Beta
সোমবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৪

আইএসআইএস-কে কারা, কেন হামলা চালাল রাশিয়ায়

স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে রাশিয়ার ক্রোকাস সিটি হলে হামলা হয়।
স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে রাশিয়ার ক্রোকাস সিটি হলে হামলা হয়।

মস্কোর কাছে কনসার্ট হলে শুক্রবার হামলা চালিয়েছে ইসলামিক স্টেট, এমন তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাদের কাছে রয়েছে। দেশটির এক কর্মকর্তা শনিবার রয়টার্সকে একথা বলেন।

বলা হচ্ছে, ইসলামিক স্টেটের আফগান শাখা আইএসআইএস-কে রাশিয়ায় এই হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে এই সংগঠনটি হঠাৎ কেন রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর কাছে এমন হামলা চালাল, এর কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন পর্যবেক্ষকরা।

আইএসআইএস-কে কারা

ইসলামিক স্টেট খোরাসান (আইএসআইএস-কে) ২০১৪ সালের শেষের দিকে পূর্ব আফগানিস্তানে আত্মপ্রকাশ করে। এটি ইরান, তুর্কমেনিস্তান ও আফগানিস্তানের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত অঞ্চলের পুরোনো নাম ‘খোরাসান’ থেকে নামকরণ করা হয়েছে।

বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠী থেকে পলাতক সদস্যদের নিয়ে এটি গঠিত হয়েছিল। এদের মধ্যে রয়েছে আল-কায়েদা, তেহরিক-ই-তালেবান (টিটিপি) এবং আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সাবেক তালেবান যোদ্ধারা।

আইএসআইএস-কে ইসলামিক স্টেটের অন্যতম সক্রিয় আঞ্চলিক শাখা। ২০১৮ সালে এর সদস্য সংখ্যা সর্বাধিক হলেও পরে তা কমতে থাকে। তালেবান ও যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণের ফলে সংগঠনটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র বলছে, ২০২১ সালে আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের পর থেকে আইএসআইএস-কে-এর মতো চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে তাদের ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে।

আইএসআইএস-কে পরিচালিত কিছু উল্লেখযোগ্য হামলা

আইএসআইএস-কে-এর বিরুদ্ধে আফগানিস্তানের ভেতরে ও বাইরে বহু মসজিদে হামলার অভিযোগ রয়েছে।

এই বছরের শুরুতে ইরানের দুইটি শহরে বোমা হামলায় প্রায় ১০০ জন নিহত হয়। এসব হামলায় আইএসআইএস-কে-এর হাত রয়েছে, এমন প্রমাণ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে।

২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে কাবুলের রুশ দূতাবাসে একটি আত্মঘাতী বোমা হামলায় ৬ জন নিহত হয়। আইএসআইএস-কে এই হামলার দায়িত্ব স্বীকার করে।

২০২১ সালে আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ও বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার সময় কাবুলের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি আত্মঘাতী বোমা হামলা হয়েছিল। এতে যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ সেনা ও প্রায় ১৭০ জন নিহত হয়। তখন আইএসআইএস-কে এই হামলার দায় স্বীকার করে।

এই মাসের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর এক জেনারেল আইএসআইএস-কে নিয়ে একটি সতর্কতা দেন। সেখানে তিনি জানিয়েছিলেন, গোষ্ঠীটি ‘ছয় মাসের মধ্যে এবং খুব অল্প বা কোনও সতর্কতা ছাড়াই’ আফগানিস্তানের বাইরে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা স্বার্থে আক্রমণ করতে পারে।

রাশিয়ায় কেন হামলা

শুক্রবার রাশিয়ায় আইএসআইএস-কে-এর হামলাটি নতুন করে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই গোষ্ঠীটি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরোধিতা করেছে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সৌফান সেন্টারের কলিন ক্লার্ক বলেন, “গত দুই বছর ধরে আইএসআইএস-কে রাশিয়ার প্রতি মনোযোগী। পুতিনের সমালোচনা করে প্রায়ই তারা প্রচারণা চালায়।”

আর ওয়াশিংটনভিত্তিক উইলসন সেন্টারের মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, “আইএসআইএস-কে রাশিয়াকে নিয়মিতভাবে মুসলিমদের নিপীড়নকারী কার্যকলাপে জড়িত বলে মনে করে।”

টাইমস অব ইন্ডিয়া বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে পুতিনের সামরিক হস্তক্ষেপও রাশিয়ায় আইএসআইএস-কের হামলার সম্ভাব্য কারণ হতে পারে। বিশেষ করে সিরিয়ায় বাশার আল আসাদের পক্ষে পুতিনের অভিযান পরিচালনাকে উল্লেখযোগ্য কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সিরিয়ায় আইএসআইএস-কে ও অন্য সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো রুশ বিমান হামলায় ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছিল।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist