Beta
রবিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৪

প্রবৃদ্ধির হার এবার কমলেও বাড়বে আগামী বার, আভাস বিশ্ব ব্যাংকের

ঢাকায় ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে বিশ্ব ব্যাংকের কর্মকর্তারা।
ঢাকায় ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে বিশ্ব ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি কমলেও আগামী বার বাড়তে পারে। এমন আভাস দিয়েছে বিশ্ব ব্যাংক।

মঙ্গলবার ঢাকার আগারগাঁওয়ে সংস্থার ঢাকা কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত ‌‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই আভাস আসে।

বিশ্ব ব্যাংক বলছে, চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৫ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে।

সংস্থাটির হিসাবে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৫ দশমিক ৮ শতাংশ; ২০২১-২২ অর্থবছরে অঙ্কটি ছিল ৭ দশমিক ১ শতাংশ।

অর্থাৎ তাদের হিসাবে ২০২১-২২ অর্থবছরের পর টানা দুই অর্থবছর দেশের প্রবৃদ্ধির হার কমছে।

সরকার চলতি অর্থবছরের বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরেছিল ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। তখনই অর্থনীতিবিদরা একে উচ্চাভিলাষী বলেছিলেন। সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে তা ৬ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার একটি আলোচনা চলছে।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক-এডিবি আভাস দিচ্ছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৬ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে।

বিশ্ব ব্যাংকের আভাস সরকার ও এডিবির চেয়ে কম হলেও আগামী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার কিছুটা বেড়ে ৫ দশমিক ৭ শতাংশে উন্নীত হতে পারে।

দক্ষিণ এশিয়ায় সামগ্রিকভাবে এবার ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন হবে বলে ধারণা দিয়েছে বিশ্ব ব্যাংক। 

আর দেশের হিসাবে শীর্ষে থাকছে ভারত। তার পরই বাংলাদেশের অবস্থান।

সংস্থাটি জানায়, চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছর শেষে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে ভারত। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বাংলাদেশের পরে থাকছে ভুটান (৪.৯ শতাংশ), মালদ্বীপ (৪.৭ শতাংশ), নেপাল (৩ দশমিক ৩ শতাংশ), শ্রীলঙ্কা (২ দশমিক ২ শতাংশ) এবং পাকিস্তান (১ দশমিক ৮ শতাংশ)।

বিশ্ব ব্যাংকের হিসাবে ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ। যেখানে ভারতের ছিল ৭ শতাংশ। ভুটানের ছিল ৪ দশমিক ৬ শতাংশ।

প্রতিবেদন প্রকাশের সময় বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে মতামত তুলে ধরে বিশ্ব ব্যাংক।

সংস্থাটি বলেছে, কোভিড-১৯ মহামারি থেকে প্রত্যাবর্তনে বাংলাদেশের অর্থনীতির শক্তিমত্তার পরিচয় দিয়েছে। কিন্তু উচ্চ মূল্যস্ফীতি, লেনদেন ভারসাম্যে ধারাবাহিক ঘাটতি, আর্থিক খাতের দুর্বলতা ও বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে মহামারি পরবর্তী পুনরুদ্ধার ব্যাহত হচ্ছে।

ধারাবাহিক উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে; সেই সঙ্গে তারল্যের রাশ টেনে ধরা, ক্রমবর্ধমান সুদের হার, আমদানি বিধিনিষেধ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিজনিত কারণে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ব্যাহত হয়েছে বলে সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ।

বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে এই ষান্মাসিক প্রতিবেদনে বিশ্ব সংস্থাটি সুপারিশ করেছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে আর্থিক সংস্কার ও মুদ্রার একক বিনিময় হার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা জরুরি।

অর্থনীতির বৈচিত্র্য এবং অর্থনীতির মধ্যম ও দীর্ঘ মেয়াদে স্বাভাবিক অবস্থায় প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা বৃদ্ধিতে কাঠামোগত সংস্কারও গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে তারা।

ব্যাংক একীভূত করার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা করার সুপারিশ করেছে বিশ্ব ব্যাংক। এছাড়া স্মার্ট সুদহার করিডোর চালু করার পর থেকে ব্যাংকের সুদহার ক্রমাগত বাড়ছে, যা বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করছে সংস্থাটি।

সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ব ব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান অঞ্চলের প্রধান আব্দুল্লায়ে সেক বলেন, “সুদের হার বৃদ্ধি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মুদ্রানীতির এই ভঙ্গি সহায়ক ভূমিকা রাখবে।”

তবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশে বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি মন্থর হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist