করেন আসামিরা। দুই আসামি লোহার রড দিয়ে হত্যার উদ্দেশে মাথায় আঘাত করতে গেলে বাদী বাধা দেন। এতে তার বাঁ কানের উপরে মাথার অংশে মারাত্মক জখম হন। অন্য আসামিরা লাঠি ও চেয়ার দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর এবং লাথি দিয়ে বাদীর শরীরের জখম করেন। তার পরনের কাপড়ও ছিড়ে ফেলা হয়।”

এ মামলায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সম্পাদক প্রার্থী রুহুল কুদ্দুস কাজলসহ ছয় জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এবারের সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ১৪ পদের বিপরীতে অংশ নেন ৩৩ জন প্রার্থী। মোট ৭ হাজার ৮৮৮ জন আইনজীবী ভোটারের মধ্যে ৫ হাজার ৩১৯ আইনজীবী ভোট দিয়েছেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist