Beta
সোমবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৪

আমাদের কোনও প্রভু নেই, আছে বন্ধু : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
সোমবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : বাসস

অন্য দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’ এই নীতি মেনে চলার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “আমাদের কোনও প্রভু নেই, আছে বন্ধু। তাই কারও রক্তচক্ষু বাঙালি জাতি কোনোদিন মেনে নেবে না।

“প্রয়োজন হলে বুকের রক্ত দিয়ে বাঙালি জাতি দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব-সম্মান রক্ষা করবে।”

সোমবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৪ উপলক্ষে এই ভাষণ দেন তিনি।

জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ গত ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে সরকার পরিচালনা করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই যাত্রা একেবারেই কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। প্রাকৃতিক ও মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগ, মহামারি, যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং সর্বোপরি দেশি-বিদেশি শক্তির নানা ষড়যন্ত্র আমাদের চলার পথকে বাধাগ্রস্ত করেছে বার বার।”

প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় আইলা, সিডর এবং কয়েক দফা বন্যার কথা তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি কোভিড মহামারী, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কথাও বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, “প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগও জনজীবনে কম দুর্ভোগের কারণ হয়নি। ২০১৩-১৪ সময়ে এবং ২০১৬ সালে বিএনপি-জামাতের দেশব্যাপী হরতাল-অবরোধ, অগ্নি-সন্ত্রাস, অগণিত মানুষ হত্যার মতো নৃশংসতা এখনও জনমনে গভীর দাগ কেটে আছে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি এবং তার মিত্ররা এবারও হরতাল-অবরোধ, অগ্নি সংযোগের মতো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সূচনা করেছিল।

“কিন্তু জনগণের প্রতিরোধের মুখে এবার তারা পিছু হটতে বাধ্য হতে হয়। তবুও তাদের হাতে বেশ কয়েকজন নিরীহ মানুষ প্রাণ হারান এবং কয়েকশ’ কোটি টাকার সম্পদ বিনষ্ট হয়।”

এসব অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করে দেশের অগ্রযাত্রাকে বেগবান করতে সরকার সব ধরনের চেষ্টা চালাচ্ছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “অপ্রিয় হলেও সত্য যে, বাংলাদেশের এই স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে খর্ব করার এবং অর্থনৈতিক মুক্তির আকাক্ষাকে নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্র থামেনি। ষড়যন্ত্রকারীরা এখনও ওঁৎ পেতে বসে আছে কীভাবে বাংলাদেশের অগ্রসরমান অভিযাত্রাকে স্তব্ধ করা যায়।”

একাত্তরের পরাজিত শক্তি, পঁচাত্তরের ঘাতক এবং তাদের দোসররা এখনও তৎপর অভিযোগ করে তিনি বলেন, “তারা পরাজয়ের বদলা নিতে চায়। সুযোগ পেলেই তারা আঘাত হানবে। তাদের সামনে একমাত্র বাধা আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগকে ছলে-বলে-কৌশলে নিচিহ্ন বা দুর্বল করতে পারলেই পরাজিত শক্তির উত্থান অনিবার্য। কাজেই কাণ্ডারি হুঁশিয়ার।”

তিনি বলেন, বীরের জাতি বাঙালি যুদ্ধ করে এদেশের স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছে। শেখ মুজিবুর রহমানোর নীতি অনুসরণ করে এই দেশ পরিচালিত হয়। নেই নীতি হলো, ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়’।

কারও রক্তচক্ষু বাঙালি জাতি কোনোদিন মেনে নেবে না, এমন প্রত্যয়ের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এ প্রসঙ্গেই প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের কোনও প্রভু নেই, আছে বন্ধু।”

জন্মের পর থেকেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র, মানবিধাকার এবং মানুষের মৌলিক অধিকার আদায়ের লড়াই করে আসছে উল্রেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “এসব লড়াইয়ের অংশ হিসেবেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে পাকিস্তানের স্বৈরশাসন, শোষণ-নির্যাতনের নাগপাশ থেকে মুক্তিলাভ করে সৃষ্টি হয় বাংলাদেশের।

“হাজারও শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্র বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কখনই ভুলুণ্ঠিত হতে দেবে না। উচ্চ আদালতের রায়ের প্রেক্ষিতে সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পথ আমরা চিরতরে বন্ধ করে দিয়েছি। দেশের সব গণতান্ত্রিক দল এবং সাধারণ মানুষকে গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখার জন্য অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করতে হবে।”

তিনি বলেন, “মনে রাখতে হবে আমাদের সংবিধানই গণতন্ত্রকে সুরক্ষা দেওয়া ও সমুন্নত রাখার সর্বোচ্চ রক্ষাকবচ। সংবিধানকে পাশ কাটিয়ে বা পদদলিত করে কোনও কিছু করার চেষ্টার অর্থ হচ্ছে গণতন্ত্রকে খর্ব করা।”

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist