Beta
শনিবার, ২ মার্চ, ২০২৪

ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পরিকল্পনা অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের

সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের টহল। সম্প্রতি তোলা ছবি - গেটি ইমেজেস

ইরাক ও সিরিয়ায় ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে ধারাবাহিকভাবে হামলা চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র একটি পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা সিবিএস নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

কর্মকর্তারা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা কয়েকদিন ধরে চলবে। এই হামলা কখন শুরু হবে তা আবহাওয়া পরিস্থিতি দেখে ঠিক করা হবে।

গত রবিবার জর্ডানে সিরিয়ার সীমান্তের কাছে একটি ড্রোন হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের তিন সৈন্য নিহত হওয়ার পর ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পরিকল্পনা অনুমোদনের কথা জানায় যুক্তরাষ্ট্র। জর্ডানে ওই হামলার জন্য ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীকে দায়ী করছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইরাকে ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স নামে পরিচিত ওই গোষ্ঠীর অধীনে কয়েকটি সশস্ত্র বাহিনী রয়েছে বলে ধারণা করা হয়, যাদের অস্ত্র, অর্থ ও প্রশিক্ষণ দিয়ে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী সহায়তা করে বলে অভিযোগ রয়েছে। গোষ্ঠীটি ইতোমধ্যে স্বীকার করেছে, রবিবারের হামলা তারাই চালিয়েছে।

জর্ডানে ‘টাওয়ার ২২’ নামে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে চালানো ওই হামলায় যেকোনো ধরনের সম্পৃক্ততা থাকার কথা অস্বীকার করেছে ইরান। হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের তিন সৈন্য নিহত হওয়ার পাশাপাশি ৪১ জন আহত হয়।

মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, দেশটির গোয়েন্দা সংস্থার দৃঢ় বিশ্বাস– জর্ডানের ঘাঁটিতে চালানো হামলায় ব্যবহৃত ড্রোন ইরানে তৈরি হয়েছিল। ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য ইরান রাশিয়াকে যেসব ড্রোন দিচ্ছে, তার সঙ্গে জর্ডানের ঘাঁটিতে হামলার ব্যবহৃত ড্রোনের মিল রয়েছে।

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন বিলম্বিত সামরিক প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে বলেন, “আমরা প্রতিক্রিয়া জানাব যেখানে আমরা চাই, যখন আমরা চাই এবং যেভাবে আমরা চাই।”

তিনি বলেন, “আমি মনে করি, সঠিক ব্যক্তিদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার বিষয়টি নিশ্চিত করার সঙ্গে সম্পর্কিত চ্যালেঞ্জের কথা সবাই স্বীকার করেন। আর এটি করার জন্য কোনও নির্ধারিত সূত্র নেই। পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়, সেজন্য এটি সামাল দেওয়ার বিভিন্ন উপায় আছে। আর সেটিই সবসময় আমাদের মূল লক্ষ্য।”

সিবিএস নিউজের সঙ্গে কথা বলা যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা সম্ভাব্য হামলার নির্দিষ্ট সময়সীমা সম্পর্কে কোনও ধারণা দেননি। তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা খারাপ আবহাওয়ার মধ্যেও হামলা চালাতে সক্ষম, তবে বেসামরিক লোকজন যাতে হামলার শিকার না হয় সে জন্য সবকিছু পরিষ্কারভাবে দেখা যাওয়ার পরই হামলা শুরু করতে চাইছেন তারা।

জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে হামলার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের চাপের মুখে রয়েছেন, যারা ইরানের মাটিতে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চাইছেন। তবে বাইডেন স্পষ্ট করে বলেছেন, তিনি ইরানের সঙ্গে বড় পরিসরে যুদ্ধ বা এই অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়াতে চান না।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist