Beta
শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

ইরান-সম্পর্কিত ৮৫ লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

জর্ডানের ঘাঁটিতে হামলার প্রতিক্রিয়ায় শুক্রবার ইরানের সঙ্গে সম্পর্কিত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি : গেটি ইমেজেস

ইরাক ও সিরিয়ায় ইরানের বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) ও তাদের সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্কিত ৮৫টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

গত সপ্তাহে জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে হওয়া হামলায় তিন সেনা নিহতের প্রতিক্রিয়া হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র শুক্রবার এই হামলা চালায় বলে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়ে আসা দূর পাল্লার বি-১ বোমারু বিমান দিয়ে এই হামলা চালানো হয়। এটি ছিল ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের প্রতিক্রিয়ার প্রথম ধাপ। আগামী কয়েক দিনে এ ধরনের আরও কিছু সামরিক অভিযান চালানো হতে পারে।

গত রবিবার জর্ডানে সিরিয়ার সীমান্তের কাছে একটি ড্রোন হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের তিন সৈন্য নিহত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পরিকল্পনা অনুমোদনের কথা জানায় যুক্তরাষ্ট্র। জর্ডানে ওই হামলার জন্য ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীকে দায়ী করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র।

জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে হামলা হওয়ার পর প্রতিক্রিয়া দেখাতে যুক্তরাষ্ট্রের দেরি করা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন বলেন, “আমরা প্রতিক্রিয়া জানাব যেখানে আমরা চাই, যখন আমরা চাই এবং যেভাবে আমরা চাই।”

যদিও শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের চালানো হামলায় ইরানের ভূখণ্ডের কোনো স্থানকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি, তবে এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যে হামাসের সঙ্গে ইসরায়েলের যুদ্ধ ঘিরে যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে তা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হামলায় কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার, রকেট, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণ কেন্দ্র, লজিস্টিক এবং অস্ত্র সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্ত করা হয়।

সেনাবাহিনী আরও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী সিরিয়ায় চারটি এবং ইরাকে তিনটি স্থানে মোট ৮৫টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। হামলাগুলো আইআরজিসির বিদেশি গোয়েন্দা ও সশস্ত্র বাহিনী শাখা কুদস ফোর্সকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে।

লেবানন থেকে ইরাক, ইয়েমেন ও সিরিয়া পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর এই কুদস ফোর্সের প্রভাব রয়েছে বলে মনে করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট স্টাফের পরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল ডগলাস সিমস জানান, বোমাগুলো আঘাত হানার পর লক্ষ্যবস্তুতে দ্বিতীয়বার বিস্ফোরণ হতে দেখা গেছে। এতে মনে হচ্ছে হামলাগুলো সফল হয়েছে। তবে হামলায় কোনো ‘জঙ্গি’ নিহত হয়েছে কিনা তা স্পষ্ট নয়।

তিনি জানান, যেসব স্থানে হামলা চালানো হয়েছে সেগুলোতে হামলা হলে প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে, এটা জেনেই হামলাগুলো চালানো হয়েছে।

হামলা শুরুর সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে আবহাওয়া বড় ভূমিকা রেখেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist