Beta
সোমবার, ২০ মে, ২০২৪
Beta
সোমবার, ২০ মে, ২০২৪

চার ইসরায়েলির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালাচ্ছে সহিংস ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। ছবি: আল জাজিরা।
পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালাচ্ছে সহিংস ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। ছবি: আল জাজিরা।
Picture of সকাল সন্ধ্যা ডেস্ক

সকাল সন্ধ্যা ডেস্ক

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলার অভিযোগে চার ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বৃহস্পতিবার এই নিষেধাজ্ঞার অনুমোদন দিয়ে একটি নির্বাহী আদেশে সই করেন।

পশ্চিম তীরে সহিংসতা ‘অসহনীয় পর্যায়ে’ পৌঁছে গেছে জানিয়ে বাইডেন এ সংক্রান্ত নির্বাহী আদেশে সই করেন বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

যাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে তারা যুক্তরাষ্ট্রে থাকা তাদের যাবতীয় সম্পদ ব্যবহার ও আমেরিকান আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশ করতে পারবেন না।

গত বছরের ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন হামলার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল গাজায় হামলা শুরু করার পর থেকে পশ্চিম তীরেও ইসরায়েলিদের সহিংসতা বেড়েছে।

জাতিসংঘ জানায়, তখন থেকে পশ্চিম তীরে প্রায় ৩৭০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এদের অধিকাংশই ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছে। তবে তাদের মধ্যে অন্তত আট জন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হাতে নিহত হয়েছেন।

ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের এমন পদক্ষেপ এটাই প্রথম। এটি একটি বিরল পদক্ষেপ। মিশিগান রাজ্যে ভ্রমণ করার সময় বাইডেন এই পদক্ষেপ নিলেন। মিশিগানে বিশাল আরব-আমেরিকান জনসংখ্যা রয়েছে যারা ইসরায়েলের প্রতি বাইডেনের অকুণ্ঠ সমর্থনের তীব্র সমালোচনা করেছেন।

এমন প্রেক্ষাপটে নতুন নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র এই বার্তা দিতে চায় যে, যারা ফিলিস্তিনিদের ওপর আক্রমণ করবে, ভয় দেখাবে বা সম্পত্তি দখল করবে এমন যে কারও ওপর নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে।

আরব আমেরিকান ইনস্টিটিউট এর আগে জানায়, গাজায় ইসরায়েলের হামলার পর আরব আমেরিকানদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রতি সমর্থন ১৭ শতাংশে নেমে এসেছে। ২০২০ সালে যা ২০ শতাংশ ছিল।

নির্বাহী আদেশটি যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে পশ্চিম তীরে নতুন কোনও আক্রমণের প্রতিক্রিয়া জানাবে তারও একটি ইঙ্গিত। এর আগে গত বছর কয়েকজন ইসরায়েলির ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।

কংগ্রেসকে লেখা এক চিঠিতে বাইডেন বলেন, “পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি— বিশেষ করে চরমপন্থী ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার উচ্চ মাত্রা, মানুষ ও গ্রামগুলোর জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি এবং সম্পত্তি ধ্বংস অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছে গেছে, যা এই অঞ্চলের শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করছে।”

বাইডেন প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেন, যে চারজনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, তারা সরাসরি সহিংসতা করেছে। তারা বারবার ভয় দেখানো এবং সম্পত্তি ধ্বংসের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করায় সম্পৃক্ত ছিল।”

বাইডেন প্রশাসন আরও জানায়, নির্বাহী আদেশটি ‘বৈষম্যমূলক নয়’ এবং ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। যারাই বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে সহিংস কর্মকাণ্ড বা হুমকি, ভয়ভীতি, ধ্বংস, সম্পত্তি দখল বা সন্ত্রাসের নির্দেশ দেবে বা অংশ নেবে তাদের ওপরই এমন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে।

তবে এই নিষেধাজ্ঞা আমেরিকান নাগরিকদের ওপর প্রয়োগ করা যাবে না, যাদের মধ্যেও কেউ কেউ সহিংসতায় জড়িত বলে মনে করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাস এই নিষেধাজ্ঞা ওই চার ব্যক্তির ওপর বেশ প্রভাব ফেলবে। আর ইসরায়েলও ইহুদি বসতি স্থাপনে সহিংসতার জন্য দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে বাড়তি পদক্ষেপ নেবে।

তবে বাইডেন নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করার কিছুক্ষণ পরই ইসরায়েল তার অসন্তোষের ইঙ্গিত দেয় এবং পশ্চিম তীরের বেশিরভাগ বসতি স্থাপনকারী আইন মেনেই কাজ করে বলেও দাবি করে।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ইসরায়েল সর্বত্র আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়, তাই এই ইস্যুতে অস্বাভাবিক কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন নেই।”

নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের এই প্রতিক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ঘটে চলা গভীর বিভেদের আরেকটি প্রকাশ্য লক্ষণ। একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের ধারণা নিয়ে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বাইডেন ও নেতানিয়াহুর মধ্যে মতভেদ তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাস, ইসরায়েলের পাশাপাশি একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র, যা দ্বিরাষ্ট্রিক সমাধান হিসেবে পরিচিত, এই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতার জন্য জরুরি।

কিন্তু নেতানিয়াহু বারবার এই ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছেন। হোয়াইট হাউসও গত মাসে স্বীকার করে যে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সরকারের মধ্যে স্পষ্টতই মতভেদ তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত