Beta
শনিবার, ১৫ জুন, ২০২৪
Beta
শনিবার, ১৫ জুন, ২০২৪

বাংলাদেশে নির্বাচন ‘অবাধ বা সুষ্ঠু হয়নি’ : যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র
বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর
Picture of সকাল সন্ধ্যা ডেস্ক

সকাল সন্ধ্যা ডেস্ক

বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন অবাধ বা সুষ্ঠু হয়নি বলে মনে করে যুক্তরাষ্ট্র। ভোটে অনিয়মের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় দেশটির পক্ষ থেকে নিন্দাও জানানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সোমবার দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলারের সই করা এক বিবৃতিতে এই প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। বিবৃতিটি ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের অফিসিয়াল ফেইসবুক পাতায়ও পোস্ট করা হয়েছে।

সেখানে বলা হয়েছে, “অন্যান্য পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রও একমত যে, এই নির্বাচন অবাধ বা সুষ্ঠু হয়নি। আমরা দুঃখিত যে নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ ছিল না।”

শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানালেন মোদী

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জনগণ এবং গণতন্ত্র, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের স্বাধীনতা এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য তাদের আকাঙ্ক্ষাকে সমর্থন করে উল্লেখ করে ম্যাথিউ মিলার বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র দেখেছে যে, ৭ জানুয়ারী, ২০২৪ এর সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন জিতেছে আওয়ামী লীগ। রাজনৈতিক বিরোধীদলের হাজার হাজার সদস্যের গ্রেপ্তার এবং নির্বাচনের দিন নানা অনিয়মের প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন।”

নির্বাচন চলাকালে এবং এর আগের সময়ে যেসব সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে তার নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “আমরা আশা করি বাংলাদেশ সরকার এসব ঘটনার বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত করবে এবং অপরাধীদের যথাযথ জবাবদিহির আওতায় নেবে।”

বিবৃতিতে বলা হয়, “সামনের দিনগুলোয়, একটি মুক্ত, উন্মুক্ত এশিয়-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিকে এগিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশে মানবাধিকার ও সুশীল সমাজের সমর্থনে, জনগণের সঙ্গে জনগণের এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও গভীর করতে বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারিত্বেও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

বাংলাদেশে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী,  ২২২ আসনে জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। অর্থাৎ, নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েই টানা চতুর্থ মেয়াদে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ।

বাংলাদেশের নির্বাচন যেভাবে দেখল আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম

টানা চতুর্থ মেয়াদে জয় পাওয়ায় সোমবার (৮ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছে ভারত, রাশিয়া, চীনসহ সাত দেশ। এসব দেশের রাষ্ট্রদূতেরা গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন এবং নিজ নিজ দেশের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানান।

এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিদেশি বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলোর বেশ আগ্রহ ছিল। গতকাল বিকালে বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন শেখ হাসিনা।

বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য তার সরকার সচেষ্ট ছিল বলেও জানান।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আসা পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, “আমি খুব আনন্দিত, আপনারা এসেছেন। আপনাদের আগমন আমাদের দেশের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য এবং মানুষের অধিকার আরও সুরক্ষিত হয়েছে।

বিরোধী দলও কি আমরা গড়ে তুলব : শেখ হাসিনা

“দেখেছেন, আমাদের দেশের মানুষ কীভাবে ভোট দেয় এবং নির্বাচন যে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হতে পারে, সেই দৃষ্টান্তও আমরা সৃষ্টি করতে পেরেছি।”

জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত ভোটে আওয়ামী লীগ পুনরায় জয়ী হয়েছে, বলেন তিনি।

ওয়াশিংটন থেকে আসা এক সাংবাদিক যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নে শেখ হাসিনার পদক্ষেপ জানতে চান।

জবাবে তিনি বলেন, “আমাদের দিক থেকে কোনো সমস্যা নেই। এটা নির্ভর করছে আপনার এবং আপনার সরকারের ওপর। এটা আমার ভালো লেগেছে যে আপনি উল্লেখ করেছেন নির্বাচন অনেক ভালো হয়েছে।”  

নির্বাচনের মানদণ্ড মেনে চলেনি বাংলাদেশ : যুক্তরাজ্য

বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিবৃতি দিয়েছে যুক্তরাজ্যও।

গণতান্ত্রিক নির্বাচনের কিছু মানদণ্ডের কথা উল্লেখ করে সেখানে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের নির্বাচনে এসব মেনে চলা হয়নি। পাশাপাশি বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ জানুয়ারি) ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাজ্য হাইকমিশনের ফেইসবুক পাতায় দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, “বাংলাদেশের ১২তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল সম্পর্কে যুক্তরাজ্য অবগত আছে।

“গণতান্ত্রিক নির্বাচন নির্ভর করে বিশ্বাসযোগ্য, অবাধ ও উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার উপর। মানবাধিকার, আইনের শাসনের প্রতি সম্মান ও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অন্যতম অপরিহার্য উপাদান। নির্বাচনের সময়কালে এই মানদণ্ডগুলো ধারাবাহিকভাবে মেনে চলা হয়নি। আমরা ভোটের আগে বিরোধী দলের বহু সদস্যের গ্রেপ্তারে উদ্বিগ্ন।”

সেখানে যুক্তরাজ্য আরও বলেছে, “আমরা ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সহিংসতা, যা নির্বাচনের পূর্বে ও নির্বাচনের সময় হয়েছে, তার প্রতি নিন্দা জানাই। রাজনৈতিক অঙ্গনে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কোনও স্থান নেই।”

নির্বাচনে সকল রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করেনি উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, “কাজেই বাংলাদেশের জনগণের হাতে ভোট প্রদানের জন্য সকল বিকল্প উপস্থিত ছিলো না।

“যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশ একটি ঐতিহাসিক ও গভীর বন্ধুত্বের বন্ধনে আবদ্ধ। দীর্ঘমেয়াদী প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে টেকসই রাজনৈতিক সমঝোতা ও সক্রিয় নাগরিক সমাজ গড়ে তোলার পরিবেশ তৈরি করা অপরিহার্য। আমরা আশা করি, সকল রাজনৈতিক দল তাদের মতভিন্নতাকে পাশে রেখে সামনের দিনগুলোতে বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থে এক হয়ে কাজ করবে। আমরা এই প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে সর্বদা প্রস্তুত।”

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত