Beta
মঙ্গলবার, ২৫ জুন, ২০২৪
Beta
মঙ্গলবার, ২৫ জুন, ২০২৪

সর্বার সর্বাগ্রে আসার পেছনে মা

ss-sorba-mbbs first-11-02-24
Picture of প্রতিবেদক, সকাল সন্ধ্যা

প্রতিবেদক, সকাল সন্ধ্যা

এবার এমবিবিএস পরীক্ষা দিতে বসেছিলেন মোট এক লাখ দুই হাজার ৩৬৯ জন। এত জনকে পেরিয়ে ফলাফলে প্রথম স্থান দখল করেছেন কিশোরগঞ্জের মেয়ে তানজিম মুনতাকা সর্বা। ১০০ নম্বরের পরীক্ষায় তার প্রাপ্তি ৯২ দশমিক পাঁচ।

প্রতিযোগিতাপূর্ণ এই পরীক্ষায় সর্বার সর্বাগ্রে উঠে আসার পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছেন তার মা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক ভিডিওতে মাকে সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে তাই সর্বা বলেন, “আমার আম্মু, যার জন্য আমি এখানে।”

ঢাকা বোর্ডের অধীনে ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজ থেকে ২০২১ সালে মাধ্যমিক এবং হলিক্রস কলেজ থেকে ২০২৩ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন তানজিম মুনাতাকা। এরপর বসেছিলেন মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায়।

এত প্রতিযোগিতাপূর্ণ পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করে কেমন লাগছে? অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, “এখনও মনে হচ্ছে স্বপ্ন দেখছি। এই অনুভূতি আসলে ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না।”

আজকের অবস্থানে আসার পথে সবচেয়ে বেশি সমর্থন পেয়েছেন মা-বাবার। তানজিম মুনতাকা বলেন, “এখন পর্যন্ত জীবনের কোনও ব্যর্থতাই তারা আমাকে ফিল করতে দেয়নি। সবসময় আমার সঙ্গে ছিলেন। তারাই আমার সবচেয়ে বড় স্ট্রেন্থ (শক্তি)।”

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার দুই মাস আগে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন সর্বা। পরীক্ষার পরপরই শুরু করেন কোচিং। সর্বা বলেন, “উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার পরে প্রস্তুতি নিতে গিয়ে বুঝেছি আরেকটু আগে থেকে শুরু করলে বেশি ভালো হয়। পথটা আরেকটু স্মুদ হয়। কারণ উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার পর হাতে খুব বেশি সময় পাওয়া যায় না।”

অগ্রগামী শিক্ষার্থী হিসেবে ভবিষ্যতের এমবিবিএস পরীক্ষার্থীদের জন্য তার পরামর্শ, “পরীক্ষার প্রস্তুতি আগে থেকে নিলে ভালো। মূল ভর্তি পরীক্ষার আগে অনেক জায়গাতেই প্রি ভর্তি পরীক্ষা হয়, সেখানেও অংশ নিতে পারেন। তাতে করে নিজেকে বোঝা যায়, ঘাটতিগুলো বুঝে নিজেকে প্রস্তুত করা যায়। সেসবই মূল পরীক্ষায় অনেক সাহায্য করে।”

মেয়ের এমন সাফল্যে যারপরনাই খুশি মা। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “এ দিনটাকে দেখবো, এটা আমি কল্পনা করিনি। ভেবেছি ওর পরীক্ষার পরে হয়তো একটা কিছু হবে। সেই স্বপ্ন আমি দেখেছি। কিন্তু একেবারে প্রথম হবে..! আমি এখনও স্বপ্নের মধ্যে আছি।”

নিজেদের বড় মেয়ে সর্বা। ছোট থেকেই তার প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া হতো জানিয়ে এই মা বলেন, “কোনও পরীক্ষার্থী যদি নিজে থেকে আগ্রহ নিয়ে পড়াশোনা করে, তাহলে তার কতটা ভালো হয়, তার প্রমাণ সর্বা। ও সবসময়ই নিজে থেকে পড়াশোনা করেছে। কোনও কিছুর জন্য তাকে চাপ দিতে হয়নি, বলতে হয়নি। তবে সঙ্গে ভালো একটা গাইডলাইন তাকে সহযোগিতা করে।”

মেয়েকে যখন কোচিং করাতে নিয়ে যেতেন তখন সেখানে প্রতিবছরের এমবিবিএসের প্রথমদিকে যারা থেকেছে তাদের ছবি দেখতেন। এখন মায়ের সেই স্বপ্নটা পূরণ করলেন মেয়ে নিজেই। তাও একেবারে প্রথম হয়ে। সর্বার মা বলেন, “ওকে কখনও বলিনি, কিন্তু সেই স্বপ্নটাই যে মেয়ে আমার পূরণ করবে, সেটা আমার কল্পনাতেও ছিল না।”

রবিবার ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার ফল ঘোষণা করেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। তিনি জানান, এবার পাসের হার ৪৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এ পরীক্ষায় এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা।

সামন্ত লাল সেন বলেন, চলতি বছরে পাসের হার ৪৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ। তাদের মধ্যে পুরুষ শিক্ষার্থীদের হার ৪০ দশমিক ৯৮ শতাংশ আর নারী শিক্ষার্থীর পাসের হার ৫৯ দশমিক দুই শতাংশ।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, গত ৯ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এবছর ৩৭ সরকারি মেডিকেল কলেজের পাঁচ হাজার ৩৮০ আসনে এবং ৬৭ বেসরকারি মেডিকেল কলেজের ছয় হাজার ২৯৫ আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।

‘বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল’ এর নীতিমালার শর্তানুযায়ী ভর্তি পরীক্ষায় পাওয়া নম্বর, এসএসসি বা সমমান এবং এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় পাওয়া নম্বর যোগ করে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করা হবে। মোট স্কোরের ভিত্তিতে পাঁচ হাজার ৩৮০ জন ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। এই শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেধা কোটায় ৫০৭২ জন, পাঁচ শতাংশ ধরে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ২৬৯ জন ও পশ্চাদপদ জনগোষ্ঠীর জন্য সংরক্ষিত আসনের ৩৯ জন থাকবেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবারে মোট এক লাখ চার হাজার ৩৭৪ জন ভর্তির আবেদন করেছেন। তাদের মধ্যে এক লাখ দুই হাজার ৩৬৯ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। আর দুই হাজার পাঁচজন পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন। অনুপস্থিতির হার এক দশমিক ৯২ শতাংশ।

সামন্ত লাল সেন জানান, ভর্তি পরীক্ষায় আগের বছরের মতো এবারেও পাস নম্বর ছিল ৪০। এর ভিত্তিতে মোট ৪৯ হাজার ৯২৩ জন ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত