Beta
সোমবার, ২০ মে, ২০২৪
Beta
সোমবার, ২০ মে, ২০২৪

সাগর-রুনি খুন : তদন্তকারীরাই তদন্ত শেষ করতে ‘চাচ্ছেন না’

হারুন অর রশীদ স্বপন।
হারুন অর রশীদ স্বপন।
Picture of প্রতিবেদক, সকাল সন্ধ্যা

প্রতিবেদক, সকাল সন্ধ্যা

সাগর-রুনি হত্যা মামলার পরিণতি নিয়ে সন্দিহান অপরাধ বিষয়ক অনুসন্ধানী সাংবাদিক হারুন অর রশীদ স্বপন। তিনি মনে করেন, সরকারের চূড়ান্ত সদিচ্ছা আর তদন্তকারীদের আন্তরিকতাতেই কেবল খুলতে পারে রহস্যজট।

মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার রাজাবাজারে নিজেদের ঘরে খুন হন। সাগর এক সময় জার্মানিতে ডয়চে ভেলেতে কাজ করতেন। জার্মান এই সংবাদমাধ্যমের ঢাকা প্রতিনিধি হিসাবে কাজ করছেন স্বপন।

থানা পুলিশ থেকে ডিবি হয়ে র‌্যাব তদন্ত চালিয়ে গেলেও এখনও সাংবাদিক দম্পতি হত্যাকাণ্ডের কারণ কিংবা খুনি চিহ্নিত হয়নি; যদিও র‌্যাব বলছে, তারা ‘সর্বোচ্চ’ চেষ্টা চালাচ্ছে।

সহকর্মী হত্যাকাণ্ডের যুগপূর্তিতে স্বপন সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “বাংলাদেশে ২০-৩০ বছর পরেও মামলা তদন্তের মাধ্যমে বিচারকাজ সম্পন্ন করার নজির রয়েছে। সেসব ক্ষেত্রে শুরুতে তদন্ত বেশি দূর না এগোলেও শেষে দ্রুততায় অপরাধী শনাক্ত, গ্রেপ্তার ও বিচারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।”

এই প্রসঙ্গে সাগিরা মোর্শেদ হত্যামামলার বিষয়টি তুলে তিনি বলেন, কয়েক দফায় তা থমকে গেলেও তদন্ত শেষের পাশাপাশি বিচার কাজও প্রায় সম্পন্ন।

সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত শেষ না হওয়ার কারণ কী মনে করছেন- প্রশ্নে স্বপন বলেন, “কারণ তো অতি সহজ, সরকার এটি শেষ করতে চায় না বলেই শেষ হচ্ছে না। এটি তো শুরুতেই অনেকটা বোঝা গিয়েছিল। মনে হচ্ছে তদন্তকারীরা তদন্ত শেষ করতে চাচ্ছেন না। কেন করতে চাচ্ছেন না , তা তারাই ভালো জানবেন।

“১০৭ বার তারা সময় নিলেন, কিন্তু একবারও বললেন না তদন্তের অগ্রগতি কতটুকু। তারা যাদের আটক করলেন, তারা দেখা গেল কেউই ঘটনায় জড়িত নন। আবার ডিএনএ টেস্ট করিয়ে এনে এখন বলছে মিলছে না। একজনের ডিএনএ প্রোফাইল ম্যাচ করাতে তো এখন ১৭ কোটি নমুনা মেলানো যাবে না। তদন্তে এর বাইরে অন্য অনেক পদ্ধতি আছে, যেগুলো তারা প্রয়োগ করছেন না। গুগল ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে ঘটনাস্থলের আশেপাশে অবস্থান করা সন্দেহভাজনদের সংখ্যা কমিয়ে আনা যায়।”

তদন্তকারীদের গাফিলতি রয়েছে বলে মনে করেন কি না- প্রশ্নে তিনি বলেন, “গাফিলতি জিনিসটা কিন্তু অন্য, কাজ চলমান থাকলে তখন গাফিলতির বিষয় আসে। যখন তদন্তকারী সংস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ পাবে, তখন গাফিলতির প্রশ্ন আসতে পারে।”

মেহেরুন রুনি ও সাগর সরওয়ার।

কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে, সাংবাদিক হিসেবে সেই অনুসন্ধানে নেমেও উপসংহারে পৌঁছতে পারেননি স্বপন।  

“যারা হত্যা করেছে, তারা প্রচণ্ড আক্রোশ থেকে হত্যা করেছে, এটা বোঝা যায়। যাদের স্বার্থের ক্ষতি হয়েছে, তারাই চেয়েছে এরা যেন পৃথিবীতে না থাকে। বিশেষ ব্যক্তি অথবা গোষ্ঠীর স্বার্থবিরোধী কাজ করেছেন বলেই এ দম্পতিকে হত্যা।”

“সাংবাদিক হিসেবে আমার কিছু অনুসন্ধান ছিল, তাতে কিন্তু আমি সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারি নাই। সিদ্ধান্তে না যেতে পারলে তো সে ধারণা প্রকাশ তো ঠিক নয়,” বলেন তিনি।

খুনের পর যারা বিভিন্ন কথা বলেছিলেন, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলেও অনেক কিছু বেরিয়ে আসত বলে মনে করেন স্বপন।

“সাংবাদিকদের ইতোমধ্যে প্রকাশিত অনেক প্রতিবেদনে তদন্ত সহায়ক উপাদান রয়েছে। ক্লু রয়েছে। সেটি তদন্তকারীরা কাজে লাগাতে চাইলে তা কাজে লাগাতে পারবেন।”

খুনির বিষয়ে কোনও ধারণা পেয়েছেন কি না- তার উত্তরে তিন দশক ধরে অপরাধ বিষয়ক অনুসন্ধানে কাজ করে আসা স্বপন বলেন, “ধারণা দিয়ে তো খুনিদের নাম পরিচয় প্রকাশ করা যায় না। তবে তারা ভিকটিমের কাছের লোক। নিহতদের পূর্ব পরিচিত,  আগে থেকেই সম্পর্ক আছে, এমন কেউ হত্যায় জড়িত, তা আলামত বিশ্লেষণে অনুমান করা যায়।

“আবার এর বাইরেও কেউ থাকতে পারে। অপরিচিত ভাড়াটে খুনি থাকলেও নেপথ্যে তাদের পরিচিতরা রয়েছেন বলে আমি মনে করি।”

এ হত্যাকাণ্ডে চোর-ডাকাত জড়িত, এটা মনে করেন না স্বপন।

আলোচিত এ হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করে তিনি বলেন, “মামলার বাদী, আসামি সবাই বেঁচে থাকা অবস্থাতেই তদন্ত শেষ হওয়া উচিৎ। নাহলে কার জন্য বিচার, কার বিচার করবেন আপনি?”

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত