Beta
রবিবার, ৩ মার্চ, ২০২৪

ভালোবাসা দিবসের অসুখ ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে ব্লুজ’

গোলাপি, লাল আর বেগুনি হলো ভালোবাসা উদযাপনের রঙ। ভালোবাসা দিবসে এমন সব রঙ দিয়েই রঙিন হয়ে ওঠে পুরো পৃথিবী। কিন্তু এ দিনেও কেউ কেউ আলিঙ্গন করে নেন বেদনার নীল রঙ। 

কারণ তাদের যে পেয়ে বসে ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে ব্লুজ’! 

কিন্তু কী এই ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে ব্লুজ’?

‘ভ্যালেন্টাইনস ডে ব্লুজ’ হলো ব্যক্তির নিঃসঙ্গতার অনুভূতি। যে অনুভূতি ঠিক ‘ভ্যালেন্টাইন্স ডে’র দিনই একজনকে পেয়ে বসতে পারে। 

ফোর্বস ম্যাগাজিনের তথ্যমতে, ২০২২ এর এক সমীক্ষা বলছে এই বেদনাহত নীলচে অনুভূতি এমনকি ১৪ ফেব্রুয়ারির পরের সপ্তাহগুলোতেও চলমান থাকতে পারে। 

কানাডিয়ান মেন্টাল হেলথ অ্যাসোসিয়েশনের (সিএমএইচএ) মতে, ভালোবাসা দিবসের রোমান্সের ডামাডোলেও কারও কারও হতে পারে দুঃখ, উদ্বেগ এবং একাকিত্বের অনুভূতি। 

অন্যদিকে আমেরিকার এক জরিপে এক তৃতীয়াংশ মানুষ দাবি করেছেন, ১৪ ফেব্রুয়ারি উদ্দীপনার চেয়ে তাদের বরং এক অজানা শঙ্কায় পেয়ে বসে।

আর এমন সব অনুভূতিই হলো ‘ভ্যালেন্টাইন্স ডে ব্লুজে’র লক্ষণ। এটি বিশেষত ভালোবাসা দিবসে পেয়ে বসা এক মানসিক অবস্থা। 

কিন্তু কেন ‘ব্লুজ’ আসে ‘হৃদয়ও আকাশে’ তাও আবার ভালোবাসার মাসে? 

মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা এর তিনটি কারণ বাতলেছেন। 

ভালোবাসার পণ্যায়ন

মিডিয়ার নৌকায় চেপে ‘ভালোবাসা দিবস’ পৌঁছে গেছে দুনিয়ার সবখানে। 

সে রীতিমতো নিয়ন্ত্রণ করছে  মানুষের ভালোবাসা প্রকাশের রীতিনীতি। তা সে যে দেশেরই হোক। এই বিশেষ দিবসকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে টিভি মিডিয়া পর্যন্ত, বলে দিচ্ছে কেমন হবে ব্যক্তির ভালোবাসা প্রকাশের ধরন। বাজারে বের হচ্ছে হরেক রকমের উপহার সামগ্রী, কাটতি বাড়াতে ফ্যাশন হাউজগুলো দিচ্ছে বিশেষ ছাড় আর বলে দিচ্ছে কেমন হওয়া উচিৎ এই দিনের পোশাক। এই সবকিছু মিলিয়ে ব্যক্তির উপর তৈরি হচ্ছে সাংস্কৃতিক চাপ, তৈরি হচ্ছে নানামাত্রিক প্রত্যাশা। তার পছন্দ-অপছন্দের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে ট্রেন্ডে থাকা।

আর প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারার শঙ্কা অথবা অক্ষমতা, দুটোই তৈরি করছে উদ্ব্বেগ, হতাশা ও হীনম্মন্যতা।              

২০২৪ সালের এক জরিপ বলছে, এবারের ভালোবাসা দিবসে আমেরিকানরা তাদের সঙ্গীর জন্য আনুমানিক এক হাজার ৪২০ কোটি ডলার অর্থ ব্যয় করবে।  এই বিপুল অর্থ খরচই বোঝায় দিনটি উদযাপন নিয়ে সামাজিক-সাংস্কৃতিকভাবে আমেরিকানরা রীতিমত চাপে থাকেন। 

গবেষণা বলছে, ভালোবাসা দিবসে যারা উপহার গ্রহণ করেন, তারাও এমনকি নিম্ন মাত্রার মানসিক পীড়া বোধ করেন। 

আর যারা ভালোবাসা দিবসে অংশই নেন না বা সামর্থ্যের অভাবে এই দিন উদযাপন করতে পারেন না, তারা সমাজে নিজেদের ব্রাত্য বলে ধরে নেন। ভোগেন হতাশায়। 

গবেষকদের মতে, এই সময় ভালোবাসা নিয়ে বাজার ভোক্তাদের মনে একটা আকাশকুসুম কল্পনা তৈরি করে। ফলে ভোক্তারা নিজেদের স্বাভাবিক সীমাবদ্ধতাও সহজে মেনে নিতে পারেনা।

তুলনার ফাঁদ

গবেষণায় প্রমাণ মিলেছে যে, ভালোবাসা দিবস ঘিরে বর্তমান প্রজন্মের যে উদ্বেগ তার মূলে রয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া। ভালোবাসা দিবসে যুগলদের আপাত ‘সুখি’ আর ‘হাসিখুশি’ ছবি দেখে অনেকেরই নিঃসঙ্গ বোধ হয়। তাদের মনে হয় ‘এমন সুখ আমার কপালে নেই’। 

ফেইসবুকের নিউজফিড জুড়ে ভেসে বেড়ানো রোমান্টিক সব গল্পে যে কারও নিজেকে মনে হতে পারে দুঃখি। সোশ্যাল মিডিয়ায় যুগলদের এমন ছবি আর গল্প বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সম্পর্কের আসল চিত্রটি প্রকাশ করেনা। 

কোন সম্পর্কই ফেইসবুক অথবা ইন্সটায় দেওয়া ছবিগুলোর মতো এমন সদা হাসিখুশি হতেই পারেনা।

উচ্চমাত্রার একাকিত্ব

২০২৩ সালের একটি গবেষণা বলছে, একাকিত্ব হতে পারে ধ্বংসাত্মক। ‘ভালোবাসা দিবসে’ সঙ্গীর অনুপস্থিতি যে কারও একাকিত্বকে তীব্র করে তুলতে পারে। দিতে পারে চরম বিচ্ছিন্নতার বোধ। যা কিনা একজন ব্যক্তির মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর।  

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist