Beta
সোমবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৪

‘ইমোজি’ কি পাল্টে দিচ্ছে ভাষা

pexels-pixabay-207983

যেকোনও ডিভাইস দিয়ে টেক্সট ভিত্তিক যোগাযোগ ‘ইমোজি’ ছাড়া চিন্তাই করা যায় না। চ্যাট মানেই ইমোজির ব্যবহার। তা হোক মেসেঞ্জার, হোয়াটস অ্যাপ কিংবা ইন্সটাগ্রামে। যোগাযোগে ঠিকঠাক আবেগ প্রকাশ করতে টেক্সট, এমনকি ভাষাকেও ছাপিয়ে যাচ্ছে ইমোজি। হয়ে উঠছে ডিজিটাল লাইফস্টাইলের বিকল্প ভাষা। 

একজন ব্যক্তির স্মার্টনেস এবং আকর্ষণীয়তা কতোটা তার নির্ধারক হয়ে উঠছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সঠিক ইমোজির ব্যবহার।    

সময়ের সাথে সাথে বিকশিত হচ্ছে ইমোজি। আবেগের প্রকাশ আরও যথাযথ করে তুলতে অ্যান্ড্রয়েডের কি-বোর্ড অ্যাপ্লিকেশনে যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন ইমোজি। 

মজার ব্যাপার হলো, ২০১৫ সালে আনন্দে কেঁদে ফেলার ইমোজিটিকে অফিসিয়াল অক্সফোর্ড ডিকশনারি বছরের সেরা শব্দ হিসেবে ঘোষণা দেয়।

অনেকে মনে করেন ইমোজি কেবল ‘মিলেনিয়াল’ এবং ‘জেন-জি’দের ভাষা। অর্থাৎ যাদের জন্ম ১৯৮০- এর পরে এটা কেবল তাদের ভাষা। আজকাল অনলাইনভিত্তিক কর্পোরেট মিটিং কিংবা গ্রুপ চ্যাটেও অনায়াসেই ঠাঁই করে নিয়েছে ইমোজি। 

অনলাইন পোর্টাল টেকটার্গেট জানাচ্ছে, হোয়াইট হাউজও নাকি তাদের এক প্রতিবেদনে ব্যবহার করেছে ইমোজি। সেটি ছিল মিলেনিয়ালদের ওপর করা অর্থনীতি বিষয়ক একটি রিপোর্ট।

কিন্তু কী এই ইমোজি ?

‘ইমোজি’ জাপানি শব্দ। জাপানি শব্দ ‘ই’ মানে ‘পিকচার’ বা ছবি আর ‘মজি’ মানে ‘ক্যারেকটার’ বা চরিত্র। এই দুইয়ে মিলে ইমোজি।  

ইমোজি হল কতগুলো ডিজিটাল প্রতীকি ছবি। যেগুলো কিনা আবেগ- অনুভূতি, এমনকি কোন কোন বস্তুরও প্রতীকি রূপ।

লেখার সময় কেবল শব্দ আর বাক্যে তো আমাদের সমস্ত অনুভূতি প্রকাশ করা যায়না। তাই শব্দ যেখানে আটকে যায়, সেখানেই মানুষ দ্বারস্থ হয় এইসব ইমোজির কাছে। 

আমরা যখন কারও সাথে কথা বলি, তখন শব্দ আর বাক্যেরই পাশাপাশি আদান-প্রদান ঘটে অভিব্যক্তিরও। 

ফেইসবুকের স্ট্যাটাস, মেসেঞ্জার কিংবা হোয়াটস অ্যাপের চ্যাটে ইমোজির ব্যবহার আমাদের আলাপচারিতাকে দেয় অভিব্যক্তি।

অর্থাৎ, ইমোজি হলো অভিব্যক্তির বিকল্প।

ইমোজির ইতিহাস

কে প্রথম ইমোজি নকশা করেছিলেন? এই প্রশ্নের সন্ধান করতে গিয়ে পাওয়া গেল- ইন্টারফেস ডিজাইনার শিগেতাকা কুরিতার নাম। জানা যায়, তিনিই ১৯৯৯ প্রথম কিছু ইমোজির নকশা করেন। জাপানি মোবাইল অপারেটর ‘এনটিটি ডকোমো’র অনলাইন প্ল্যাটফর্ম আই মোডের জন্য কিছু ইমোজির নকশা করেছিলেন তিনি। শিগেতাকা নকশা করেছিলেন মোট ১৭৬টি ইমোজি। 

পরে এই ইমোজিগুলো পায় বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা। 

বর্তমানে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ইউনিকোড কনসোর্টিয়াম ইমোজির আধুনিকায়ন ও বিকাশে কাজ করে যাচ্ছে। ইউনিকোড কনসোর্টিয়াম একটি অলাভজনক সফটওয়্যার ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান।

প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে লিঙ্গ বৈচিত্র্যের ইমোজি নিয়েও কাজ করছে। যা কিনা অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তুলছে। 

তবে সম্প্রতি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়েছে ইমোজির আরও বিকশিত রূপ- ‘বিটমোজি’। 

‘বিটমোজি’ হলো কাস্টোমাইজড ইমোজি। কেউ যদি ইমোজিতে নিজের ক্যারেকটার নিয়ে আসতে চায়, তবে তার জন্য দরকার হবে ‘বিটমোজি’। ‘বিটমোজি’কে অ্যাভাটারও বলা হয়। 

মিডিয়া এবং টেকনোলজি ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বিটসট্রিপস সর্ব প্রথম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘বিটমোজি’ নিয়ে আসে। ২০১৬ সালে এই প্রতিষ্ঠানটিকে কিনে নেয় স্ন্যাপচাট।      

ইমোজি ব্যবহারকারীর যত মনস্তত্ব

ইমোজি ব্যবহারকারিরা অনেক বেশি অমায়িক এবং সহানুভূতিশীল হয়। এমন তথ্য দিচ্ছে গবেষণা প্রবন্ধ ‘অ্যান এক্সপ্লোরেশন অব সাইকোলজিকাল ফ্যাক্টরসঅন ইমোটিকন ইউজেস অ্যান্ড ইম্পলিকেশন্স ফর জাজমেন্ট অ্যাকুরেসি’। ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক গবেষনা পোর্টাল এলসেভিয়েরে এই প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। 

একই গবেষণা আরও দাবি করছে, ইমোজি ব্যবহারকারীরা সাধারণত বেশ মিশুক প্রকৃতির হয় এবং তাদের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতাও থাকে অনেক বেশি।

পরিসংখ্যানে ইমোজি 

  • ডিজিটাল কনজ্যুমার ইন্টিলিজেন্স প্ল্যাটফর্ম ‘ব্র্যান্ডওয়াচ’ জানাচ্ছে, বিশ্বে প্রতিদিন ব্যবহার করা হচ্ছে ১০ বিলিয়ন ইমোজি।
  • ওয়ার্ল্ডইমোজিডে ডট কম সূত্রে জানিয়েছে, প্রতিদিন শুধু ফেইসবুক মেসেঞ্জারেই ৯০০ মিলিয়ন টেক্সটবিহীন ইমোজি আদান-প্রদান করা হয়।
     
  • ইউনিকোড ভার্সন ১৫.১ অনুযায়ী মোট ইমোজির সংখ্যা ৩৭৮২।
  • ইমোজি দিয়ে কোন পণ্যের বিজ্ঞাপন দেওয়া হলে ৪৪ শতাংশ গ্রাহক তা ক্রয় করেন।
  • তবে নেটহান্ট ডটকমের দাবি, ভোক্তা যদি শুধুই পুরুষ হয়, সেক্ষেত্রে ইমোজির ব্যবহার ইতিবাচক প্রভাব ফেলেনা।
     
  • ডুফাইন্ডার ডট কমে প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা গেছে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ইমোজি হলো ‘লাফিং ফেইস’; তারপর ‘হার্ট’ এবং তিন নম্বরে আছে ‘ রোলিং অন দ্য ফ্লোর লাফিং’ ইমোজি। 
  • এমআইটি নিউজ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, কোনও ইমেইজ শনাক্ত করতে মানব মস্তিষ্ক সময় নেয় মাত্র ১৩ মিলিসেকেন্ড। ফলে যোগাযোগে ইমোজি বেশ কার্যকর টুল।  

হালাল ইমোজি কি আছে? 

আলাদা করে ‘হালাল’ ইমোজি বলে আদৌ কিছু আছে কি-না তা নিয়ে নিশ্চিত কিছু জানা যায়নি।

তবে দ্য হালাল টাইম ডটকমে প্রকাশিত এক প্রবন্ধ থেকে জানা যায়, ইমোজি ব্যবহার করা হালাল তখনই বিবেচিত হবে যখন সেগুলো ইসলামিক নীতি ও মূল্যবোধকে সম্মান করে কোন উত্তম উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে। 

হাফিজ এম আহমেদ এর লেখা ‘ইজ ইউজিং ইমোজিস হালাল?’ শিরোনামের ওই প্রবন্ধে লেখক উল্লেখ করেন, সুন্নাহর কল্যাণ ধারণার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এমন ইমোজিগুলো হালাল। যেগুলো প্রকাশ করে ইতিবাচক আবেগ সৌহার্দ্যপূর্ণ যোগাযোগ।  

লেখক আরও দাবি করেন, ইমোজি হালাল না হারাম হবে তা নির্ভর করবে সেগুলো ইসলামিক শিক্ষার পরিপন্থি কিনা তার ওপর।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist