Beta
রবিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৪

টেকনাফে ঘরে ঢুকে গুলি করে যুবককে হত্যা

মোহাম্মদ জুবায়ের
মোহাম্মদ জুবায়ের

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় ইফতারির প্রস্তুতির সময় ঘরে ঢুকে গুলি করে এক যুবককে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

শুক্রবার সন্ধ্যায় ইফতারের আগ মুহূর্তে উপজেলার সদর ইউনিয়নের নাজির পাড়ায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে জানিয়েছেন টেকনাফ থানার ওসি মুহাম্মদ ওসমান গনি।

নিহত মোহাম্মদ জুবায়ের (২২) নাজির পাড়ায় প্রয়াত আব্দুল খালেকের ছেলে। তিনি পেশায় দর্জি শ্রমিক ছিলেন।

ঘটনার পর দোকান থেকে মালামাল কেনা বাবদ পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে জুবায়েরকে হত্যার কথা প্রচার করা হয়।

তবে নিহতের স্বজনদের দাবি, তাদের জমি জবরদখলের চেষ্টা চালানো স্থানীয় ‘ভূমিদস্যু চক্রের হোতা’ টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এনামুল হক ওরফে এনাম মেম্বারের ইন্ধনে জুবায়েকে হত্যা করা হয়েছে।

স্বজন ও স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ওসি ওসমান গনি জানান, নাজির পাড়ার স্থানীয় মো. কায়েসের দোকান থেকে বাকিতে জুবায়ের কিছু মালামাল কিনেছিলেন। এ নিয়ে বুধবার তাদের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। পরে স্থানীয়ভাবে ওই বিরোধের মিমাংসাও হয়।

“নিহতের স্বজনরা জানিয়েছেন, ঘটনার ব্যাপারে দোকানি কায়েস তার মামা নজমুদ্দিনকে জানায়। শুক্রবার সন্ধ্যায় কোনও ধরনের উসকানি ছাড়াই নজমুদ্দিনের নেতৃত্বে কয়েকজন জুবায়েরের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা একপর্যায়ে জুবায়েরকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। এতে মাথায় গুলিবিদ্ধ হন জুবায়ের,” বলেন ওসি।

তিনি জানান, পরে গুলিবিদ্ধ জুবায়েরকে স্বজনরা টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় চিকিৎসক তাকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঠান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত ১১টার দিকে রামু উপজেলার চাবাগান এলাকায় জুবায়ের মারা যান।

নিহতের বড় ভাই আব্দুস সাত্তার বলেন, বাকিতে মালামাল ক্রয় বাবদ জুবায়েরের কাছ ৫০০ টাকার কিছু বেশি পাওনা ছিল স্থানীয় দোকানি কায়েসের। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হলেও পরে স্থানীয়ভাবে তার মিমাংসাও হয়। পরে দোকানি কায়েস বিষয়টি তার মামা নজমুদ্দিনকে জানায়।

তিনি বলেন, “শুক্রবার সন্ধ্যায় জুবায়ের বাড়িতে খাবার সামগ্রী নিয়ে ইফতারের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য এনামুল হক ওরফে এনাম মেম্বারের ইন্ধনে নজমুদ্দিন ও তার ভাই ফিরোজের নেতৃত্বে ৮/১০ জন আমাদের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা একপর্যায়ে জুবায়েরকে লক্ষ্য করে পর পর দুটি গুলি ছোড়ে। এতে সে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়।”

সাত্তার অভিযোগ করেন, “দীর্ঘদিন ধরে তাদের কিছু জমি জবরদখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে ইউপি সদস্য এনামুল হকের নেতৃত্বে প্রভাবশালী একটি চক্র। মূলত সেটাকে আড়াল করতে চক্রটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে পাওনা টাকার বিরোধ বলে বিভিন্ন মহলে প্রচারে নেমেছে।”

নিহতের প্রতিবেশী রবিউল আলম বলেন, ইউপি সদস্য এনামুল হকের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র সক্রিয় রয়েছে। চক্রটির সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় জমি জবরদখল, মাদকপাচার ও সাগরে দস্যুতাসহ নানা অপরাধে জড়িত। এলাকার সাধারণ মানুষ তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে ভয় পায়।

কেউ বিরুদ্ধাচরণ করলে মিথ্যা মামলাসহ নানাভাবে হয়রানি শিকার হওয়ার পাশাপাশি প্রাণ হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে হয় বলেও অভিযোগ স্থানীয় এই বাসিন্দার।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এনামুল হকের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলে তিনি সাড়া দেননি। পরে এসএমএস পাঠিয়েও তার কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি।

ওসি ওসমান গনি জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের পাশাপাশি জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত

Add New Playlist