Beta
রবিবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৪

ভাইরাল হওয়ার বিপদ

20240318_020028

হালে সোশাল মিডিয়ায় ভিডিও দিয়ে তা ভাইরাল করার জন্য মুখিয়ে থাকেন অনেকে, তবে তার বিপদ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন রবিউল ইসলাম। পেশায় এই গাড়িচালক সড়ক থেকে এখন পৌঁছে গেছেন হাজতে।

২৬ বছর বয়সী রবিউল নিজে ভিডিও করেননি, তবে তার কাজ নিয়ে করা এক ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছিল ফেইসবুকের ওয়ালে ওয়ালে। তাতে দেখা যাচ্ছিল, তিনি কয়েক ফুট উঁচু রোড ডিভাইডার বা সড়ক বিভাজকে মানুষকে পার করছিলেন দুটি মই দিয়ে, তার বিনিময়ে টাকাও নিচ্ছিলেন।

যানজট এড়াতে চার লেনের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের কাচপুর সেতু থেকে কুয়েত প্লাজা এলাকা পর্যন্ত এলাকা বিভাজক দেয় সড়ক ও জনপথ বিভাগ। আঞ্চলিক যান চলাচলের জন্য আরও দুই লেন রাখা হয় দুই পাশে।

দূরপাল্লার লেন থেকে আঞ্চলিক লেনে যাত্রীদের চলাচলের জন্য শিমরাইলে সওজ কার্যালয়ের সামনে বিভাজকের একাংশ খোলা ছিল। দুই মাস ধরে তা বন্ধ রেখেছে সওজ। তবে দূরপাল্লার গাড়িগুলো ওই স্থানেই যাত্রী নামিয়ে দিচ্ছিল।

দূরপাল্লার যাত্রীদের আঞ্চলিক লেনে আসতে হলে কাচপুর সেতুর সিদ্ধিরগঞ্জের পাড়ে নেমে হেঁটে কিছুটা সামনে আসতে হয়। এরপর সেখান থেকে আঞ্চলিক সড়কের যানবাহনে উঠতে হয়।

এই সুযোগে উঁচু ওই বিভাজকের দুই পাশে ছোট দুটি মই দিয়ে পথচারীদের পারাপারের ব্যবস্থা করে দিচ্ছিলেন চট্টগ্রামের মিরসরাই থানার পূর্ব দুর্গাপুর এলাকার আলতাব হোসেনের ছেলে রবিউল। তিনি এখন থাকেন শিমরাইলে।

এই কাজে রবিউলের সহযোগী ছিলেন আরেক যুবক। তারা মই দিয়ে প্রতিজনকে পার করতে নিচ্ছিলেন পাঁচ টাকা। গত কয়েকদিন ধরে পথচারীদের এভাবেই মই দিয়ে রাস্তা পার করে দিচ্ছিলেন তারা।

গ্রেপ্তার রবিউল ইসলাম।

এই ঘটনার ভিডিও রবিবার দুপুরে সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর রাত ৮টার দিকে তৎপর হয় সওজ, তাদের কাছে খবর পেয়ে পুলিশ আটক করে রবিউলকে।

নারায়ণগঞ্জ সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহানা ফেরদৌস সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “ঈদ সামনে রেখে এই চক্র টাকা কামানোর উপায় খুঁজে বের করে। এ দৃশ্য দেখার পর আনসার সদস্যদের মাধ্যমে তাদের মই জব্দ করা হয়। তবে তাতেও তারা ক্ষান্ত হয়নি, আবার মই বানিয়ে এ কাজ শুরু করে। বিষয়টি আবার দেখার পর পুলিশের সাহায্য চাওয়া হয়।”

এরপর রবিউলকে ধরে কাচপুর থানায় নিয়ে যায় মহাসড়ক পুলিশ। থানার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রবিউল ভুলের কথা স্বীকার করেছেন। তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

হাইওয়ে পুলিশের শিমরাইল ফাঁড়ির পরিদর্শক শরফুদ্দিন আহাম্মেদ সকাল সন্ধ্যাকে জানান, রবিউল পেশায় গাড়িচালক। তবে কিছুদিন বেকার ছিলেন। রবিবার সকাল থেকে সড়ক বিভাজকের দুই পাশে মই বসিয়ে বাস থেকে নামা যাত্রীদের পারাপার করছিলেন।

রবিউলকে আটকের খবরটিও সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে নানাজন নানা মন্তব্য করছেন।

কেউ কেউ রবিউলকে আটকের খবরে সাধুবাদ দিলেও কেউ আবার তার পক্ষেও লিখছেন।

একজন সড়ক পার হওয়ার যন্ত্রণার কথা জানিয়ে ফেইসবুকে লিখেছেন, “এই লোকটা মানুষের উপকারই করেছে, আমিও হেমায়েতপুর (সাভার) নেমে বিপদে পড়িছিলাম, ১ মাইল হাঁটা লাগছিলো।”

একজন লিখেছেন, রবিউলকে আটকে বেশ তৎপর ছিল পুলিশ, কিন্তু সড়কে চাঁদাবাজি আর বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কারণ হচ্ছে যারা, তাদের বিরুদ্ধে তৎপরতা কই?

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist