Beta
রবিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৪

তিমি গান গায় কীভাবে, জানালেন বিজ্ঞানীরা

ছবি : বিবিসি
ছবি : বিবিসি

সমুদ্রের স্মার্ট ও অতিমাত্রায় সামাজিক প্রাণী হচ্ছে তিমি। এরা একে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ করতে কিংবা সঙ্গী খুঁজতে এক ধরনের শব্দ করে, যা তিমি সংগীত হিসেবে পরিচিত।

নাবিকরা প্রায়ই মাঝ সমুদ্রে এক ধরনের অদ্ভূত ও ভীতিকর শব্দ শুনতে পান। অনেক নাবিক এই শব্দকে ভূতের গান কিংবা রহস্যময় কোনও সামুদ্রিক প্রাণীর গান বলে মনে করতেন। তবে গবেষকরা আগেই জানিয়েছেন, সেই অদ্ভুত ও ভীতিকর শব্দগুলোই আসলে তিমিদের গান।

বেশ কয়েকবছর আগেই তিমিদের ওই রহস্যময় শব্দ বা গান রেকর্ড করেছিলেন বিজ্ঞানীরা। তবে সমুদ্রের নিচে তিমিরা কীভাবে শব্দ করে কিংবা গান গায় তা বরাবরই এক রহস্য হয়ে ছিল বিজ্ঞানীদের কাছে। সমুদ্রের নিচে মুখে পানি না ঢুকিয়ে কীভাবে শব্দ করা সম্ভব, সেই রহস্যের অবশেষে কিনারা করতে পেরেছেন বিজ্ঞানীরা।

সম্প্রতি ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ডেনমার্কের একদল গবেষক হাম্পব্যাকসহ বালিন প্রজাতির ১৪ ধরনের তিমি নিয়ে গবেষণা করেছেন, যার মধ্যে নীল তিমি, রাইট, মিনক ও ধূসর তিমিও রয়েছে।

নেচার সাময়িকীতে প্রকাশিত ওই গবেষণায় তারা দাবি করছেন, হাম্পব্যাকসহ বালিন প্রজাতির তিমির শরীরে বিশেষ ধরনের ভয়েস বক্স বা স্বরযন্ত্র রয়েছে। যার সাহায্যে এরা পানির নিচে গানের মতো শব্দ তৈরি করতে পারে।

গবেষকরা রেকর্ড করা তিমির শব্দ বিশ্লেষণ করে, শব্দ তৈরি করতে স্বরযন্ত্রের মধ্য দিয়ে কীভাবে বায়ু প্রবাহিত হয় তা খুঁজে বের করেছেন। তারা দুটি মৃত তিমির স্বরযন্ত্র বা ভয়েস বক্স আলাদা করে তা নিয়ে গবেষণা করেন।

গবেষণায় তারা দেখতে পান, তিমির ভয়েস বক্স কিংবা স্বরযন্ত্রে একটি ইউ আকৃতির কাঠামো আছে। এটি লম্বা সিলিন্ডার আকৃতির টিস্যু দিয়ে তৈরি, যার মাধ্যমে তিমিরা সমুদ্রের নিচে কম ফ্রিকোয়েন্সির শব্দ তৈরি করে। ইউ আকৃতির কাঠামো দিয়ে এরা বাতাসের পুনঃব্যবহার করতে পারে। এ কারণে তাদের স্বরযন্ত্রে পানি ঢুকে পড়ে না।

মানুষ শব্দ তৈরির জন্য ভোকাল কর্ড ব্যবহার করে। মানুষ কথা বলার সময় বাতাস যখন ভোকাল কর্ডের ওপর দিয়ে যায় তখন কণ্ঠস্বর কম্পনের মাধ্যমে কথা বা শব্দ উৎপন্ন হয়। তবে তিমি স্তন্যপানী প্রাণী হলেও এদের শব্দ তৈরির কাঠামো আলাদা।

গবেষণায় নেতৃত্ব দেওয়া সাউদার্ন ডেনমার্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর কোয়েন ইলেম্যানস বিবিসিকে বলেন, তারা গবেষণায় দেখেছেন, তিমির ভয়েস বক্সের এই ইউ-আকৃতির কাঠামোটি স্বরযন্ত্রের ভেতরে একটি বড় ফ্যাটি কুশনের সঙ্গে ধাক্কা খায়। তিমিরা যখন তাদের ফুসফুস থেকে বাতাস কুশনটির বাইরে ঠেলে দেয়, তখন এটি কম্পন শুরু করে। কম্পন থেকে পানির নিচে মৃদু মাত্রার শব্দ তৈরি হয়।

ওই গবেষণায় বলা হয়, এরা পানির নিচে যোগাযোগের জন্য ৩০০ হার্জ পর্যন্ত মৃদু ফ্রিকোয়েন্সির শব্দ ব্যবহার করে।

তবে গবেষকরা বলছেন, সমুদ্রে চলাচলকারী জাহাজের শব্দ তিমিদের যোগাযোগ প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে। মানবসৃষ্ট বিভিন্ন শব্দ তিমিদের গানের তরঙ্গকেও বাধাগ্রস্ত করে।

প্রফেসর কোয়েন ইলেম্যানস বিবিসিকে বলেন, “তিমিদের টিকে থাকার জন্য শব্দ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই গানের মাধ্যমেই তারা সাগরে একে অপরকে খুঁজে বের করে।”

তিনি তিমিকে পৃথিবীতে বসবাস করা অন্যতম রহস্যময় প্রাণী হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বিশ্বের বড় বড় প্রাণীর মধ্যে স্মার্ট ও খুব বেশি সামাজিক প্রাণী হচ্ছে তিমি।

মজার বিষয় হচ্ছে, তিমিরা যোগাযোগ ছাড়াও শিকার করতে গান ব্যবহার করে। তবে এরা ঠিক কীভাবে শিকারের সময় সংগীত ব্যবহার করে সেই রহস্য এখনও উদ্ঘাটন করা যায়নি বলে জানান প্রফেসর ইলেম্যানস।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist