Beta
রবিবার, ১৪ জুলাই, ২০২৪
Beta
রবিবার, ১৪ জুলাই, ২০২৪

‘এমন বিকট শব্দ আগে শুনিনি’

মিয়ানমারে বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘাতের জেরে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছেন অনেক সেনা সদস্য
মিয়ানমারে বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘাতের জেরে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছেন অনেক সেনা সদস্য
Picture of নুপা আলম, কক্সবাজার

নুপা আলম, কক্সবাজার

মিয়ানমারে চলমান গৃহযুদ্ধ আরও তীব্র হয়েছে। বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকা থেকে শোনা যাচ্ছে একের পর এক বিস্ফোরণের বিকট শব্দ।

টেকনাফ পৌরসভা, সাবরাং, শাহপরীর দ্বীপ, সেন্টমার্টিন, হ্নীলা ও হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকা থেকে সংঘাতের আঁচ পাওয়া যাচ্ছে। সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের কোওয়ারবিল, নাকপুরা, বলিবাজারসহ আশেপাশের এলাকায় চলছে এসব সংঘাত।

বিকট শব্দে কেঁপে উঠছে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত এলাকার মাটি। তাতে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে এলাকাবাসীর মনে।

টেকনাফ সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা জানান, সোমবার রাত ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত টানা বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এরপর মঙ্গলবার ভোর থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত আবার শোনা যায় বিস্ফোরণের বিকট শব্দ। এর আগে রবিবার রাত ১০টা থেকে ভোর পর্যন্ত বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা যায়।

মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে টেকনাফ সীমান্তের ওপারে চক্কর দিতে দেখা গেছে যুদ্ধবিমান।

টেকনাফ সদর ইউনিয়নের চকবাজার এলাকার বাসিন্দার মো. কালা বলেন, “মিয়ানমার থেমে থেমে বোমার বিকট শব্দে আমার বাড়ি কাঁপছে। এমন শব্দ কোনওদিন শুনিনি। মনে হচ্ছে বাড়ি ভেঙ্গে পড়ে যাচ্ছে। আতঙ্কে ঘুমাইতে পাচ্ছি না।”

হ্নীলা ইউনিয়নের ওয়াব্রাং এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ কামাল জানান, “মিয়ানমার ওপারে যেভাবে মর্টারশেলের শব্দ হয়েছিল, মনে হচ্ছিল ভূমিকম্পে বাড়ি ঘর ভেঙ্গে যাচ্ছে। বজ্রপাতের মতো শব্দ হচ্ছে।”

শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দা শাহীন আলম জানান, “মিয়ানমারের ওপারে এমন বিকট শব্দ হয়েছে যে পুরো এলাকা কাঁপছে।”

টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এনামুল হক জানান, এমন বিকট শব্দ আগে কখনও শুনিনি। গভীর রাতে মিয়ানমারের গোলাগুলির শব্দে বাড়ির ভিতরে পর্যন্ত থাকা যাচ্ছে না। রাত থেকে দুপুর পর্যন্ত শতাধিক বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসছে। মনে হচ্ছে মর্টার শেল নিজের বাড়ির ত্রিসীমানায় বিস্ফোরণ হচ্ছে।  

টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জিহাদ জানান, যেহেতু মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের দূরত্ব কম তাই তাদের গোলাগুলির শব্দে আমরাও ঘুমাতে পারছি না।

চেয়ারম্যান বলেন, “আমরা বিভিন্ন সূত্রে জেনেছি, ওপার থেকে রোহিঙ্গারা এপারে আসার জন্য জড়ো হয়ে আছে। প্রতিটি নৌঘাট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আমরা জানিয়েছি। জনপ্রতিনিধিরাও সজাগ রয়েছি।”

মিয়ানমারের সংঘাতময় পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন না হওয়ায় বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) সীমান্তে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রেখেছে বলে জানিয়েছেন টেকনাফ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মহিউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, রাখাইন পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নাফ নদী ও সীমান্তে বিজিবির টহল বাড়ানো হয়েছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত