Beta
রবিবার, ৩ মার্চ, ২০২৪

ট্রাম্পকে মাঠ ছাড়ছেন না নিকি হ্যালি

নিকি হ্যালি

যুক্তরাষ্ট্রের আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও লড়াইটা যে জো বাইডেন ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যেই হচ্ছে, লক্ষণ তেমনই দেখা যাচ্ছে। তবে নিউ হ্যাম্পশায়ার অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকান প্রার্থিতার দৌড়ে হারলেও নিকি হ্যালি বললেন, এখনই হাল ছাড়ছেন না তিনি।

আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন; তাতে ডেমোক্রেট প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে বর্তমান প্রেসিডেন্ট বাইডেন অনেকটাই এগিয়ে।

সবাই তাকিয়ে আছে, বাইডেনের প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন কোন রিপাবলিকান? এই দৌড়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে নামেন জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি এবং ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিস।

গত ১৫ জানুয়ারি আইওয়া ককাসের (সম্মেলন) মধ্য দিয়ে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী বাছাইয়ের পর্বটি শুরু হয়। তাতে বড় জয় পান ট্রাম্প।

রিপাবলিকান পার্টি থেকে এবার প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে ট্রাম্পের সবচেয়ে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ডিস্যান্টিসকে বিবেচনা করা হচ্ছিল। কিন্তু আইওয়ায় দ্বিতীয় স্থান পাওয়ার পর তিনি লড়াই থেকে সরে গিয়ে ট্রাম্পকে সমর্থন দেন।

আরেক রিপাবলিকান প্রার্থী ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিবেক রামস্বামীও আইওয়ায় নিজের ভরাডুবির পর ট্রাম্পকে সমর্থন দেন।

তাতে ট্রাম্পের একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে থাকেন নিকি হ্যালি। তবে নিউ হ্যাম্পশায়ার প্রাইমারিতে মঙ্গলবার হেরে যাওয়ায় নিকি আর ট্রাম্পের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আর টিকতে পারবেন না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

প্রাইমারি হচ্ছে প্রথাগত নির্বাচন। এতে দিনব্যাপী দলের সমর্থকদের গোপন ব্যালটে ভোট অনুষ্ঠিত হয়।

অন্যদিকে ককাস হচ্ছে দলের নিবন্ধিত ভোটার ও কর্মীদের সম্মেলন, যা পূর্বনির্ধারিত দিন ও ক্ষণে অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে প্রার্থী ও তাদের নির্বাচনী বিষয়াদি নিয়ে আলাপ-আলোচনা হয়। পরে তারা ভোটের আয়োজন করে একজন প্রার্থী নির্বাচন করেন।

মঙ্গলবার নিউ হ্যাম্পশায়ার প্রাইমারিতে নিকি হ্যালির হার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ফের ট্রাম্প-বাইডেন প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা অনিবার্য করে তুলেছে বলে দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে।

কারণ আইওয়া ককাস ও নিউ হ্যাম্পশায়ার প্রাইমারিতে জয়ী হওয়ার পর কোনও প্রার্থীর দলীয় মনোনয়ন হারানোর নজির নেই যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে।

অবশ্য ট্রাম্পের কাছে হারের পরও নিকি হ্যালি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। রিপাবলিকানদের সতর্ক করে তিনি বলেছেন, ট্রাম্পকে প্রার্থী করা মানে আবার হেরে যাওয়া।

নিকি বলেন, “ডোনাল্ড ট্রাম্প মানে একের পর এক বিশৃঙ্খলা— এই আদালতের মামলা, সেই বিতর্ক, এই টুইট, সেই বিব্রতকর মুহূর্ত। আপনারা রিপাবলিকান বিশৃঙ্খলা দিয়ে জো বাইডেনের বিশৃঙ্খলা ঠিক করতে পারবেন না।”

বিজয়ী ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, “লড়াই এখনও শেষ হয়নি। আরও কয়েকটি রাজ্যের ভোট বাকি আছে।”

নিকি আশা করছেন, সাউথ ক্যারোলিনায় তিনি ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন। সাউথ ক্যারোলাইনায় ভোট হবে ২৪ ফেব্রুয়ারি, যে রাজ্যের গভর্নর ছিলেন নিকি। তার আগে ৮ ফেব্রুয়ারি ভোট হবে নেভাডাতে।

নিকি হ্যালি বলেন, “নিউ হ্যাম্পশায়ার মাত্র প্রথম রাজ্য। এটিই শেষ নয়। এই দৌড় শেষ হতে এখনও অনেক দেরি। এখনও কয়েক ডজন রাজ্য বাকি আছে এবং পরেরটি হল আমার মিষ্টি রাজ্য, দক্ষিণ ক্যারোলাইনা।”

যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

অন্যদিকে, ডেমোক্রেটরা আইওয়ায় এবার মেইলের মাধ্যমে ভোটের আয়োজন করেছে। গত ১২ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সেই ভোটদান শেষ হবে আগামী ৫ মার্চ, মঙ্গলবার। সেদিন একসঙ্গে আরও অন্তত এক ডজন রাজ্যে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী নির্বাচনের দলীয় ভোট (প্রাইমারি) হবে।

বাইডেন মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেন, “এটা এখন স্পষ্ট যে, ডোনাল্ড ট্রাম্পই রিপাবলিকান প্রার্থী হবেন। এবং দেশবাসীর প্রতি আমার বার্তা হলো, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এর চেয়ে বেশি ঝুঁকিপুর্ণ পরিস্থিতি আর হতে পারে না।”

বাইডেন বলেন, “আমাদের গণতন্ত্র, আমাদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা- বাছাই করার অধিকার থেকে শুরু করে ভোটের অধিকার; আমাদের অর্থনীতি- যা কোভিড-১৯ মহামারীর পরে বিশ্বে সবচেয়ে শক্তিশালীভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, সবই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।”

যুক্তরাষ্ট্রের এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে পুরো বিশ্বেই ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প ফের প্রেসিডেন্ট হলে দেশটির গণতন্ত্রের ভবিষ্যত হুমকিতে পড়তে পারে এবং বহির্বিশ্বের সঙ্গেও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আমূল বদলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সাময়িকী টাইমও বলেছে, দেড়শ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হবে যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্র। টাইমের বিশ্লেষণে বলা হয়, ট্রাম্প ফের প্রেসিডেন্ট হলে, যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক কাঠামো, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক অবস্থানেও ক্ষয় নিশ্চিৎ।

অন্যদিকে ৮১ বছর বয়সী জো বাইডেন পুনর্নির্বাচিত হলেও কত দিন তিনি কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তাছাড়া বিভিন্ন কারণে ভোটারদের মনে তার ভাবমূর্তি যথেষ্ট উজ্জ্বল নয়।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist