Beta
রবিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৪

ছাত্রীকে হয়রানি : নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক বহিষ্কার

ছাত্রীকে হয়রানির ঘটনায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষর্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে রাখেন।
ছাত্রীকে হয়রানির ঘটনায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষর্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে রাখেন।

ময়মনসিংহের ত্রিশালের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থীকে বিভিন্নভাবে হয়রানির ঘটনায় দুই শিক্ষককে বহিষ্কার করা হয়েছে।

তারা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক রেজুয়ান আহমেদ শুভ্র ও একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাজন সাহা। রেজুয়ান আহমেদ শুভ্রকে সাময়িক ও সাজন সাহাকে চূড়ান্ত বহিষ্কার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) দুপুর দেড়টায় এক বিজ্ঞপ্তিতে তাদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

এ তথ্য নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সঞ্জয় কুমার মুখার্জী বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৪তম বিশেষ সিন্ডিকেট সভায় মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গঠিত উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন তদন্ত কমিটির কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এক ছাত্রীকে অনুপস্থিত দেখিয়ে পরীক্ষায় জরিমানা আদায়, নম্বর কম দেওয়া ও থিসিস পেপার আটকে হয়রানির অভিযোগ ওঠে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাজন সাহার বিরুদ্ধে।

এছাড়া সাজন সাহার বিরুদ্ধে ওই ছাত্রীকে মধ্যরাতে চা পানের নিমন্ত্রণ, পড়া বোঝাতে ব্যক্তিগত চেম্বারে ডাকা, শাড়ি পরে দেখা করতে বলা, ইনবক্সে ছাত্রীর ছবি চাওয়া, মেসেঞ্জারে অন্তরঙ্গ দৃশ্যের ভিডিও লিংক শেয়ার করার মতো নানা অভিযোগ উঠেছে।

এসব অভিযোগ এনে গত ৩ মার্চ এক ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফেইসবুক গ্রুপে পোস্ট দেন। এ খবর সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেক শিক্ষার্থী মুখ খুলতে শুরু করেন। পরের দিন ৪ মার্চ বিক্ষুব্ধ শিক্ষর্থীরা দুই ঘণ্টা প্রশাসনিক ভবন তালাও দিয়ে রাখেন। সাজন সাহার স্থায়ী বহিষ্কারসহ ছয় দফা দাবি আদায়ে ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেন শিক্ষার্থীরা।

এ ঘটনায় কোষাধ্যক্ষ ড. আতাউর রহমানকে প্রধান করে ৫ মার্চ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

পরে ৫ মার্চ ওই ছাত্রী উপাচার্য বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়ে বিচার চান। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অভিযোগ, শিক্ষক সাজন সাহা ২০১৯ সাল থেকে তাকে বিভিন্ন অনৈতিক মেসেজ দিচ্ছেন।

এ নিয়ে টানা আন্দোলনে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচার দাবি করে আসছিলেন মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১৩ মার্চ সাজন শাহ ও রেজুয়ান আহমেদ শুভ্রকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাধ্যতামূলক ছুটি দেওয়া হয়েছে। এদিন দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হুমায়ন কবীর স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ আদেশ জারি করা হয়।

আদেশে আরও বলা হয়, মানবসম্পদ ও ব্যাবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক রেজুয়ান আহমেদ শুভ্রকে বিভাগীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর বিভাগীয় প্রধানের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করবেন।

তবে তাতেও বিক্ষোভ থামেনি, শিক্ষরার্থীরা আরও ফুঁসে উঠলে বৃহস্পতিবার দুপুরে এক বিজ্ঞপ্তিতে ওই শিক্ষকদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist